Published On: Wed, May 2nd, 2018

ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করুন, ওজন কমবে

ইন্টারনেশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার নামক সংস্থার করা একটি কেস স্টাডিতে দেখা গেছে ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকলে বিশেষ ধরনের কিছু ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। যার মধ্যে অন্যতম হল মাল্টিপাল মাইলোমা, অ্যাডিনোকার্সিনোমা, থাইরয়েড ক্যান্সার, পোস্ট মেনোপোজাল ব্রেস্ট ক্যান্সার, গলব্লাডার, স্টমাক, লিভার, কিডনি, ওভারি, ইউটেরাস এবং কলোরেকটাল ক্যান্সার প্রভৃতি।

ভয়ের বিষয় হল এদেশের প্রচুর মানুষ ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছে। আর এর মূল কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত জীবন এবং জাঙ্ক ফুডের প্রতি অফুরন্ত ভালবাসা। এমন অবস্থায় সুস্থভাবে বেঁচে থাকার রাস্তা দেখাতে পারে সম্প্রতি প্রাকাশিত একটি গবেষণা পত্র। তাতে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে ধীরে ধীরে খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। কারণ এই নিয়ম মেনে খেলে খুব সুন্দর ভাবে খাবার হজম হয়। ফলে মেদ জমার আশঙ্কা যায় কমে। অন্যদিকে যদি তাড়াতাড়ি খাওয়ার অভ্যাস করেন, তাহলে নানাবিধ মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় বেড়ে। সেই সঙ্গে বাড়ে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও।

“বি এম জে ওপেন” পত্রিকায় প্রকাশ করা জাপানি বিজ্ঞানীদের করা এই গবেষণায়ও আরও দাবি করা হয়েছে যে ধীরে ধীরে খাবার খেলে বি এম আই যেখানে ২২-এক মধ্যে থাকে, সেখানে যারা দ্রুত খায় তাদের বি এম আই থাকে ২৫ অথবা তার উপরে, যা বেজায় চিন্তাজনক। তাই ওজন বৃদ্ধি এবং সেই সম্পর্কিত নানাবিধ জটিলতার থেকে দূরে থাকতে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করুন। দেখবেন সুস্থ জীবনের পথ প্রশস্ত হবে।

এখন প্রশ্ন হল, যাদের ইতিমধ্য়েই ওজন বিপদসীমার উপরকে চলে গেছেন, তারা কী করবেন? সেক্ষেত্রে তাদের নিয়নিত হাল্কা চালে শরীরচর্চা করার পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়ম করে কয়েকটি সবজি খেতেই হবে। তাহলেই দেখবেন ওজন কমতে শুরু করবে চোখে পরার মতো।  যে যে সবজির মধ্যে ওজন কমানোর ক্ষমতা রয়েছে সেগুলি হল-

ফুলকোপি: প্রস্টেট, ব্রেস্ট, লাং এবং স্কিন ক্যান্সারকে দূরে রাখার পাশাপাশি এই সবজির ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোন বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বিও কমিয়ে ফেলে। শুধু তাই নয়, ফুলকপি এবং ওই একই পরিবারের আরেক সদস্য ব্রকিলতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি-এর সন্ধান পাওয়া যায়, যা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

গাজর: বিটা-ক্যারোটিন এবং ফাইবারে ঠাসা এই সবজি খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা যেমন কমে, তেমনি কাজের ফাঁকে চিপস, কোল ড্রিঙ্কের আনাগোনাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওজন কমতে আর কোনও বাঁধাই থাকে না। প্রসঙ্গত, গাজরে থাকা ডায়াটারি ফাইবার নানাবিধ পেটের রোগ এবং কনস্টিপেশনের মতো সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

মাশরুম: গবেষণাতে প্রমাণিত হয়ে গেছে যে ওজন কমাতে বাস্তবিকই এই সবজিটির অতুলনীয়। এর ফাইবার এবং প্রোটিন অতিরিক্ত ওজন ঝরানোর কাজ করে।  আর দেহে ফাইবার এবং প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালরি গ্রহণের ইচ্ছা কমে যায়। আর একথা কে না জানে যে ক্যালরি কম মাত্রায় শরীরে ঢোকা মানে ওজন কমার হার বেড়ে যাওয়া।

পালং শাক: বাঙালির প্রিয় এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন এবং থাইলেকয়েডস। এই দুটি উপাদানই অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। আর পেট ভরা থাকলে অল্প অল্প করে, বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছাও চলে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা হ্রাস পায়।  এই শাকটি ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীর গঠনেও নানা ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিন যদি এক বাটি করে পালং শাক খাওয়ার ব্যবস্থা করে নিতে পারেন, তাহলে বাড়তি ওজন নিয়ে আরও কোনও চিন্তাই থাকে না।

মরিচ: যে কোনো রান্নায় স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত মরিচ অতিরিক্ত মেদও ঝরাতে ওস্তাদ।  মরিচের ডিহাইড্রোক্যাপসিয়েট নামক উপাদান হজম ক্ষমতা এতটাই বাড়িয়ে দেয়ে যে কোনো খাবারই পূর্ণ মাত্রায় হজম হতে সময় লাগে না। ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগও থাকে না। তবে এখানেই শেষ নয়, মরিচের ভিটামিন সি-ও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।  গবেষণায় দেখা গেছে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়লে পেটে মেদ জমার সম্ভাবনা বাড়ে। আর স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমাতে পারে একমাত্র ভিটামিন সি। এবার বুঝেছেন তো কিভাবে মরিচ ওবেসিটির বিরুদ্ধে লড়াই করে!

পিঁয়াজ: কুয়েরসেটিন নামে এক ধরনের ফ্লেবোনয়েড সমৃদ্ধ পিঁয়াজ খুব সুন্দর ভাবে চর্বি গলিয়ে ফেলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ওজনের কারণে যাতে কোনও ভাবেই হার্টের ক্ষতি না হয়, সেদিকেও পিঁয়াজ খেয়াল রাখে। তাই ওজন কমানোর পাশপাশি দীর্ঘকাল হার্ট সুস্থ রাখতে চাইলে পিঁয়াজের গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করুন।

সবাই এখন যা পড়ছে :-

অস্বস্তিকর হেঁচকি? দৌড়ে পালাবে ! জেনে নিন ঘরোয়া কিছু টিপস !

হেঁচকি এমন একটি অস্বস্তিকর সময় যখন আমাদের আর কিছুই ভালো লাগে না। এই হেঁচকি কমাতে আমরা যে কত কিছুই করে থাকি। অতিরিক্ত পানি বা খাবার খেলেই এই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আর তখন বাড়ে অস্বস্তি বেড়ে যায়। ব্যথা করতে থাকে ঘাড় এবং মাধা। যতক্ষণ না কমছে এই হেঁচকি ততক্ষণ রয়ে যায় অস্বস্তি। আর তাই আজ আমরা জেনে নেই এই হেঁচকি থেকে বাঁচার ৯টি ঘরোয়া টোটকা। হেঁচকি কমাতে খেতে পারেন লেবু। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে হেঁচকি। অনেক সময়ে এসিডিটি থেকে হেঁচকি হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি খান। আর এর সাথে নিতে পারেন এসিডিটির ওষুধ। এই হেঁচকির সময়ে যদি আপনাকে কেউ ভয় দেখান আর তাতে আপনি ভয় পেলে দেখবেন হঠাৎই কমে গিয়েছে হেঁচকি। এই হেঁচকি কমাতে পানি দিয়ে গার্গেল করুন। দেখবেন খুব সহজেই কমে গেছে আপনার হেঁচকি। একটু দূরত্ব রেখে পানি পান করতে থাকুন। একসময় দেখবেন কমে গিয়েছে আপনার এই অস্বস্তি। লবণের রয়েছে নিজস্ব এক গন্ধ। আর এই গন্ধ আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে। আর তাই শুঁকুন লবণের গন্ধ। এটি আসলে আদি একটি উপায়। আর এই উপায়ে মিলবে স্বস্তি। হাতে আকুপ্রেশারের মাধ্যমেও কমে যায় হেঁচকি। নাক ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখুন। এই পদ্ধতি দিবে আপনাকে আরাম। যতক্ষণ না কমে হেঁচকি নিতে থাকুন এই পদ্ধতি।

Read also:

মেয়েটি শখের বশে নিজেকে ভিডিও করেছিল এবং তারপর ..

ঘটনা ১ : 

মেয়েটি শখের বশে নিজেকে ভিডিও করেছিল।

ফোন চাপতে গিয়ে তা দেখেছিল রুমমেট বান্ধবী। মজার এ ঘটনা বয়ফ্রেন্ডকে জানাতে দেরী করেনি বান্ধবী। গার্লফ্রেন্ডের লাজুক রুমমেটকে নগ্ন দেখার লোভ কী করে সামলায়?

নানা ছল-চাতুরিতে ওই ৩ মিনিটের ভিডিও ছেলেটি হস্তগত করে। নিজে দেখে শেয়ার করে বন্ধুদের মাঝেও। যার ভিডিও সে এসবের কিছুই জানে না। অবশ্য জানতে সময়ও লাগেনি। নানা হাত ঘুরে ভিডিওটি এসে পড়ে মেয়েটির এক ক্লাসমেটের হাতে। সে মেয়েটিকে ব্লাকমেইল করা শুরু করে।

এরপর? আত্মহত্যার চেষ্টা করে মেয়েটি!

ঘটনা ২ : 
মেয়েটির সঙ্গে এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছেলেটির। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম। ঘোরাঘুরি, ফোনে রাতভর আলাপ। বিনিময় হয় সবই। কিন্তু মাস ছয়েকের মধ্যেই তাল কেটে যায়।

‘মতের মিল নেই’- অভিযোগে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় ছেলেটি। রঙিণ চশমার ফোকর গলে হঠাৎ অন্ধকার ঢুকে পড়ে জীবনে। সেই অন্ধকার আরো প্রকট হয় যখন স্কাইপের নগ্ন চ্যাটের ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ছেলেটি তার বন্ধুদের সঙ্গেও মেয়েটিকে সম্পর্ক স্থাপনে চাপ দিতে থাকে!

ঘটনা ৩:
স্কলারশীপ নিয়ে বিশ্বভারতীতে পড়তে যায় মেয়েটি। দু-মাসের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ তাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়! ঘটনার সূত্রপাত ফেসবুকে। দেশে থাকতে মেয়েটির সঙ্গে প্রেম ছিল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক ছাত্রের। সম্পর্কটা টেকেনি। ক্ষিপ্ত ছেলেটি তাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওচ্যাটের দৃশ্য ই-মেইলে পাঠিয়ে দেয় শিক্ষকদের কাছে। ব্যাস, স্কলারশীপ বাতিল করে মেয়েটিকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

ঘটনা ৪:
কয়েক মাস আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর আট মিনিটের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। স্ব-ইচ্ছায় নিজেদের একান্ত মূহুর্ত ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন তারা। কী করে যেন সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। হতে পারে তাদের মুঠোফোনটি হারিয়েছে, হতে পারে ছেলেটির কোন বন্ধু গর্হিত এ কাজটি করেছে আবার এমনও হতে পারে ছেলেটি নিজেই এতে জড়িত!

যাই ঘটুক, এই ঘটনায় ছেলে-মেয়ে দুটির মানসিক অবস্থা কতটা দুর্বিষহ হয়েছিল তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। জানি না, আদৌ কোনদিন এই ট্রমা থেকে ওরা বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছে কিনা! আমি শুধু জানি, নিজের যৌণদৃশ্য পৃথিবীর অন্য কোন মানুষ দেখুক তা কোন সুস্থ্য মানুষ চায় না।

কিন্তু ক্ষণিকের একটুখানি অসতর্কতা, একটুখানি কৌতুহল কিংবা নোংরা শখই শেষ করে দিতে পারে তিলে তিলে গড়ে তোলা ব্যক্তি ইমেজ, আত্মসম্মান, এমনকি বেঁচে থাকার সমুদয় ইচ্ছাশক্তিও।

প্রিয় বন্ধু, 
এমন ভয়াবহ কোন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবার আগে সতর্ক হবার এখনই সময়। এক সময় প্রাণাধিক ভালোবাসা ছিল, না করতে পারেননি, আদান-প্রদান হয়েছে মন ছাড়াও বহু কিছু। একদিন হুট করে সম্পর্কটা ভেঙ্গে গেল! ব্যাস, মুহুর্তেই পাল্টে যাবে সব। প্রিয় মানুষটাই পরিণত হবে ভয়ংকর এক জানোয়ারে।

মনে রাখবেন, এমন কোন ছবি বা ভিডিও তুলবেন না, যা প্রিয় বন্ধুকেও দেখাতে পারবেন না।

ভালোবাসার দোহাই দিয়ে যদি নগ্ন হতে বলে, যদি এমন কোন ভিডিও করতে বলে যা আপনি মরে গেলেও অন্যকে দেখাতে চাইবেন না, তবে বুঝবেন আপনাকে নয়, মানুষটা ভালোবাসে আপনার অন্যকিছু!

মানুষকে অবিশ্বাস করা পাপ; তবে অন্ধ বিশ্বাস করা মহাপাপ!

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>