Published On: Tue, May 1st, 2018

কিডনিতে পাথর হওয়া ঠেকাতে কার্যকর ১০টি খাবার দেখুন কাজে লাগবে …

আমাদের প্রায় সকলেই ইউরিক এসিডের কথা শুনেছি কিন্তু আমাদের খুব কম সংখ্যক মানুষই এর প্রকৃত অর্থ কী তা জানি। আপনার দেহের কোষগুলো প্রাকৃতিকভাবে ভেঙ্গে এবং আপনি যা খানে সে খাবার থেকেই উৎপাদিত হয় ইউরিক এসিড।বেশিরভাগ ইউরিক এসিড কিডনির মাধ্যমে ফিল্টার হয়ে এবং পেশাবের সঙ্গে আমাদের দেহ থেকে বের হয়ে যায়। পায়খানার সঙ্গেও সামান্য পরিমাণে ইউরিক এসিড আমাদের দেহ থেকে বের হয়ে যায়।

তবে, দেহে যদি অতিরিক্ত ইউরিক এসিড উৎপাদিত হয় এবং কিডনি যদি সেই অতিরিক্ত ইউরিক এসিডকে রক্ত থেকে বের করে দিতে না পারে তাহলে রক্তে এই এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে দেহের জয়েন্টগুলোতে কঠিন পদার্থ- ক্রিস্টাল বা স্ফটিক তৈরি হয়। যার ফলে জয়েন্টগুলোতে ব্যথা করে। আর একে বলা হয় গেঁটেবাত।

উচ্চ মাত্রায় ইউরিক এসিড উৎপাদিত হওয়ার ফলে কিডনিতে স্টোন বা পাথর এবং কিডনি ফেইলিওর বা বিকল হয়ে পড়তে পারে। যাদের দেহে উচ্চহারে ইউরিক এসিড উৎপাদিত হয় সেসব রোগীদের জন্য খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত প্রচুর বিশেষ ধরনের পরামর্শ আছে। তাদেরকে সাধারণত মদপান ও মিষ্টিজাতীয় খাদ্য কম খেতে বলা হয় এবং পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন, মাংস, পোল্ট্রি, সামুদ্রিক খাদ্য এবং ডালজাতীয় খাদ্য কম খেতে বলা হয়।

পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর পিউরিন হজম হয়ে ইউরিক এসিড তৈরি হয়। এখানে রইল এমন কিছু খাদ্যের তালিকা যেগুলো খেলে ইউরিক এসিড উৎপাদন কমবে এবং গেঁটেবাত ও কিডনি স্টোন থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

১. পানি
দেহ থেকে ট্রক্সিন সহ অতিরিক্ত ইউরিক এসিড বের করে দেয় পানি। এজন্য প্রতিদিন আপনাকে অন্তত ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে।

২. সবুজ শাকসবজি
সবুজ শাকসবজিতে থাকে ভিটামিন সি, যা আপনার দেহের এসিডিটি কমাতে সহায়ক এবং তা ইউরিক এসিডের মাত্রাও বাড়তে দেয় না। সুতরাং প্রতিদিন যত বেশি সম্ভব সবুজ শাকসবজি খেতে হবে।

৩. ফ্ল্যাক্সসীড বা শ্বেতবীজ
এই বীজ এবং এর তেলে আছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। যা স্ফীতি এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক।

৪. ফলমূল
আঙ্গুর, আনারস এবং চেরি ও বেরির মতো ফলে আছে প্রদাহরোধী উপাদান অ্যান্থোসায়ানিন। যা ইউরিক এসিডের মাত্রা কমাতে সহায়ক। এছাড়া ইউরিক এসিড থেকে ক্রিস্টাল উৎপন্ন হয়ে তা জয়েন্টে জমা হওয়াও প্রতিরোধ করে অ্যান্থোসায়ানিন।

৫. লেবু পানি
এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এতে আরো আছে সাইট্রিক এসিড যা ইউরিক এসিডের দ্রাবক। একগ্লাস পানিতে অর্ধেক লেবু চিপে রস বের করে তা পান করুন। প্রতিদিন দুই বার এভাবে লেবু পানি পান করুন। তাহলেই আপনার দেহে ইউরিক এসিড এর মাত্রা ঠিক থাকবে।

৬. আপেল সিডার ভিনেগার
অনেকেই এই উপাদানটি ব্যবহার করেন ওজন কমানোর ডায়েটে। কিন্তু খুব কম লোকেই জানেন এতে আছে বিস্ময়কর অ্যান্ট্রিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহরোধী উপাদান। যা দেহে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমিয়ে রাখতেও সহায়ক। আপেল সিডার ভিনেগার অযাচিত ইউরিক এসিড দেহ থেকে পুরোপুরি ভেঙ্গে ফেলতে এবং অপসারণ করতে সহায়ক। প্রতিদিন পানির সঙ্গে মিশিয়ে দুই থেকে তিনবার আপেল সিডার ভিনেগার পান করুন।

৭. গাজর, বিট এবং শসার জুস
গাজর জুস, বিট জুস এবং শসার জুস একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে রক্তে ইউরিক এসিডের উচ্চমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৮. স্বল্প চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য
স্বল্প চর্বিযুক্ত দুধ ও দই খেলে রক্তে ইউরিক এসিড উৎপাদন কমে আসে।

৯. উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার
উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার রক্তের প্রবাহ থেকে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড শুষে নেয় এবং কিডনির মাধ্যমে দেহ থেকে ইউরিক এসিড বের করে দিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। ওটস, ব্রোকোলি, বার্লি, শসা, শস্যদানা এবং গাজরে আঁশ থাকে প্রচুর। এছাড়া আপেল, পিয়ার্স, কমলা, স্ট্রবেরি এবং ব্লুবেরিও আঁশসমৃদ্ধ।

১০. গ্রিন টি
এই চা দেহকে বিষমুক্ত করতে বেশ কার্যকর। প্রতিদিন গ্রিন টি পান করলে দেহে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড উৎপাদনও কমবে। ফলে গেঁটে বাত এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও দূর হবে।-

Read also:

সাপের বিষ থেকে বাঁচাতে নারীকে ৭৫ মিনিট গোবর চাপা! অতঃপর…

প্রতিদিনের মতো রান্নার লাকড়ি কুড়াতে গিয়েছিলেন দেভেন্দ্রি। হঠাৎই ঝোপের আড়াল থেকে একটি সাপ এসে ছোবল দিলো তাকে। এরপর অদ্ভুতুড়ে গোবর চিকিৎসায় মারা গেলেন এই নারী। সাপের বিষ নামাতে তাকে ৭৫ মিনিট গোবরের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।

ঘটনাস্থল ভারতের উত্তরপ্রদেশের বুলেন্দশাহর এলাকার ঘটনা এটি। ৩৫ বছর বয়সী গৃহবধূ দেভেন্দ্রি আচমকা সাপের কামড় খেয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। দৌঁড়ে যান স্বামীর কাছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন ওষুধ দেয়া হয় তাকে। কিন্তু তাতে আস্থা না পেয়ে ডাকা হলো এলাকার নাম করা ওঝা মুরারেকে। মুরারে এসে দিলেন বিচিত্র এক চিকিৎসা। গোবর দিয়ে চাপা দিলেন দেভেন্দ্রিকে। এমনকি শ্বাস নেয়ার ব্যবস্থাও রাখলেন না। পাশে বসে পড়তে থাকতে যত তন্ত্র-মন্ত্র।

এভাবে ৭৫ মিনিট থাকার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন দেভেন্দ্রি। পাড়া-প্রতিবেশির ভাষ্য, তারা চিৎকার-চেচামেচি শুনে এসে দেখেন দেভেন্দ্রিকে গোবর চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। মুরারে নামকরা ওঝা, তাই সবাই চুপচাপ দেখছিলেন কী হয়।

দেভেন্দ্রির স্বামী মুকেশ বলেন, আমি ভাবতেই পারিনি এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস ছিল সে সুস্থ হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, মুরারের কথা, আমি দীর্ঘদিন সফলতার সাথে মানুষের চিকিৎসা করে আসছি। দেভেন্দ্রিকে বিষধর কোবরা ছোবল দিয়েছে। তবে, গোবরে চাপা থাকায় দম বন্ধ হয়ে থাকতে পারে সে কথা অস্বীকার করেননি তিনি। স্থানীয় থানা জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও কোনো ধরনের অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>