Published On: Tue, May 1st, 2018

কোটা সংস্কার আন্দোলনে তাঁরাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে চেয়ারে বসে বসে মানিব্যাগ ঘাঁটছিল এক কিশোর। পোশাক-আশাকে নিম্নবিত্ত। মানিব্যাগ থেকে কয়েকটি ভিজিটিং কার্ড নিচে পড়ে যায়। সেগুলো সরকারের মন্ত্রী ও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। একজন ছাত্রী পাশ থেকে বিষয়টি খেয়াল করে তাঁর বন্ধুদের বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা ছেলেটিকে ধরে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা প্রক্টরিয়াল বডির কাছে। তার নাম আবু সাইদ ফজলে রাব্বী ওরফে সিয়াম। পরে তাকে পুলিশে খবর দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র।

একই সূত্র জানায়, আবু সাঈদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শরবত বিক্রি করে। এর আগে সে এফ রহমান হলের ক্যানটিনেও কাজ করত। ৮ এপ্রিল রাতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনটি সহিংস হয়ে উঠলে সাঈদ বিক্ষোভে অংশ নেয়। একপর্যায়ে সে উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ভাঙচুরও চালায়। উপাচার্যের বাসার দোতলা থেকে সাঈদ একটি মানিব্যাগ ও একটি মুঠোফোন নিয়ে আসে।

উপাচার্যের বাসভবনে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে গত রোববার সাইদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রগুলো জানায়, বাকি তিনজনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনো তথ্য নেই। গোয়েন্দারা তদন্ত করে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে। এই তিনজন হলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মাসুদ আলম (২৫), গাড়িচালক আলী হোসেন শেখ (২৮) ও রাকিবুল হাসান (২৬)। এঁদের মধ্যে রাকিবুল লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক উপসম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর ও বরিশালে পাঁচটি মামলা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, প্রযুক্তিগত তদন্তের সূত্র ধরে গাড়িচালক আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলী হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় ভাড়ার গাড়ি চালান। তাঁর কাছে থাকা মুঠোফোনটা কোথায় পেলেন জানতে চান কর্মকর্তারা। আলী হোসেন জানান, আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মাসুদ আলমের কাছ থেকে এক হাজার টাকায় তিনি ফোনটি কিনেছেন। এরপর পুলিশ মাসুদকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আলিয়া মাদ্রাসার ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন, যদিও তিনি থাকেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ভাইয়ের কাছে। মাসুদকে গ্রেপ্তারের পরে জানা যায়, তিনি ফোনটি রাকিবুলের কাছ থেকে পেয়েছেন। রাকিবুল থাকেন আলিয়া মাদ্রাসার হোস্টেলে, তিনি মিটফোর্ড এলাকায় একটি ওষুধের দোকানের কর্মচারী বলেই সবাই জানে। এরপর পুলিশ রাকিবুলকে ধরার পড়েই অনেক কিছু জানা যায়।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাকিবুল ওই দিন উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুরেও অংশ নেন। সেখান থেকে একটি মুঠোফোন তিনি চুরি করে মাসুদকে দেন।

পুলিশ জানায়, রাকিবুল সম্পর্কে খোঁজ খবর করতে গিয়ে জানা গেল, তিনি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক উপসম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর ও বরিশালে পাঁচটি মামলা রয়েছে।

প্রথম আলোর লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি কথা বলেছেন রায়পুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার সঙ্গে। ওই নেতা জানিয়েছেন, রায়পুর পৌর ছাত্রলীগের সোহরাব-মাহিদুর কমিটির সময় উপসম্পাদক ছিলেন রাকিবুল। তবে তিনি অল্প বয়সেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এ পর্যন্ত তিনি ১০-১৫ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরি, ইয়াবা বিক্রি, স্থানীয় মাতৃছায়া হাসপাতালে ঢুকে সেবিকার শ্লীলতাহানির চেষ্টাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়ভাবে। রায়পুরে তাঁদের বাড়িটির নাম জিনের মসজিদ বাড়ি। পরে রায়পুর থেকে ঢাকায় চলে আসেন রাকিবুল। এরপর আর রাকিবুলের অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা কোনো খোঁজ রাখেননি।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মাসুদ আলমও নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি উত্তর বাড্ডা ছাত্রলীগের সদস্য বলে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন। সে তথ্য যাচাই করা যায়নি।

যদিও বিষয়টি নিয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে বিষয়টি নিয়ে কিছু বলা যাবে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রাকিবুলের চার দিন, আলী হোসেনের তিন দিন এবং মাসুদ ও আবু সাইদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তো এদের নিয়ে আন্দোলন করি নাই। এরা কীভাবে এখানে এল? আমরা আগের কথাটাই বলতে চাই, আমাদের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ছিলেন, তাঁরা উপাচার্যের বাসায় হামলা চালাননি।’

Read also:

প্রতি রাতে এই ৩ কাজ করে পান নিখুঁত স্নিগ্ধ ফর্সা ত্বক!

অনেকের কাছে নিখুঁত সুন্দর ত্বক একধরণের স্বপ্নের মতোই মনে হয়। কিন্তু বেশ সহজেই ত্বকের যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। জানতে চান রহস্য? তাহলে জেনে নিন স্কিন এক্সপার্ট হুমায়রা আফসারির পরামর্শে। স্কিন এক্সপার্ট হুমায়রা জানান, ‘প্রতিরাতে যদি সামান্য একটু যত্ন নেয়া হয় তাহলে খুব সহজেই ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব। একটু সচেতনতাই ব্রণ, ত্বকের রুক্ষতা এবং অন্যান্য নানা সমস্যা দূরে রাখতে পারে। আমরা অনেক সময়ই অনেককে ত্বকের সমস্যার কারণে খুব সহজ ৩টি পরামর্শ দিয়ে থাকি এবং তাদের সকলেই এ কাজগুলো করে অনেক উপকৃত হয়েছেন বলেছেন’।

১) ত্বক পরিষ্কার করুন
রাতে বাসায় ফিরে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করে নেবেন। স্কিন এক্সপার্ট হুমায়রা জানান, ত্বকের নানা সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে অপরিষ্কার ত্বক। ত্বক যতো অপরিষ্কার থাকবে ততো সমস্যা বাড়তে থাকবে। তাই প্রতি রাতে বাসায় ফিরে অবশ্যই ভালো করে ত্বক পরিষ্কার করে নেবেন। প্রথমেই ভালো কোনো ফেসওয়াস দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিয়ে ত্বক স্ক্রাব করে উপরের ময়লা দূর করে নিন। এরপর একটি সাধারণ বা প্রাকৃতিক কোনো টোনার দিয়ে ত্বক আরও ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। কাঁচা দুধ খুব ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে। দুধ লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ত্বক ধুয়ে ফেললেই চলবে, বলে জানান হুমায়রা।

২) ফেস প্যাক
ফেস প্যাক মানে ভারী কোনো ফেস প্যাক নয়। প্রতিদিন রাতে ব্যবহারের জন্য দুধ মধুর হালকা ফেস প্যাকই যথেষ্ট। এতে ত্বকের কোমলতা ফিরে আসে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বজায় থাকে। যাদের ত্বক রুক্ষ তারা দুধ ও মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন, যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা লেবুর রস ও মধু ব্যবহার করতে পারেন আর যারা একটু উজ্জ্বলতা চান তারা হলুদ গুঁড়ো ও দুধ ব্যবহার করে প্যাক তৈরি করতে পারেন। মাত্র ২০ মিনিট ব্যবহার করেই ধুয়ে ফেললে ত্বকের যত্ন নেয়া শেষ।

৩) সঠিক খাবার
রাতের খাবারের কারণে অনেক সময় ত্বকের সমস্যা দেখা যায় বলে জানান হুমায়রা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘রাতের ভারী খাবার হজম না হওয়ার কারণে অনেকেরই ব্রণ সমস্যা দেখা দেয়’। তাই রাতে হালকা খাবার খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সেই সাথে পান করা উচিত অন্তত ২ গ্লাস পানি।
====================
অবশেষে দেখা মিলল ক্রিকেটার রুবেলের স্ত্রী’র

স্পোর্টস ডেস্কঃঅভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন পেসার রুবেল হোসেন। ২০১৪ সালর ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হ্যাপি বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। আর এই কারণে দুদিন কারাগারেও থাকতে হয়েছিল তাঁকে।পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান রুবেল। তাঁর অসাধারণ সাফল্যে সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দারুণ কিছু অর্জন ঘরে তোলে। বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে রুবেলের পারফরম্যান্স খুব একটা খারাপ ছিল না।

আলোচিত এই পেসার হঠাৎ করে ২০১৬ সালে অগোচরে হঠাৎ করে বিয়ে করেন। তবে কনে হ্যাপি নন, মিডিয়ার একেবারেই বাইরের একজনের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তিনি। অবশ্য সে সময় তাঁকে সামনে নিয়ে আসেননি।

দীর্ঘদিন পর হলেও নিজের স্ত্রীকে ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন রুবেল। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে নিজের দুটি ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে শুধু লিখেছেন, ‘আমার স্ত্রী’।

অবশ্য স্ত্রীর নাম প্রকাশ করেননি রুবেল। তবে শোনা যাচ্ছে, পারিবারিক পছন্দে এই বিয়ে হয়েছে বলে রুবেলের এক ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত
জাকির হোসেন পিংকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: ‘উন্নয়ন আর আইনের শাসনে এগিয়ে চলছে দেশ, লিগ্যাল এইডের সুফল পাচ্ছে সারা বাংলাদেশ’ এই শ্লোগাণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে আজ শনিবার জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে সকালে জেলা জজ আদালত ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

র‌্যালীতে অংশ নেন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি চেয়ারম্যান এবং জলা ও দায়রা জজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ লিয়াকত আলী মোল্লা, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মোজাহিদুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আনোয়ারুল হক, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এরশাদ হোসেন, সিভিল সার্জন খায়রুল আতাতুর্ক, লিগ্যাল এইড অফিসার নাজমুল হোসেন জেলা আইনজীবী সমিতি সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হোসেন, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জবদুল হক, অন্যান্য বিচারকগণ, আইনজীবীসহ বিচার বিভাগ সংশ্লিস্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। পরে, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>