Published On: Wed, May 2nd, 2018

দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার প্রশমন ঘটায় মিষ্টি কুমড়া

আমাদের কাছে সুপরিচিত এই সবজি মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ স্বাস্থ্য উপকারিতা। মিষ্টি কুমড়া ভিটামিন এ, বি-কমপ্লেক্স, সি এবং ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের ধারক।

পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাছ, মাংস, ডালের সঙ্গে কুমড়া রান্না করে খাওয়ার চল রয়েছে নানা জায়গায়। ভিটামিন এর পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর জিঙ্ক রয়েছে যা অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। চুল পড়া, ত্বকের সমস্যাও দূর করে। ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

মিষ্টি কুমড়ার উচ্চ ফাইবার উপাদান খাদ্য হজমে খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও পরিপাক নালীর খাদ্য সঠিক উপায়ে সরবরাহে মিষ্টি কুমড়ার তুলনা হয়না। তবে মনে রাখবেন কুমড়া কাঁচা খাওয়ার থেকে পাকা খেলে উপকার বেশি পাওয়া যায়।কুমড়ায় রয়েছে এল ট্রিপটোফ্যান, যা অবসাদ কমায়।

উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ থাকলে রোজ কুমড়া খান। কুমড়ায় আছে পটাশিয়াম, যা এই সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করে। অ্যালার্জির সমস্যায়ও দারুণ কাজ দেয় কুমড়া। ঠান্ডা লাগা, সর্দির হাত থেকে বাঁচায়।কুমড়া বাতের ব্যথাসহ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার প্রশমন ঘটায়।

যারা দীর্ঘদিন ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন যদি ১ থেকে ২ কাপ পরিমাণ মিষ্টি কুমড়া রান্না খান তাহলে অনেকটাই ব্যথা কমে আসবে।কুমড়া গর্ভবতী মায়েদের রক্তস্বল্পতা রোধ করে অকাল প্রসবের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

কুমড়া ও কুমড়ার বীজ গর্ভবতী মায়েরা তাদের অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যর জন্য নির্দ্বিধায় খেতে পারেন।

ব্লাডসুগারে ভুগছেন ? নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা করবেন

ব্লাডসুগারে ভুগছেন? শত চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না আপনার রক্তের শর্করা৷ ডাক্তার দিয়েছে ওষুধ৷ আর মিষ্টি খাবার একদম বন্ধ! তাতেও, আপনার অবেহলার জন্য সুগার কিন্তু বেড়েই চলছে৷ তবে জানেন কি? আপনার রান্নাঘরেই রয়েছে এমন এক জিনিস যা নিয়মিত খেলেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে আপনার সুগার ৷

দারচিনিই এমন একটা জিনিস, যা আপনার ব্লাড সুগারকে রাখতে পারে নিয়ন্ত্রণে৷ তা কীভাবে খাবেন দারচিনি ?সকালে খালি পেটে একটুকরো দারচিনি চিবিয়ে খেয়ে নিন৷ তারপর এক গ্লাস জল পান করু৷ সপ্তাহে অন্তত দু’বার এটা খান৷ দেখবেন ব্লাডসুগার থাকবে নিয়ন্ত্রণে৷যদি সকালে উঠে দারচিনি চিবোতে অসুবিধা হয় তাহলে লিকার চায়ে দু’একটা দারচিনি ফেলে ফুটিয়ে নিন৷ ছেকে নিয়ে সেই চা পান করুন ৷

গরম জলে দারচিনি ফেলে ঠান্ডা করে সে জল পান করতে পারে ৷মুখ শুদ্ধির মতো করে মাঝে মধ্যেই দু’এক টুকরো দারচিনি মুখে ফেলে দিন৷নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করুন৷ দেখে নিন আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ৷ সেটা মেপেই প্ল্যান করে নিন আপনার খাওয়া দাওয়া ৷

সকালের নাস্তায় অবহেলায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে !

সকালের ভালো নাস্তা সারাদিনের ভালো কাজের জন্য মনকে রাখে প্রফুল্ল। তাই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার সকালের নাস্তা।কিন্তু ডায়েট করার তাগিদে খাওয়ার তালিকা থেকে সকালের নাস্তাই ছেঁটে ফেলেছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতায় লুকিয়ে আছে মারাত্মক বিপদ।এটা সবাই জানি যে, আধুনিক শহুরে জীবনে ডায়াবেটিস একটি সর্বজনীন সমস্যা। সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ পাবলিক হেলথ স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করে।

৪৬,২৮৯ জন নারীর ওপর এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয় ৬ বছর ধরে। ফলাফল খুবই বিস্ময়কর। এতে বলা হয়, যে নারীরা নিয়মিত সকালের নাস্তা খান না তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। আর যে সকল কর্মজীবী নারী সকালের নাস্তা বাদ দেন তাদের ৫৪ শতাংশের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।তাছাড়া, এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়, যে সমস্ত ছেলেরা সকালের নাস্তা বাদ দেন তাদের মধ্যে ২৭ শতাংশের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন ড. লিয়া চাহিল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর নাস্তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। যারা সকালের নাস্তা এড়িয়ে যান তাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় এবং ধমনীতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্থ হয়। এর ফলশ্রুতিতে স্ট্রোকও হতে পারে।তবে আপনি যদি ওজন কমানোর জন্য সকালের নাস্তা বাদ দিতে চান তাহলে আরও একবার চিন্তা করে নিন। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা সকালের নাস্তা বাদ দেন তাদের ওজন দ্রুত বাড়ে।

সকালের নাস্তা না খেলে চিনি ও চর্বি যুক্ত খাদ্য গ্রহণের উৎসাহ বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে তীব্র ক্ষুধা পায় বলে সারাদিনে আপনি যাই পান তাই খেতে থাকেন। ক্ষুধা যত বৃদ্ধি পাবে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। যা আপনার প্রতিদিনের ক্যালরি গ্রহণের মাত্রাও ছাড়িয়ে যায়। তাই নিয়মিত সকালের নাস্তা বাদ দিলে ওজন কমার বদলে ওজন বৃদ্ধিই পাবে।

১৯৯৯ সালে একটি সাইকোলজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে জানা যায় যে, সকালের নাস্তা এড়িয়ে গেলে মেজাজ ও এনার্জির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই গবেষণায় ১৪৪ জন স্বাস্থ্যবান মানুষকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। একটি দলকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিমিত সকালের নাস্তা দেয়া হয়, দ্বিতীয় দলকে শুধু কফি দেয়া হয় এবং তৃতীয় দলটিকে কোন নাস্তা দেয়া হয়নি।

দেখা যায় যে, যে গ্রুপটিকে সকালের নাস্তা দেয়া হয়নি তাদের স্মৃতির দক্ষতা নিম্নতম পর্যায়ে চলে যায় এবং তাদের ক্লান্তিবোধের স্তর উচ্চতর পর্যায়ের হয়। অন্য দুই দলের মধ্যে তেমন তাৎপর্যপূর্ণ কোন পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি।২০১৩ এর আগস্টে ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশন এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, নাস্তা না করলে শরীরের এনার্জি কমে যায় এবং শারীরিক কর্মক্ষমতার স্তর ও কমতে থাকে।

সকালের নাস্তা বাদ দেয়ার ফলে হতে পারে মাইগ্রেন। সেইসঙ্গে আপনার শরীরে পানির ঘাটতি ঘটতে পারে। সকালের নাস্তা বাদ দেয়ার নেগেটিভ প্রভাব পড়বে আপনার মুডে। আপনি খিটখিটে হয়ে উঠবেন। আপনার এনার্জিতে ঘাটতি হবে। অবসাদ ঘিরে ধরবে। কমে আসবে স্মৃতিশক্তি।

Read also:

চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা থেকে এক ম্যাচ দূরে রিয়াল মাদ্রিদ

চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল। তাও আবার দ্বিতীয় লেগের খেলা। উত্তেজনা না হলে কি চলে! হয়েছেও তেমন। মঙ্গলবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদ-বায়ার্ন মিউনিখের ম্যাচ ছিল উত্তেজনায় টইটম্বুর। বল দখলের লড়াইয়ে বায়ার্ন এগিয়ে থাকলেও পাল্টা আক্রমণে মূল কাজ সেরেছে স্বাগতিকেরা। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে বায়ার্ন হেরেছিল ২-১ গোলে। দ্বিতীয় লেগে রিয়ালের দুর্গে শুরুতে এগিয়ে থাকলেও ২-২ গোলে ড্র করেছে বায়ার্ন।

দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে পিছিয়ে থেকে সেমিইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো বায়ার্ন মিউনিখকে। লিভারপুল-রোমার দ্বিতীয় লেগের খেলার পরই বোঝা যাবে ফাইনালে জিদান–শিষ্যরা কাদের মুখোমুখি হন।

ফাইনালে ওঠার আনন্দে রিয়াল খেলোয়াড়দের বাঁধভাঙা উল্লাস। ছবি: রয়টার্সপ্রথম লেগে নিজেদের মাঠে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন জশুয়া কিমিখ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এসেও রিয়ালের বুকে প্রথম ছুরি চালান ওই কিমিখই।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিট। নিজের আসনটিও হয়তো খুঁজে পাননি দর্শকদের কেউ কেউ। তখনই ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন জশুয়া কিমিখ (১-০)। কোরিন্টিন তোলিসোর শট রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে না পারলে সুযোগ কাজে লাগান কিমিখ। কিছু সময় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা চলে। ষষ্ঠ মিনিটে ক্রসের ফ্রি কিক করিম বেনজেমা-রোনালদোরা কাজে লাগাতে পারলে তখনই সমতায় ফিরতে পারত রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সমতায় ফিরতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। ১১তম মিনিটে মার্সেলোর দুর্দান্ত ক্রস থেকে অসাধরণ হেডে গোল করেন ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা (১-১)। ২৯তম মিনিটে রিয়ালের কোনো খেলোয়াড় বায়ার্নের ডি-বক্সে থাকলে ব্যবধান ২-১ হতে পারত। ৩৪তম মিনিটে বায়ার্নের হয়ে সুযোগ নষ্ট করেন হামেস রদ্রিগেজ। প্রথমার্ধে নিজের ছায়া হয়ে ঘুরে বেড়ানো রোনালদো ৩৯তম মিনিটে একটা শট নিয়েছিলেন বটে। সেটা গোলপোস্টের পাশ ঘেঁষে চলে যায়। প্রথমার্ধের যোগ হওয়া সময়ে কিমিখের শট রিয়ালের ডি-বক্সে মার্সেলোর হাতে লাগলে পেনাল্টির জোরালো দাবি জানায় অতিথিরা। রেফারি অবশ্য পেনাল্টি না দিয়েই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করেন।

ফাইনালে ওঠার আনন্দে রিয়াল খেলোয়াড়দের বাঁধভাঙা উল্লাস। ছবি: এএফপিদ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতে না হতেই ৪৬তম মিনিটেই গোল হজম করে বসে হেইঙ্কেস শিষ্যরা। কিক অফের পরপর তোলিসোর ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন বায়ার্ন গোলরক্ষক। তক্কে তক্কে ছিলেন প্রথমার্ধে রিয়ালের স্কোরার বেনজমাও। সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো সমস্যা হয়নি করিম বেনজেমার (২-১)। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা রিয়াল তখন বায়ার্নকে চেপে ধরার চেষ্টা করে। তবে সুযোগ বেশি পায় বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়েরাই।

৫১তম মিনিটে রিয়াল গোলরক্ষক নাভাস স্বাগতিকদের রক্ষা করেন। ৫২তম মিনিটে পাল্টা-আক্রমণে উঠে আসে রিয়াল। তবে বেনজেমাকে গোল বঞ্চিত করেন বায়ার্ন গোলরক্ষক। ৬০তম মিনিটে হামেস রদ্রিগেজের শট আটকে দেন নাভাস। সেটা ফিরে রিবেরির কাছে আসলে তিনিও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। ৬৩তম মিনিটে নিকোলাস সুলের ক্রস থেকে শট নেন হামেস রদ্রিগেজ। প্রথম চেষ্টায় সেটা আটকে দেন নাভাস। তবে তৈরি ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ থেকেই ধারে খেলতে যাওয়া রদ্রিগেজ। রদ্রিগেজের শটে সমতায় ফেরে বায়ার্ন (২-২)। তখন বায়ার্ন সমর্থকদের মনের আকাশে জমাট বাঁধা হতাশার কালো মেঘের আড়ালে খানিকটা আশার আলো জ্বলে উঠেছিল হয়তো। কিন্তু খেলা শেষে সেই আলো যেন দমকা বাতাসে নিবে যায়। সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন মিউনিখ। আর টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠে রিয়াল মাদ্রিদ।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>