Published On: Thu, May 3rd, 2018

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ লিভারপুল

বার্সার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অবিশ্বাস্য জয়। সেমিফাইনালের প্রথম লেগের শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। দ্বিতীয় লেগে এসে এমন জয়। এত কিছুর পরেও ফাইনাল খেলা হচ্ছে না রোমার। চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৬ গোলে এগিয়ে থেকেই ফাইনালে উঠল লিভারপুল। ‘ইশ্‌…হলো না। অল্পের জন্য হলো না। নবম মিনিটে নাইনগোলানের অমন ভুল পাস না হলে সমীকরণ অন্যরকম হতে পারত…ইত্যাদি, ইত্যাদি।’ রোমা সমর্থকেরা এসব যতই বলুক চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ কিন্তু লিভারপুলই। নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে রোমার বিপক্ষে ৫-২ গোলে জয় পেয়েছিল লিভারপুল। বুধবার রাতে রোমার মাঠে দ্বিতীয় লেগে ৪-২ গোলে হেরেও ফাইনালে উঠেছে ইংলিশ ক্লাবটি। রোমা জয় পেয়েছে। এমন জয়, যার কোনো মানে নেই। যে জয়ে ‘উল্লাস’ করা যায় না।

পুরো খেলায় দুর্দান্ত ছিল রোমা। ম্যাচের ৬০ ভাগ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল তাঁরা। তবে ম্যাচের শুরুতেই ভুল পাসের খেসারত দিয়ে গোল হজম করতে হয় তাঁদের। প্রথমার্ধের নবম মিনিটে লিভারপুলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন সাদিও মানে। কিছু সময় পর ম্যাচের ১৫তম মিনিটে আবারও অঘটন। এবার অঘটনের শিকার লিভারপুল। লিভারপুলের খেলোয়াড় মিলনারের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে রোমা (১-১)। মিনিট দশেক পর লিভারপুলকে গোল ব্যবধানে এগিয়ে নেন জিয়ারজিনিও উইনালদাম (২-১)। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে ৫২তম মিনিটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা। এডিন জেকোর গোলে সমতায় ফিরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ইতালিয়ান ক্লাবটি (২-২)। কিছু সময় একের পর এক আক্রমণ চালায় রোমা। কিন্তু গোলের দেখা মেলে ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে এসে। নাইনগোলানের দুর্দান্ত শটে গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায় রোমা (৩-২)। এরপর যোগ হওয়া সময়ে (৯৪তম মিনিটে) পেনাল্টি থেকে গোল করেন নাইনগোলান। ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

রসির অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছে এমন ‘জয়’ চায়নি রোমা। ছবি: এএফপিরোমার মিডফিল্ডার নাইনগোলান রীতিমতো উপহার দিলেন। প্রথমার্ধের নবম মিনিটে বেলজিয়ান এই মিডফিল্ডারের ভুল পাসে বল পেয়ে যান লিভারপুল তারকা ফিরমিনো। দ্রুত গতিতে বল নিয়ে রোমার সীমানায় ঢুকে পড়েন ফিরমিনো। ফিরমিনোর ক্রস থেকে ক্লিনিক্যাল ফিনিশে রোমার জালে বল জড়ান সাদিও মানে। এরপর বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা স্বাগতিকরা একের পর এক আক্রমণ করলেও গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হচ্ছিল বারবার। ১৫তম মিনিটে লিভারপুলের রক্ষণ থেকে বল ক্লিয়ারের সময় মিলনারের মাথায় বল লেগে লিভারপুলের জালে জড়ায়। আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে রোমা। ২৫তম মিনিটে কর্নার থেকে রোমার দুর্বল রক্ষণের সুযোগ নিয়ে লিভারপুলকে এগিয়ে নেন জিয়ারজিনিও উইনালদাম। ২-১ স্কোরলাইনে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে মনে হচ্ছিল লিভারপুলের ফাইনাল নিশ্চিত। কিন্তু ৫২তম মিনিটে জেকোর দুর্দান্ত শটে রোমা সমতায় ফিরলে আশার আলো দেখতে পান রোমান সমর্থকেরা। এরপর লিভারপুলের গোলমুখে রোমার খেলোয়াড়দের একের পর এক শট লিভারপুলের রক্ষণ ভেঙে দিয়েছিল। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন নাইনগোলান। কলারভের ক্রস থেকে নাইনগোলানের আড়াআড়ি শটে গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায় রোমা। তখন আর দুই গোল হলেই সমীকরণ অন্য কিছু হতো। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, যোগ হওয়া সময়ে ‘অন্য কিছু’ হওয়ার পূর্বাভাস দেন সেই নাইনগোলানই। তবে সেই অন্য কিছু আর হয়নি। পেনাল্টি থেকে তাঁর শেষ গোলও রোমাকে নিয়ে যাতে পারেনি ফাইনালের মঞ্চে।

Read also:

হিন্দু শিক্ষককে হজের জন্য ৫০ দিন ছুটি!

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সনাতন ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষককে ৫০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে হজে যাওয়ার জন্য। তিনি গোপালগঞ্জের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র বিশ্বাস। গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই অদ্ভুত আদেশ জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, অরুণ চন্দ্র বিশ্বাস ভারতে ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শনের জন্য অবকাশকালীন ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে সৌদি আরবে হজে যাওয়ার ছুটি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মুরশিদা শারমিনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে ২৫ জুলাই থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত যেকোনো ৫০ দিন অথবা দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে ৫০ দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সরকারি কলেজ শাখা-৪ থেকে এই আদেশ জারি করা হয়। এরই মধ্যে আদেশটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও গত রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশের কপিটি ওয়েবসাইটে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে উপসচিব মুরশিদা শারমিনের সঙ্গে গত রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি মনে পড়ছে না। বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে জেনে আপনাকে জানাতে পারব।’ তবে অরুণ চন্দ্র বলেন, ‘আমি ১ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ভারতে ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শনের জন্য অবকাশকালীন ছুটির আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে হজে যাওয়ার জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। এটি সম্ভবত মন্ত্রণালয় ভুল করে দিয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ শাখা-৪ থেকে যে আদেশে অরুণ চন্দ্রকে ছুটি দেওয়া হয়েছে সেই আদেশেই নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কালেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাছিমা বেগমকেও ওমরাহ হজ পালনের জন্য ১ জুন থেকে ২১ জুন অথবা দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে ২১ দিন ছুটি মঞ্জুর করা হয়। এ বিষয়ে নাছিমা বেগম বলেন, ‘আমার আদেশের সঙ্গে অরুণ চন্দ্র বিশ্বাসকেও ছুটি দেওয়া হয়েছে। দুজনের একসঙ্গে আদেশ হলেও আমি তাঁকে চিনি না। আমি মনে করেছি, হয়তো তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।’

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>