Published On: Tue, May 1st, 2018

চা বা কফি খাওয়ার আগে পানি না খেলেই বিপদ !

বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে যারা চা পানের আগে পানি খান না, তাদের শারীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে একাধিক রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এমনকী বেশ কিছু জটিল রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পায়। তাই তো চায় পানের আগে পানি না খেলে বিপদ। আসলে পানি না খেয়ে চা বা কফি পান করলে শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে শুরু করে। ফলে গ্যাস-অম্বল, বদ-হজম সহ একাধিক পেটের সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, আলসারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই সাবধান! তবে এখানেই শেষ নয়, চা বা কফির মতো পানীয় খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি না খেলে দেখা দেয় আরও বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা। যেমন ধরুন…

স্টামাক আলসারের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ে: যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে চা বা কফির মতো পানীয় খাওয়ার আগে যদি জল খেয়ে পেটকে ঠান্ডা করা না হয়, তাহলে শরীরের অন্দরে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাবে স্টামাক আলসারের মতো রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। আর এমন রোগে আক্রান্ত হলে দৈনন্দিন জীবন যে অনেকাংশেই ব্যাহত হয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

হজম ক্ষমতার মারাত্মক ক্ষতি হয়: খাবার খাওয়ার পর পরই স্টমাক থেকে অ্যাসিডের ক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। এই অ্যাসিড, খাবার যাতে ঠিক মতো হজম হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। বারে বারে চা খাওয়া শুরু করলে কোনও কারণ ছাড়াই স্টমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে এক সময়ে গিয়ে হজমে সহায়ক এই অ্যাসিডের ক্ষমতা এতটাই কমে যায় যে কথায় কথায় বদ-হজম হওয়ার মতো শারীরিক অসুবিধা হতে শুরু করে। তবে কেউ যদি পানি খাওয়ার পর চা পান করেন, তাহলে ক্ষতির মাত্রা কম হয়। সেই সঙ্গে কমে বদ-হজমের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

দেহের অন্দরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়: চা এবং কফিতে ক্যাফিনের মাত্রা খুব বেশি থাকে। আর ক্যাফিনে এমন একটি উপাদান থাকে যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্রা ইউরিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে চা বা কফি পান করলেই বারে বারে প্রস্রাব চাপতে শুরু করে। আর তত শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। শরীর থেকে বেশি মাত্রায় পানি বেরিয়ে গলে একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। সেই কারণেই তো চা খাওয়ার আগে মনে করে এক গ্লাস পানি খাওয়া পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে চা বা কফির মতো পানীয় খালি পেটে খেলে শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাব ত্বকের উপরও পরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সৌন্দর্য কমতে শুরু করে। কিন্তু এই ধরনের পানীয় খাওয়ার আগে যদি অল্প করে পানি খেয়ে নেওয়া যায়, তাহলে দেহের অন্দরে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা কমে। ফলে ত্বকের স্বাস্থ্য়ের অবনতি ঘটার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

দাঁতের ক্ষতি হয়: যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে, চা এবং কফি হল প্রকৃতিতে অ্যাসিডিক। ফলে এমন জিনিস বারে বারে খেলে শরীরের পাশাপাশি মুখ গহ্বরের অন্দরের অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে দাঁতের উপরিঅংশ অর্থাৎ এনামেলে ক্ষয় ধরে। আর এক সময়ে গিয়ে ক্ষয় এতটাই বেড়ে যায় যে দাঁতের চিহ্নই মুছে যায়। তখন আর কিছুই করার থাকে না। এক্ষেত্রে পানি পানের পর চা খেলে এই ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা চোখে পরার মতো কমে যায়। এবার বুঝতে পারছেন তো চা বা কপি খাওয়ার আগে পানি খাওয়ার পরামর্শ কেনও দেওয়া হয়ে থাকে।

শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়: চায়ের পি এইচ লেভেল হল “৬”। অর্থাৎ সহজ ভাষায় এই পানীয়টি হল অ্যাসিডিক। আর অ্যাসিডের ক্ষতি করার ক্ষমতা কমাতে পারে একমাত্র পানি। তাই তো পানি পানের পর চা খেতে বলা হয়। এমনটা করলে চায়ের অ্যাসিডিক এলিমেন্ট পানি মিশে যায়। ফলে শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আর কোনও আশঙ্কাই থাকে না। আর যদি পানি না খেয়ে চা খাওয়া হয়, তাহলে শরীরের অন্দরে হাইড্রোক্লরিক অ্যাসিডের মাত্রা খুব বেড়ে যায়। ফলে অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

এটি আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি। বের করে রাখুন আপনার জিভ, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলেছে আরাম। কিছুক্ষণের মধ্যে কমে যাবে আপনার অস্বস্তিকর সময়।

রোগ নিরাময়ে মুলার ভূমিকা, দারুন সব উপকারিতা

মুলার ঝাঁঝ ওয়ালা গন্ধের কারণে অনেকে নাক কুঁচকে ফেলেন। তাই আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ এই সবজিটি হতে পারে আপনার অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তির উপায়। সহজলভ্য এবং পর্যাপ্ততা থাকায় আপনিও অনায়াসে খেতে পারেন অসাধারণ উপকারী এই সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম মুলাতে প্রোটিন আছে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৪ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ০.০ আইইউ, ফ্যাট ০.১ গ্রাম, আঁশ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ১৫ মিলিগ্রাম। বাজারে পাওয়া সাদা ও লাল দুই ধরনের মুলাতে আছে সমান পুষ্টিগুণ। মজার বিষয় হল, মুলার চেয়ে এর পাতার গুণ অনেক বেশি। কচি মুলার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় এবং খুবই মজাদার।

পাতাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি পাওয়া যায়। খাবার উপযোগী ১০০ গ্রাম মুলাপাতায় আছে আমিষ ১.৭ গ্রাম, শ্বেতসার ২.৫ গ্রাম, চর্বি ১.০০ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫৭ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৪৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন ৯ হাজার ৭০০ মাইক্রোম ভিটামিন বি-১০.০০৪ মিলিগ্রাম, বি-২০.১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪০ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ১২০ মিলিগ্রাম।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>