Published On: Tue, May 1st, 2018

মেয়র পদপ্রার্থী ও ভোটার এক মঞ্চে মুখোমুখি

গাজীপুর নগরকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার করলেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র পদপ্রার্থীরা। তাঁরা গতকাল সোমবার এক মঞ্চে জনগণের মুখোমুখি হন এবং এলাকার উন্নয়নে নিজেদের পরিকল্পনা জানান। উপস্থিত ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন তাঁরা। তাঁরা অঙ্গীকার করেন, নির্বাচনে টাকার প্রভাব খাটাবেন না, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেবেন না, ভোট কিনবেন না এবং আচরণবিধি মেনে চলবেন। নির্বাচিত হলে কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত, কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলারও অঙ্গীকার করেন তাঁরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) উদ্যোগে শহরের জয়দেবপুর কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজনের গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম রাজিব।

সুজন জানায়, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণমুখী প্রার্থী নির্বাচনের লক্ষ্যে আয়োজনটি করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেয়র পদপ্রার্থীরা ভোটারদের উপস্থিতিতে অঙ্গীকার ও স্বাক্ষর করেন।

সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় সাত মেয়র পদপ্রার্থী যথাক্রমে আওয়ামী লীগের মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমীন, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ফজলুর রহমান, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমেদ এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৩ দফা অঙ্গীকারনামা দর্শকদের সামনে পড়ে শোনান সুজনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মুর্শিদকুলী আহমদ শিমুল। পরে প্রার্থীরা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সুজনের জেলা সম্পাদক মো. রুহুল আমিন সজীব। এরপর প্রার্থীরা জনতার প্রশ্নের সরাসরি জাবাব দেন। প্রতি প্রার্থীকে তিনটি করে প্রশ্ন করা হয় জনতার মধ্য থেকে। তাঁরা ওই সব প্রশ্নের জবাব দেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রথম জনতার মুখোমুখি হন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, চীন ও জাপানের সহায়তায় গাজীপুর সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তিনি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছেন। নির্বাচিত হলে সরকারের সহায়তায় ওই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করবেন। সিটির অভ্যন্তরে পাঁচটি অর্থনৈতিক জোন করে কর্মসংস্থান এবং শ্রমিকদের

বাসস্থানের জন্য আটটি জোন করবেন। ফুটপাত ও সুষ্ঠু ড্রেন নির্মাণ করে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন করবেন। তিনি আরো বলেন, ‘গাজীপুর সিটিকে একটি ডায়নামিক মডেল শহর গড়তে সবার সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। আমি এ জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সহযোগিতা কামনা করি।’

জনতার প্রশ্নের জবারে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, গাজীপুর একটি শিল্পসমৃদ্ধ শ্রমিক এলাকা। এখানে সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ, ফুটপাত, জলাবদ্ধতা, গ্যাস ও বিদ্যুত্সংকট রয়েছে। রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা। এসব সমস্যা দূর করতে তিনি বিশেষ প্ল্যান তৈরি করছেন। তিনি অতীতে টঙ্গী পৌরসভার মেয়র ছিলেন। তাই অভিজ্ঞতার আলোকে স্থানীয় কাউন্সিলর, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি করে এসব সমস্যা দূর করবেন। তিনি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সুচিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল তৈরি করবেন। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করবেন। নিজে দুর্নীতি করবেন না, কাউকে করতেও দেবেন না। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত এবং নগরবাসীর জন্য তথ্য-প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবার ব্যবস্থা করবেন।

ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী ফজলুর রহমান ভোটারের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিজয়ী হলে তিনি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়বেন। দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করবেন। নির্বাচিত হলে বর্তমান শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষা সংযোজন করবেন।

জনতার প্রশ্নে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জয়ী হলে তিনি আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ এবং তথ্য-প্রযুক্তির নগরী গড়তে আইটি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেবেন। এ ছাড়া যুবসমাজকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একত্রে বসে কাজ করবেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে নগরীর গ্যাস সমস্যা সমাধানের উদ্যোগে নেবেন। মাদক উদ্ধারের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধের পদক্ষেপ নেবেন। জঙ্গিবাদ রুখবেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী কাজী মো. রুহুল আমীন বলেন, তিনি যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন আধুনিক শহর গড়ে তুলবেন। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ বলেন, যানজট নিরসন ও নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সিটি করপোরেশনের সব রাস্তা দ্বিগুণ প্রশস্ত ও পর্যাপ্ত নতুন রাস্তা তৈরি করবেন। তিনি দুর্নীতি করবেন না। হলফনামায় যে সম্পদ ঘোষণা করেছেন, নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণ শেষেও হলফনামার মাধ্যমে সম্পদের হিসাব নগরবাসীকে পেশ করে বিদায় নেবেন। দুই-তিন কাঠার বাড়ির মালিকদের ট্যাক্স মওকুফ করবেন।

Read also:

প্রতি রাতে এই ৩ কাজ করে পান নিখুঁত স্নিগ্ধ ফর্সা ত্বক!

অনেকের কাছে নিখুঁত সুন্দর ত্বক একধরণের স্বপ্নের মতোই মনে হয়। কিন্তু বেশ সহজেই ত্বকের যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। জানতে চান রহস্য? তাহলে জেনে নিন স্কিন এক্সপার্ট হুমায়রা আফসারির পরামর্শে। স্কিন এক্সপার্ট হুমায়রা জানান, ‘প্রতিরাতে যদি সামান্য একটু যত্ন নেয়া হয় তাহলে খুব সহজেই ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব। একটু সচেতনতাই ব্রণ, ত্বকের রুক্ষতা এবং অন্যান্য নানা সমস্যা দূরে রাখতে পারে। আমরা অনেক সময়ই অনেককে ত্বকের সমস্যার কারণে খুব সহজ ৩টি পরামর্শ দিয়ে থাকি এবং তাদের সকলেই এ কাজগুলো করে অনেক উপকৃত হয়েছেন বলেছেন’।

১) ত্বক পরিষ্কার করুন
রাতে বাসায় ফিরে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করে নেবেন। স্কিন এক্সপার্ট হুমায়রা জানান, ত্বকের নানা সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে অপরিষ্কার ত্বক। ত্বক যতো অপরিষ্কার থাকবে ততো সমস্যা বাড়তে থাকবে। তাই প্রতি রাতে বাসায় ফিরে অবশ্যই ভালো করে ত্বক পরিষ্কার করে নেবেন। প্রথমেই ভালো কোনো ফেসওয়াস দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিয়ে ত্বক স্ক্রাব করে উপরের ময়লা দূর করে নিন। এরপর একটি সাধারণ বা প্রাকৃতিক কোনো টোনার দিয়ে ত্বক আরও ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। কাঁচা দুধ খুব ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে। দুধ লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ত্বক ধুয়ে ফেললেই চলবে, বলে জানান হুমায়রা।

২) ফেস প্যাক
ফেস প্যাক মানে ভারী কোনো ফেস প্যাক নয়। প্রতিদিন রাতে ব্যবহারের জন্য দুধ মধুর হালকা ফেস প্যাকই যথেষ্ট। এতে ত্বকের কোমলতা ফিরে আসে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বজায় থাকে। যাদের ত্বক রুক্ষ তারা দুধ ও মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন, যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা লেবুর রস ও মধু ব্যবহার করতে পারেন আর যারা একটু উজ্জ্বলতা চান তারা হলুদ গুঁড়ো ও দুধ ব্যবহার করে প্যাক তৈরি করতে পারেন। মাত্র ২০ মিনিট ব্যবহার করেই ধুয়ে ফেললে ত্বকের যত্ন নেয়া শেষ।

৩) সঠিক খাবার
রাতের খাবারের কারণে অনেক সময় ত্বকের সমস্যা দেখা যায় বলে জানান হুমায়রা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘রাতের ভারী খাবার হজম না হওয়ার কারণে অনেকেরই ব্রণ সমস্যা দেখা দেয়’। তাই রাতে হালকা খাবার খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সেই সাথে পান করা উচিত অন্তত ২ গ্লাস পানি।
====================
অবশেষে দেখা মিলল ক্রিকেটার রুবেলের স্ত্রী’র

স্পোর্টস ডেস্কঃঅভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন পেসার রুবেল হোসেন। ২০১৪ সালর ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হ্যাপি বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। আর এই কারণে দুদিন কারাগারেও থাকতে হয়েছিল তাঁকে।পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান রুবেল। তাঁর অসাধারণ সাফল্যে সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দারুণ কিছু অর্জন ঘরে তোলে। বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে রুবেলের পারফরম্যান্স খুব একটা খারাপ ছিল না।

আলোচিত এই পেসার হঠাৎ করে ২০১৬ সালে অগোচরে হঠাৎ করে বিয়ে করেন। তবে কনে হ্যাপি নন, মিডিয়ার একেবারেই বাইরের একজনের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তিনি। অবশ্য সে সময় তাঁকে সামনে নিয়ে আসেননি।

দীর্ঘদিন পর হলেও নিজের স্ত্রীকে ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন রুবেল। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে নিজের দুটি ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে শুধু লিখেছেন, ‘আমার স্ত্রী’।

অবশ্য স্ত্রীর নাম প্রকাশ করেননি রুবেল। তবে শোনা যাচ্ছে, পারিবারিক পছন্দে এই বিয়ে হয়েছে বলে রুবেলের এক ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত
জাকির হোসেন পিংকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: ‘উন্নয়ন আর আইনের শাসনে এগিয়ে চলছে দেশ, লিগ্যাল এইডের সুফল পাচ্ছে সারা বাংলাদেশ’ এই শ্লোগাণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে আজ শনিবার জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে সকালে জেলা জজ আদালত ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

র‌্যালীতে অংশ নেন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি চেয়ারম্যান এবং জলা ও দায়রা জজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ লিয়াকত আলী মোল্লা, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মোজাহিদুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আনোয়ারুল হক, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এরশাদ হোসেন, সিভিল সার্জন খায়রুল আতাতুর্ক, লিগ্যাল এইড অফিসার নাজমুল হোসেন জেলা আইনজীবী সমিতি সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হোসেন, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জবদুল হক, অন্যান্য বিচারকগণ, আইনজীবীসহ বিচার বিভাগ সংশ্লিস্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। পরে, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>