Published On: Wed, May 2nd, 2018

গোলমরিচের ৮টি অসাধারণ ব্যবহার!

গোলমরিচের ৮টি – প্রাচীনকাল থেকেই রান্নার স্বাদ এবং ঘ্রাণ বাড়াতে গোলমরিচ ব্যবহার হয়ে আসছে। মূলত এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ, ফলটি শুকিয়ে এটি মসলা হিসেবে ব্যবহার করা  হয়। তবে রান্না ছাড়াও এর অন্যরকম কিছু ব্যবহার রয়েছে যা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা।

১. কাশি প্রশমিত করে

ঠাণ্ডা, কাশি দূর করতে আমরা আদা, লবঙ্গের ব্যবহার সম্পর্কে জানি। কিন্তু গোলমরিচও অনেক ভাল কাশি উপশমকারী। চীনে চায়ের সঙ্গে গোল মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পান করা হয় ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচার জন্য। ১ টেবিল চামচ গোলমরিচের গুঁড়া, ২ টেবিল চামচ মধু এক কাপ পানির মধ্যে দিয়ে জ্বাল দিন। ১৫ মিনিট জ্বাল দেওয়ার পর নামিয়ে রাখুন। ঠান্ডা হলে পান করুন। দেখবেন নিমিষেই আপানর কাশি গায়েব হয়ে গেছে।

২. কাপড়ের রং ধরে রাখতে

প্রিয় পোশাকটির রং দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চান? তবে কাপড় ধোয়ার সময় ডিটারজেন্টের মধ্যে এক চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো দিয়ে দিন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। আপনার পোশাকের রং দীর্ঘদিন পর্যন্ত স্থায়ী হবে।

৩. ধূমপান ছাড়তে

ধূমপান ছাড়তে চান তাহলে জেনে নিন গোলমরিচের এই ব্যবহারটি। একটি তুলায় গোলমরিচের তেল মাখিয়ে নিন। যখন আপনার ধূমপান করতে প্রচন্ড ইচ্ছা করবে তখন গোলমরিচের তেল ভেজানো তুলার ঘ্রাণ নিন। দেখবেন ধূমপানের ইচ্ছা একদম চলে গেছে।

৪. দাঁতের ব্যথা দূর করতে

দাঁতের ব্যথার স্থানে গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে ঘষুন। এছাড়া গরম পানিতে দুই চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এবার এটি দিয়ে কুলকুচি করুন কিছুক্ষণ। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যথা কমে গেছে।

৫. হজমশক্তি বাড়াতে

গোলমরিচ খেলে পাকস্থলী থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয় যা খাবার দ্রুত হজম করতে সহায়তা করে এবং অরুচি দূর করে ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়।

৬. ইঁদুর থেকে বাঁচতে

বাসায় বিদ্যুতের তারকে ইঁদুরের হাত থেকে বাঁচাতে আপনি তারে গোলমরিচের তেল লাগিয়ে রাখুন। এছাড়া ইঁদুর আসা যাওয়া স্থানে কিছুটা গোলমরিচ ছিটিয়ে দিন। দেখবেন ইঁদুর আর তার কাটছে না।

৭. পেশীর ব্যথা কমাতে

পেশীর ব্যথা কমাতে গোলমরিচ তেলের ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে সাথে সাথে মাংশ পেশী শক্ত করতে সাহায্য করে থাকে। ২ টেবিল চামচ গোলমরিচের তেলের সাথে ৪ চা চামচ রোজমেরী তেল বা আদার রস মিশিয়ে নিতে পারেন। মাংশ পেশির যেখানে ব্যথা করবে সেখানে এই তেল ব্যবহার করুন। ব্যথা কমে যাবে।

৮. ক্ষতস্থান সারাতে

অনেকেই ছোট খাটো ক্ষত বা কাটা দাগ সারাতে গোলমরিচ ব্যবহার করেন। গোলমরিচে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে যা রক্তপাত বন্ধ করে থাকে। হঠাৎ করে কোন স্থানে কেটে গেলে ক্ষত স্থান সারাতে গোলমরিচ ব্যবহার করুন।

Read also:

দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার প্রশমন ঘটায় মিষ্টি কুমড়া

আমাদের কাছে সুপরিচিত এই সবজি মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ স্বাস্থ্য উপকারিতা। মিষ্টি কুমড়া ভিটামিন এ, বি-কমপ্লেক্স, সি এবং ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের ধারক।

পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাছ, মাংস, ডালের সঙ্গে কুমড়া রান্না করে খাওয়ার চল রয়েছে নানা জায়গায়। ভিটামিন এর পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর জিঙ্ক রয়েছে যা অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। চুল পড়া, ত্বকের সমস্যাও দূর করে। ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

মিষ্টি কুমড়ার উচ্চ ফাইবার উপাদান খাদ্য হজমে খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও পরিপাক নালীর খাদ্য সঠিক উপায়ে সরবরাহে মিষ্টি কুমড়ার তুলনা হয়না। তবে মনে রাখবেন কুমড়া কাঁচা খাওয়ার থেকে পাকা খেলে উপকার বেশি পাওয়া যায়।কুমড়ায় রয়েছে এল ট্রিপটোফ্যান, যা অবসাদ কমায়।

উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ থাকলে রোজ কুমড়া খান। কুমড়ায় আছে পটাশিয়াম, যা এই সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করে। অ্যালার্জির সমস্যায়ও দারুণ কাজ দেয় কুমড়া। ঠান্ডা লাগা, সর্দির হাত থেকে বাঁচায়।কুমড়া বাতের ব্যথাসহ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার প্রশমন ঘটায়।

যারা দীর্ঘদিন ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন যদি ১ থেকে ২ কাপ পরিমাণ মিষ্টি কুমড়া রান্না খান তাহলে অনেকটাই ব্যথা কমে আসবে।কুমড়া গর্ভবতী মায়েদের রক্তস্বল্পতা রোধ করে অকাল প্রসবের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

কুমড়া ও কুমড়ার বীজ গর্ভবতী মায়েরা তাদের অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যর জন্য নির্দ্বিধায় খেতে পারেন।

ব্লাডসুগারে ভুগছেন ? নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা করবেন

ব্লাডসুগারে ভুগছেন? শত চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না আপনার রক্তের শর্করা৷ ডাক্তার দিয়েছে ওষুধ৷ আর মিষ্টি খাবার একদম বন্ধ! তাতেও, আপনার অবেহলার জন্য সুগার কিন্তু বেড়েই চলছে৷ তবে জানেন কি? আপনার রান্নাঘরেই রয়েছে এমন এক জিনিস যা নিয়মিত খেলেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে আপনার সুগার ৷

দারচিনিই এমন একটা জিনিস, যা আপনার ব্লাড সুগারকে রাখতে পারে নিয়ন্ত্রণে৷ তা কীভাবে খাবেন দারচিনি ?সকালে খালি পেটে একটুকরো দারচিনি চিবিয়ে খেয়ে নিন৷ তারপর এক গ্লাস জল পান করু৷ সপ্তাহে অন্তত দু’বার এটা খান৷ দেখবেন ব্লাডসুগার থাকবে নিয়ন্ত্রণে৷যদি সকালে উঠে দারচিনি চিবোতে অসুবিধা হয় তাহলে লিকার চায়ে দু’একটা দারচিনি ফেলে ফুটিয়ে নিন৷ ছেকে নিয়ে সেই চা পান করুন ৷

গরম জলে দারচিনি ফেলে ঠান্ডা করে সে জল পান করতে পারে ৷মুখ শুদ্ধির মতো করে মাঝে মধ্যেই দু’এক টুকরো দারচিনি মুখে ফেলে দিন৷নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করুন৷ দেখে নিন আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ৷ সেটা মেপেই প্ল্যান করে নিন আপনার খাওয়া দাওয়া ৷

সকালের নাস্তায় অবহেলায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে !

সকালের ভালো নাস্তা সারাদিনের ভালো কাজের জন্য মনকে রাখে প্রফুল্ল। তাই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার সকালের নাস্তা।কিন্তু ডায়েট করার তাগিদে খাওয়ার তালিকা থেকে সকালের নাস্তাই ছেঁটে ফেলেছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতায় লুকিয়ে আছে মারাত্মক বিপদ।এটা সবাই জানি যে, আধুনিক শহুরে জীবনে ডায়াবেটিস একটি সর্বজনীন সমস্যা। সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ পাবলিক হেলথ স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করে।

৪৬,২৮৯ জন নারীর ওপর এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয় ৬ বছর ধরে। ফলাফল খুবই বিস্ময়কর। এতে বলা হয়, যে নারীরা নিয়মিত সকালের নাস্তা খান না তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। আর যে সকল কর্মজীবী নারী সকালের নাস্তা বাদ দেন তাদের ৫৪ শতাংশের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।তাছাড়া, এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়, যে সমস্ত ছেলেরা সকালের নাস্তা বাদ দেন তাদের মধ্যে ২৭ শতাংশের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন ড. লিয়া চাহিল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর নাস্তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। যারা সকালের নাস্তা এড়িয়ে যান তাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় এবং ধমনীতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্থ হয়। এর ফলশ্রুতিতে স্ট্রোকও হতে পারে।তবে আপনি যদি ওজন কমানোর জন্য সকালের নাস্তা বাদ দিতে চান তাহলে আরও একবার চিন্তা করে নিন। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা সকালের নাস্তা বাদ দেন তাদের ওজন দ্রুত বাড়ে।

সকালের নাস্তা না খেলে চিনি ও চর্বি যুক্ত খাদ্য গ্রহণের উৎসাহ বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে তীব্র ক্ষুধা পায় বলে সারাদিনে আপনি যাই পান তাই খেতে থাকেন। ক্ষুধা যত বৃদ্ধি পাবে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। যা আপনার প্রতিদিনের ক্যালরি গ্রহণের মাত্রাও ছাড়িয়ে যায়। তাই নিয়মিত সকালের নাস্তা বাদ দিলে ওজন কমার বদলে ওজন বৃদ্ধিই পাবে।

১৯৯৯ সালে একটি সাইকোলজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে জানা যায় যে, সকালের নাস্তা এড়িয়ে গেলে মেজাজ ও এনার্জির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই গবেষণায় ১৪৪ জন স্বাস্থ্যবান মানুষকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। একটি দলকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিমিত সকালের নাস্তা দেয়া হয়, দ্বিতীয় দলকে শুধু কফি দেয়া হয় এবং তৃতীয় দলটিকে কোন নাস্তা দেয়া হয়নি।

দেখা যায় যে, যে গ্রুপটিকে সকালের নাস্তা দেয়া হয়নি তাদের স্মৃতির দক্ষতা নিম্নতম পর্যায়ে চলে যায় এবং তাদের ক্লান্তিবোধের স্তর উচ্চতর পর্যায়ের হয়। অন্য দুই দলের মধ্যে তেমন তাৎপর্যপূর্ণ কোন পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি।২০১৩ এর আগস্টে ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশন এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, নাস্তা না করলে শরীরের এনার্জি কমে যায় এবং শারীরিক কর্মক্ষমতার স্তর ও কমতে থাকে।

সকালের নাস্তা বাদ দেয়ার ফলে হতে পারে মাইগ্রেন। সেইসঙ্গে আপনার শরীরে পানির ঘাটতি ঘটতে পারে। সকালের নাস্তা বাদ দেয়ার নেগেটিভ প্রভাব পড়বে আপনার মুডে। আপনি খিটখিটে হয়ে উঠবেন। আপনার এনার্জিতে ঘাটতি হবে। অবসাদ ঘিরে ধরবে। কমে আসবে স্মৃতিশক্তি।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>