Published On: Thu, May 3rd, 2018

আপনি যখন খালি পেটে পানি পান করেন তখন কী হয় জানলে অবাক হবেন?

প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে পানি পান করা খুবই জরুরি। তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

এ অভ্যাসটি যদি রপ্ত করা যায় তবে অনেক ধরনের রোগ থেকে শরীরকে মুক্ত রাখা যায়। আর এজন্যই দিনের শুরুর এই এক গ্লাস পানিকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ‘স্বাস্থ্যকর’, ‘বিশুদ্ধ’, ‘সুন্দর’ ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত করে থাকেন। আসুন জেনে নেই সকালে খালি পেঠে পানি খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে।

১. রাতে ঘুমানোর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে হজম প্রক্রিয়ার তেমন কোনো কাজ থাকে না। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য অন্তত এক গ্লাস পানি খেয়ে নেয়া উচিত।

২. প্রতিদিন সকালে অন্তত ১৬ আউন্স হালকা গরম পানি খেলে শরীরের মেটাবলিসম ২৪% বেড়ে যায় এবং শরীরের ওজন কমে।

৩. সকালে প্রতিদিন খালি পেটে পানি খেলে রক্তের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায় এবং ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়।

৪. প্রতিদিন সকালে নাস্তার আগে এক গ্লাস পানি খেলে নতুন মাংসপেশী ও কোষ গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

৫. প্রতিদিন সকালে মাত্র এক গ্লাস পানি খেলে বমি ভাব, গলার সমস্যা, মাসিকের সমস্যা, ডায়রিয়া, কিডনির সমস্যা, আর্থাইটিস, মাথা ব্যাথা ইত্যাদি অসুখ কমাতে সহায়তা করে।

৬. প্রতিদিন খালি পেটে এক গ্লাস করে পানি খেলে মলাশয় পরিষ্কার হয়ে যায় এবং শরীর নতুন করে খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে সহজেই।

৭. সকালে পানির বদলে জুস বা অন্য পানীয় না খাওয়াই শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো।

Read also:

মাশরাফিকে সাতবার ‘বাঁচিয়েছেন’ যিনি

পাগলা’র সঙ্গে অনেক দিন পর তাঁর দেখা। ‘পাগলা’ হচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ককে ডেভিড ইয়াং এ নামেই ডাকেন। ইয়াংকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে এই বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান শল্যবিদের আত্মার সম্পর্ক। মাশরাফির সঙ্গে সম্পর্কটা আরও গভীর।

ডান হাঁটুর চোটে পড়ে মাশরাফি প্রথমবারের মতো ইয়াংয়ের শরণ নিয়েছিলেন ২০০৩ সালের নভেম্বরে। এক-দুই করে, পরে আরও ছয়বার দুই হাঁটুতে অস্ট্রেলিয়ান শল্যবিদের ছুরির নিচে যেতে হয়েছে মাশরাফিকে। বারবার চোটে পড়ে হুমকির মুখে পড়ে যাওয়া মাশরাফির ক্যারিয়ারটা বেঁচে গেছে ইয়াংয়ের চিকিৎসাতেই—এমনটা বললে বোধ হয় খুব ভুল বলা হবে না। বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির একটি সম্মেলনে ঢাকায় এসেছেন। সফরের ফাঁকেই বিসিবিতে আজ ঢুঁ মেরে গেলেন তিনি। বিসিবি একাডেমি ভবনে দেখা হলো তাঁর প্রিয় ‘রোগী’ মাশরাফির সঙ্গেও!

প্রিয় চিকিৎসককে কাছে পেয়ে মাশরাফি আরেকবার হাঁটু জোড়া দেখিয়ে নিলেন। ইয়াংয়ের কাছে তাঁর কত ঋণ, অধিনায়কের কথাতেই বোঝা যাবে, ‘আমার প্রায় সাতটি অস্ত্রোপচারেই সে হাত দিয়েছে। এখনো খেলছি ওপরে আল্লাহ আছেন বলেই। আর উছিলা হিসেবে সে (ইয়াং) আছে। সে আমার সবকিছুই করেছে। এখন এমনই অবস্থা হাঁটুর বিষয়ে অন্য কারও কাছে গেলে তেমন আত্মবিশ্বাস পাই না! শুধু আমি নয়, আমাদের যারা হাঁটু ও পিঠের চোটের অস্ত্রোপচার করেছে, সবই ওর কাছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে নেপথ্যের বন্ধু সে।’

মাশরাফির প্রতি তাঁর মুগ্ধতা অনেক আগ থেকেই। নতুন করে ইয়াং বললেন, ‘মাশরাফি পেশাদার অ্যাথলেট, খেলা ও দেশের প্রতি তার শতভাগ নিবেদন। তার ক্যারিয়ারে একটু হলেও জড়াতে পেরে আমি খুশি। তার যে বিষয়টি সবচেয়ে ভালো লাগে, অসাধারণ মানুষ, অনেক বড় হৃদয়ের মানুষ। বাংলাদেশ ও খেলার জন্য সে সত্যিকারের এক দূত।’

চোটে পড়ে ২০০৯ সালের জুলাই থেকে টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে মাশরাফির। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে চালিয়ে গেলেও বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে আর ধারাবাহিক হতে পারবেন কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। মাশরাফির টেস্ট খেলার ফিটনেস আছে কি না, এ প্রশ্নে ইয়াং বললেন, ‘প্রতিটি দলের নেতার দরকার। সে সব সময়ই নেতা। টেস্ট দলে তার মতো খেলোয়াড়ের জায়গা থাকে। যে প্রশ্নটা করলেন, আমার উত্তর হবে “হ্যাঁ”।’

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>