Published On: Thu, May 3rd, 2018

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে বা কমে গেলে খুব দ্রুত যা করবেন এবং খাবেন…

হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। সঠিক খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে এর থেকে দূরে থাকা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য এমন সব খাবারের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে থাকবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম।

কারণ খাদ্যের এসব উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুধজাত খাদ্য যেমন দই ইত্যাদিতে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম।

তাজা ফল যেমন আপেল, কলা আর শাকসবজি হচ্ছে পটাশিয়ামের ভালো উৎস। টমেটোতেও আছে বেশ পটাশিয়াম।

বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদিতে।

১. কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

২. ফল ৪ থেকে ৫ সার্ভিং প্রতিদিন। টুকরো টুকরো করে কাটা আধা কাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধা কাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

৩. শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধা কাপ রান্না করা শাক।

৪. দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

৫. বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়।

প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

লক্ষণ
সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।

অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।

আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড়ি বা পালসের গড়ি বেড়ে যায়।প্রাথমিক চিকিৎসা

লো ব্লাড প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। তবে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এটা উচ্চ রক্তচাপের চেয়ে কম ক্ষতিকর ও স্বল্পমেয়াদী সমস্যা। আর প্রেসার লো হলে বাড়িতেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়।এক্ষেত্রে হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে যা করবেন-লবণ-পানি

লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেওয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।কফি-হট চকলেট

হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারী নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস
বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।বাদাম

লো-প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা পেসার বাড়াতে সহায়তা করে।পুদিনা

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।যষ্টিমধু

আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।

তবে যেসব ওষুধে রক্তচাপ কমে বা লো প্রেসার হতে পারে, সে সব ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন। যাদের দীর্ঘমেয়াদি নিম্ন রক্তচাপে ভুগছেন তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকরা নিম্ন রক্তচাপের কারণ শনাক্ত করে তারপর ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন।

লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট এবং গ্লুকোজ খেলেও কিন্তু ভালো উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সময় মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত।

Read also:

৭ টি বিশেষজ্ঞ-অনুমোদিত টিপস দিয়ে আপনার শিশুকে গর্ভের মধ্যেই স্মার্ট করে তুলুন…

প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলার দৈনিক সময়সূচীতে সঠিক খাদ্য এবং হালকা ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। খাদ্যের পাশাপাশি অনেক কিছু আপনার সন্তানের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবদান রাখতে পারে। গর্ভধারণের শেষ সপ্তাহগুলি আপনার বাচ্চার জ্ঞানের বিকাশকে গর্ভের মধ্যে শুরু করার সর্বোত্তম সময়। সুস্থ ও স্মার্ট শিশুর জন্ম দেবার জন্য আপনার সময়সূচীতে এই ৭ টি বিশেষজ্ঞ-অনুমোদিত টিপসগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না।

১। নিয়মিত সময় অন্তর আপনার শিশুকে স্পর্শ করুন…

PLOS ONE (পাবলিক লাইব্রেরি অব সায়েন্স) প্রকাশিত সর্বশেষ এক গবেষণার মতে, শিশু তাদের মায়ের কণ্ঠস্বর শোনার থেকে উদরে স্পর্শ করায় বেশি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

২। মা যখন তাদের পেট স্পর্শ করবে তখন শিশুর সঙ্গে কথা বলা উচিত…

যখন মা তার নিজের পেটে হাত রেখে কথা বলে তখন ভ্রূণ আরও বেশি হাত পা মাথা চলাচলের প্রদর্শন করে।

৩। তারাই স্বাস্থ্যকর গর্ভবতী মহিলা যারা নিয়মিত তাদের পেটে হাত বোলায়…

গর্ভবতী মহিলাদের একটি পরীক্ষার জন্য এই ৩ বিভাগের মধ্যে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এক তৃতীয়াংশ তাদের পেটে হাত বোলায়, এক তৃতীয়াংশ শিশুদের সাথে কথা বলে এবং অন্য এক তৃতীয়াংশ তাদের হাত একপাশে রাখে। সোনাোগ্রাফিতে গর্ভবতী মহিলাদের প্রথম তৃতীয়াংশ শ্রেণীর ভ্রূণের স্বাস্থ্যগত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে।

৪। বাচ্চারা তাদের মায়ের গর্ভ থেকে ভাষা শিখতে শুরু করে…

ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের প্রসিডিংস-এ প্রকাশিত একটি গবেষণার মতে শিশুরা গর্ভাশয়ে ভাষাগত দক্ষতা শেখে যখন তাদের বাবা-মা তাদের সাথে কথোপকথন করে।

৫। আপনি আপনার বাচ্চার সাথে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলবেন…

নিউ ইয়র্ক মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডঃ রেবেকা লেভিস ব্যাখ্যা করেছেন, “বিভিন্ন ভাষায় পড়া বা কথা বলা শিশুদের শ্রবণ ও ভাষা উন্নয়নের জন্য মস্তিষ্ক এর আকৃতির প্রয়োজন মতো উন্নত করে। আপনার শিশুর সাথে কথা বলা আগে থেকেই শুরু করা উচিত । আমরা নিশ্চিতভাবেই জানি যে শিশুরা তাদের মা এর কথা শুনতে পায় যখন তারা গর্ভে থাকে।”

৬। গবেষণায় দেখা গেছে যে গর্ভাবস্থার শেষ ১০ সপ্তাহের মধ্যে শিশুরা সর্বাধিক তথ্য শনাক্ত করে…

নবজাত শিশুরা মায়ের ভাষা চিহ্নিত করার জন্য যথেষ্ট স্মার্ট হয়, কোন বিদেশী ভাষা শুনেও। নিয়মিত ভিত্তিতে শিশুদের সাথে কথোপকথন করা প্রয়োজন।

৭। ইন্টারঅ্যাকশন বাচ্চাকে প্রেরণা দেয় এবং গর্ভের শিশুকে আরও সক্রিয় করে তোলে…

এই অধ্যয়নের লেখক, প্যাট্রিসিয়া কে কুহেল, পিএইচডি বলেছিলেন, “নতুন মায়ের জন্য প্রধান বার্তা হল যে তাদের শিশুরা গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে শোনে, শেখে এবং স্মরণ করে রাখে। তাদের মস্তিষ্ক শেখার জন্য জন্ম হওয়া অবধি অপেক্ষা করে না।“

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>