Published On: Wed, May 2nd, 2018

পরিচালক আমাকে নাইটি পরে দেখতে চান’

কখনও রাধিকা আপতে, কখনও শ্রী রেড্ডি আবার কখনও রিচা চাড্ডা, বলিউডে ‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে মুখ খুলেছেন একের পর এক অভিনেত্রী। শ্রী রেড্ডি, রাধিকাদের জ্বালানো সেই আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে বলিউডের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার সরোজ খান-এর মন্তব্যে।

এক সাংবাদিকের সম্মেলনে ‘কাস্টিং কাউচ’-এর পক্ষে প্রশ্ন করে বসেন বর্ষীয়ান ওই কোরিওগ্রাফার। তিনি বলেন, ‘বলিউডে ধর্ষণ করে কেউ কাউকে ছড়ে দেয় না। তাঁর খাবারের ব্যবস্থাও করে দেয়।’ সরোজ খানের ওই মন্তব্যের পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা।

সরোজ খানের মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কাস্টিং কাউচ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী মাহি গিল। তিনি বলেন, তিনি যখন সবে সবে ক্যারিয়ার শুরু করেন, তখন একাধিক কুতসিত ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। অডিশন দিতে গেলে, কোনও পরিচালক তাঁকে ‘নাইটি’ পরে দেখতে চান।

আবার কেউ বলেন, সালওয়ার কামিজ পরে অডিশন দিতে গেলে, কেউ তাঁকে সিনেমায় সুযোগ করে দিতে করতে চাইবেন না। এমনকী, সালওয়ার কামিজ পরে হাজির হলে, অভিনয় করতে পারবেন না বলেও মাহির মুখের উপর কেউ কেউ মন্তব্য করে বসেন বলেও দাবি করেন ‘সাহেব বিবি আউর গ্যাংস্টার’ অভিনেত্রী।

Read also:

মেয়েটি শখের বশে নিজেকে ভিডিও করেছিল এবং তারপর ..

ঘটনা ১ : 

মেয়েটি শখের বশে নিজেকে ভিডিও করেছিল।

ফোন চাপতে গিয়ে তা দেখেছিল রুমমেট বান্ধবী। মজার এ ঘটনা বয়ফ্রেন্ডকে জানাতে দেরী করেনি বান্ধবী। গার্লফ্রেন্ডের লাজুক রুমমেটকে নগ্ন দেখার লোভ কী করে সামলায়?

নানা ছল-চাতুরিতে ওই ৩ মিনিটের ভিডিও ছেলেটি হস্তগত করে। নিজে দেখে শেয়ার করে বন্ধুদের মাঝেও। যার ভিডিও সে এসবের কিছুই জানে না। অবশ্য জানতে সময়ও লাগেনি। নানা হাত ঘুরে ভিডিওটি এসে পড়ে মেয়েটির এক ক্লাসমেটের হাতে। সে মেয়েটিকে ব্লাকমেইল করা শুরু করে।

এরপর? আত্মহত্যার চেষ্টা করে মেয়েটি!

ঘটনা ২ : 
মেয়েটির সঙ্গে এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছেলেটির। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম। ঘোরাঘুরি, ফোনে রাতভর আলাপ। বিনিময় হয় সবই। কিন্তু মাস ছয়েকের মধ্যেই তাল কেটে যায়।

‘মতের মিল নেই’- অভিযোগে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় ছেলেটি। রঙিণ চশমার ফোকর গলে হঠাৎ অন্ধকার ঢুকে পড়ে জীবনে। সেই অন্ধকার আরো প্রকট হয় যখন স্কাইপের নগ্ন চ্যাটের ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ছেলেটি তার বন্ধুদের সঙ্গেও মেয়েটিকে সম্পর্ক স্থাপনে চাপ দিতে থাকে!

ঘটনা ৩:
স্কলারশীপ নিয়ে বিশ্বভারতীতে পড়তে যায় মেয়েটি। দু-মাসের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ তাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়! ঘটনার সূত্রপাত ফেসবুকে। দেশে থাকতে মেয়েটির সঙ্গে প্রেম ছিল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক ছাত্রের। সম্পর্কটা টেকেনি। ক্ষিপ্ত ছেলেটি তাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওচ্যাটের দৃশ্য ই-মেইলে পাঠিয়ে দেয় শিক্ষকদের কাছে। ব্যাস, স্কলারশীপ বাতিল করে মেয়েটিকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

ঘটনা ৪:
কয়েক মাস আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর আট মিনিটের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। স্ব-ইচ্ছায় নিজেদের একান্ত মূহুর্ত ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন তারা। কী করে যেন সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। হতে পারে তাদের মুঠোফোনটি হারিয়েছে, হতে পারে ছেলেটির কোন বন্ধু গর্হিত এ কাজটি করেছে আবার এমনও হতে পারে ছেলেটি নিজেই এতে জড়িত!

যাই ঘটুক, এই ঘটনায় ছেলে-মেয়ে দুটির মানসিক অবস্থা কতটা দুর্বিষহ হয়েছিল তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। জানি না, আদৌ কোনদিন এই ট্রমা থেকে ওরা বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছে কিনা! আমি শুধু জানি, নিজের যৌণদৃশ্য পৃথিবীর অন্য কোন মানুষ দেখুক তা কোন সুস্থ্য মানুষ চায় না।

কিন্তু ক্ষণিকের একটুখানি অসতর্কতা, একটুখানি কৌতুহল কিংবা নোংরা শখই শেষ করে দিতে পারে তিলে তিলে গড়ে তোলা ব্যক্তি ইমেজ, আত্মসম্মান, এমনকি বেঁচে থাকার সমুদয় ইচ্ছাশক্তিও।

প্রিয় বন্ধু, 
এমন ভয়াবহ কোন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবার আগে সতর্ক হবার এখনই সময়। এক সময় প্রাণাধিক ভালোবাসা ছিল, না করতে পারেননি, আদান-প্রদান হয়েছে মন ছাড়াও বহু কিছু। একদিন হুট করে সম্পর্কটা ভেঙ্গে গেল! ব্যাস, মুহুর্তেই পাল্টে যাবে সব। প্রিয় মানুষটাই পরিণত হবে ভয়ংকর এক জানোয়ারে।

মনে রাখবেন, এমন কোন ছবি বা ভিডিও তুলবেন না, যা প্রিয় বন্ধুকেও দেখাতে পারবেন না।

ভালোবাসার দোহাই দিয়ে যদি নগ্ন হতে বলে, যদি এমন কোন ভিডিও করতে বলে যা আপনি মরে গেলেও অন্যকে দেখাতে চাইবেন না, তবে বুঝবেন আপনাকে নয়, মানুষটা ভালোবাসে আপনার অন্যকিছু!

মানুষকে অবিশ্বাস করা পাপ; তবে অন্ধ বিশ্বাস করা মহাপাপ!

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>