Published On: Wed, May 2nd, 2018

রক্তের গ্রুপের কারণে আপনি কোন রোগের ঝুঁকিতে আছেন জেনে নিন

আমারা হয়তো আমাদের রক্তের গ্রুপ কী তা জানি। কিন্তু সেই রক্তের গ্রুপের কারণে আমাদের কোন ধরনের রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি তা কি আমরা জানি? বিজ্ঞান বলে প্রতিটি রক্তেরই কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে।

রক্তের যে লোহিত কণিকা আছে তার গায়ে আছে নানা ধরনের অ্যান্টিজেন। এই অ্যান্টিজেন প্রতিটি রক্তের গ্রুপকে বিশেষ একটি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিলেও অন্য কোনো একটি রোগের প্রতি দুর্বল করে তোলে। প্রতিটি রক্তের গ্রুপেরই বিশেষ কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা থাকে বেশি।

প্রশ্ন হলো যদি তাই হয় তাহলে কি তা বদলানোর বা প্রতিরোধের কোনো সুযোগ আছে? কেননা রক্তের গ্রুপ তো আমরা জন্মসুত্রে পেয়েছি, তা তো আর বদলানো সম্ভব নয়। তাই না? নাহ, সুযোগ আছে। খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন যাপনের ধরনে সাবধানতা অবলম্বনের মাধ্যমে আপনি চাইলে আপনার যে রোগের ঝুঁকি আছে সেটি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবেন।

আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী আপনার কোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি…

১. হৃদরোগ
যাদের রক্তের গ্রুপ এবি বা বি তাদের হার্টের রোগ বা হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে প্রবল। আর যাদের ও গ্রুপের রক্ত তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

২. আলসার
যাদের রক্তের গ্রুপ ও তাদের অন্য আর যে কারুর চেয়ে আলসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। ও গ্রুপের রক্তধারীদের পাকস্থলীর আলসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

৩. রক্ত জমাট বাধা
এ ও বি গ্রুপের রক্তের অধিকারীদের ৩০% ঝুঁকি থাকে এই সমস্যা হওয়ার। আর যাদের রক্তের গ্রুপ ও তাদের রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি কম। আর এবি গ্রুপের রক্ত আছে যাদের তাদের রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি ২০%। এ থেকে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

৪. গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার
ও গ্রুপের রক্তধারী লোকদের গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম। কিন্তু অন্যান্য রক্তের গ্রুপধারীদের এবং বিশেষ করে এ গ্রুপের রক্তধারীদের গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার ঝুঁকি অনেক বেশি।

৫. অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার
ও গ্রুপের রক্তধারীদের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম। কিন্তু এ গ্রুপের রক্তধারীদের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ৩২% আর এবি গ্রুপের রক্তধারীদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৫১%।

৬. স্মৃতির দুর্বলতা
এবি গ্রুপের রক্তধারীদের শেষ বয়সে গিয়ে স্মৃতির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। জার্নাল নিউরোলজিতে প্রকাশিত গবেষণা মতে, যাদের রক্তের গ্রুপ এবি তারা জ্ঞানীয় দক্ষতার পারফর্মেন্স টেস্টে কম স্কোর পেয়েছেন। এবি গ্রুপের রক্তের জমাট বাধা এবং রক্তের প্রোটিনজনিত কিছু সমস্যার কারণে স্মৃতির এই সমস্যা হয় বলে জানা গেছে। এর পুর্ণ কোনো ব্যাখ্যা এখনো জানা যায়নি।

৭. মানসিক চাপ
এ গ্রুপের রক্তধারীরা মানসিক চাপ সহজে মোকাবিলা করতে পারেন না। কেননা এ গ্রুপের রক্তধারীদের দেহে কর্টিসোল হরমোনের নিঃসরণ হয় বেশি। আর ও গ্রুপের রক্তধারীদের দেহে কর্টিসোল নিঃসরণ হয় কম। কিন্তু মানসিক চাপের সময় তাদের দেহে অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণ ঘটে। যে কারণে তারা তাদের সিস্টেমে থাকা কোনো কর্টিসোল পরিষ্কার করতে পারেন না। ফলে তারাও মাননিসক চাপ মোকাবিলা করতে পারে না সহজে। এজন্য এই ধরনের মানসিক অবসাদের রোগীদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে মনোচিকিৎসা দিতে হয়।

৮. বি গ্রুপের রক্তধারীদের দেহ অসংখ্য ব্যাকটেরিয়ায় পূর্ণ
আপনার রক্তের গ্রুপ যদি হয় বি তাহলে আপনি ভাগ্যবান। কারণ আপনার দেহ অসংখ্য ব্যাকটেরিয়ায় পরিপূর্ণ। তবে ভয়ের কিছু নেই। এগুলো সব উপকারী ব্যাকটেরিয়া। এগুলো হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী রাখতে এবং বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়াদের দূরে রাখতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। বি গ্রুপের রক্তধারীদের দেহে ও বা এ গ্রুপের রক্তধারীদের চেয়ে ৫০ হাজার গুন বেশি ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে। তার মানে বি গ্রুপের রক্তধারীদের হজমশক্তি বেশি হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি শক্তিশালী থাকে।

জীবনে আরো কিছু বছর যোগ করতে…

ছোটবেলায় হয়তো জীবনযাপনটা বেশ স্বাস্থ্যকরই থাকে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নানা কারণে তা অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। তবে বড়রাও বেশ কিছু অভ্যসের মাধ্যমে তাদের জীবনে আরো কিছু বছর যোগ করতে পারেন। অর্থাৎ, স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে বাড়তে পারে আয়ু। আর আয়ু বৃদ্ধির সেসব অভ্যাসের খোঁজ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের বিশেষজ্ঞরা ৭৮ হাজার ৮৬৫ জন নারীর বিগত ৩৪ বছরের জীবনকাল পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন পুরুষের বিগত ২৭ বছর জীবনকাল দেখেছেন। এই সময়ের মধ্যে তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন চিকিৎসকের সংগৃহিত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

তারা দেখেছেন কীভাবে জীবনযাপনের ৫ ধরনের কম ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস মানুষের মৃত্যুঝুঁকির ওপর প্রভাববিস্তার করে। এর মধ্যে রয়েছে ধূমপান ননা করা, কম বডি ম্যাস ইনডেক্স, দিনে অন্তত ৩০ মিনিটের হালকা বা ভারী ব্যায়াম, নিয়ন্ত্রণের মধ্যে অ্যালকোহল পান এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণে বলা হয়, যারা এসব কম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা মেনে চলেছেন তাদের আয়ু অন্যদের অপেক্ষা অনেক বেড়ে গেছে। যে নারীরা এগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে চলেছেন তাদের জীবনে গড়ে ১৪ বছর বাড়তি যোগ হয়েছে। আর পুরুষদের যোগ হয়েছে গড়ে ১২ বছর। কিন্তু যারা কম ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন বৈশিষ্ট্যে সেঁটে থাকেননি তাদের জীবনে বাড়তি আয়ু যোগ হয়নি।

যারা ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন তাদের ৭৪ শতাংশের মৃত্যুঝুঁকি পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে অনেক বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞরা আরো দেখেছেন, জীবনযাপনের স্বাস্থ্যকর বৈশিষ্ট্য একেক জনের মাঝে একেকভাবে ক্রিয়াশীল হয়। তবে তাদের সবারই মৃত্যুঝুঁকি কমে আসে। সবমিলিয়ে স্বাস্থ্যকর জীবযাপনে নিঃসন্দেহে জীবনে বাড়তি আয়ু যোগ হবে।

কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত নয়। এ দলে খুব সামান্য মানুষই মিলবে। কাজেই খাদ্য গ্রহণ, শরীর গঠন এবং সামাজিক ক্রিয়াকলাপে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার এবং জীবনযাপনে মিলবে আরো কিছু বছর।

Read also:

মেয়েটি শখের বশে নিজেকে ভিডিও করেছিল এবং তারপর ..

ঘটনা ১ : 

মেয়েটি শখের বশে নিজেকে ভিডিও করেছিল।

ফোন চাপতে গিয়ে তা দেখেছিল রুমমেট বান্ধবী। মজার এ ঘটনা বয়ফ্রেন্ডকে জানাতে দেরী করেনি বান্ধবী। গার্লফ্রেন্ডের লাজুক রুমমেটকে নগ্ন দেখার লোভ কী করে সামলায়?

নানা ছল-চাতুরিতে ওই ৩ মিনিটের ভিডিও ছেলেটি হস্তগত করে। নিজে দেখে শেয়ার করে বন্ধুদের মাঝেও। যার ভিডিও সে এসবের কিছুই জানে না। অবশ্য জানতে সময়ও লাগেনি। নানা হাত ঘুরে ভিডিওটি এসে পড়ে মেয়েটির এক ক্লাসমেটের হাতে। সে মেয়েটিকে ব্লাকমেইল করা শুরু করে।

এরপর? আত্মহত্যার চেষ্টা করে মেয়েটি!

ঘটনা ২ : 
মেয়েটির সঙ্গে এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছেলেটির। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম। ঘোরাঘুরি, ফোনে রাতভর আলাপ। বিনিময় হয় সবই। কিন্তু মাস ছয়েকের মধ্যেই তাল কেটে যায়।

‘মতের মিল নেই’- অভিযোগে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় ছেলেটি। রঙিণ চশমার ফোকর গলে হঠাৎ অন্ধকার ঢুকে পড়ে জীবনে। সেই অন্ধকার আরো প্রকট হয় যখন স্কাইপের নগ্ন চ্যাটের ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ছেলেটি তার বন্ধুদের সঙ্গেও মেয়েটিকে সম্পর্ক স্থাপনে চাপ দিতে থাকে!

ঘটনা ৩:
স্কলারশীপ নিয়ে বিশ্বভারতীতে পড়তে যায় মেয়েটি। দু-মাসের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ তাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়! ঘটনার সূত্রপাত ফেসবুকে। দেশে থাকতে মেয়েটির সঙ্গে প্রেম ছিল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক ছাত্রের। সম্পর্কটা টেকেনি। ক্ষিপ্ত ছেলেটি তাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওচ্যাটের দৃশ্য ই-মেইলে পাঠিয়ে দেয় শিক্ষকদের কাছে। ব্যাস, স্কলারশীপ বাতিল করে মেয়েটিকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

ঘটনা ৪:
কয়েক মাস আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর আট মিনিটের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। স্ব-ইচ্ছায় নিজেদের একান্ত মূহুর্ত ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন তারা। কী করে যেন সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। হতে পারে তাদের মুঠোফোনটি হারিয়েছে, হতে পারে ছেলেটির কোন বন্ধু গর্হিত এ কাজটি করেছে আবার এমনও হতে পারে ছেলেটি নিজেই এতে জড়িত!

যাই ঘটুক, এই ঘটনায় ছেলে-মেয়ে দুটির মানসিক অবস্থা কতটা দুর্বিষহ হয়েছিল তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। জানি না, আদৌ কোনদিন এই ট্রমা থেকে ওরা বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছে কিনা! আমি শুধু জানি, নিজের যৌণদৃশ্য পৃথিবীর অন্য কোন মানুষ দেখুক তা কোন সুস্থ্য মানুষ চায় না।

কিন্তু ক্ষণিকের একটুখানি অসতর্কতা, একটুখানি কৌতুহল কিংবা নোংরা শখই শেষ করে দিতে পারে তিলে তিলে গড়ে তোলা ব্যক্তি ইমেজ, আত্মসম্মান, এমনকি বেঁচে থাকার সমুদয় ইচ্ছাশক্তিও।

প্রিয় বন্ধু, 
এমন ভয়াবহ কোন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবার আগে সতর্ক হবার এখনই সময়। এক সময় প্রাণাধিক ভালোবাসা ছিল, না করতে পারেননি, আদান-প্রদান হয়েছে মন ছাড়াও বহু কিছু। একদিন হুট করে সম্পর্কটা ভেঙ্গে গেল! ব্যাস, মুহুর্তেই পাল্টে যাবে সব। প্রিয় মানুষটাই পরিণত হবে ভয়ংকর এক জানোয়ারে।

মনে রাখবেন, এমন কোন ছবি বা ভিডিও তুলবেন না, যা প্রিয় বন্ধুকেও দেখাতে পারবেন না।

ভালোবাসার দোহাই দিয়ে যদি নগ্ন হতে বলে, যদি এমন কোন ভিডিও করতে বলে যা আপনি মরে গেলেও অন্যকে দেখাতে চাইবেন না, তবে বুঝবেন আপনাকে নয়, মানুষটা ভালোবাসে আপনার অন্যকিছু!

মানুষকে অবিশ্বাস করা পাপ; তবে অন্ধ বিশ্বাস করা মহাপাপ!

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>