Published On: Thu, May 3rd, 2018

প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের আমলনামা, ভাইবা দিবেন ২১ জন

আগামী ১১ মে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতিও নেয়া শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসাবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও সেগুলোতে কোনো কমিটি ঘোষণা হয়নি। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে শীর্ষ নেতৃত্বে কারা আসছেন এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পদপ্রত্যাশারীরাও শুরু করেছেন নানামূখী দৌঁড়ঝাপ। শেষ মুহুর্তে আলোচনায় থাকা অনেকেই তাদের নিজস্ব লবিং দিয়ে ছাত্রলীগের অভিবাবক, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা, যারা সাবেক ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে ছিলেন তাদের অফিসে, বাসায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন অনেকে।

এদিকে, ছাত্রলীগের নেতৃত্বে অযাচিত কেউ যেন আসতে না পারে, সে জন্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্তের পাশাপাশি তাদের পারিবারিক পরিচয়ও দেখা হবে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে স্বজনদের রাজনৈতিক বিশ্বাস আর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে।

ছাত্রলীগের অভিভাবক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্র সংগঠনটির নেতা-কর্মীদেরকে এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

আগামী ১১ মে সম্মেলনকে সামনে রেখে সোমবার আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও।

আর বারবার আলোচনায় এসেছে সংগঠনে অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ রাজনৈতিক আদর্শের পরিবারের সদস্যরাও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এসেছে, বারবার এটি প্রমাণ হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও সইতে হয়েছে সংগঠনটির।

নানা সময় দেখা গেছে, নেতারা দল ভারী করতে বিতর্কিতদেরকে সংগঠনে নিয়ে আসে। আবার টাকার বিনিময়ে পদ পাওয়ার বিষয়টিও আর গোপন নয়।

আর এবারের জাতীয় সম্মেলনের আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আর ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে শীর্ষপদের দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন এমন ২১ জনের তালিকা নিয়ে কাজ করছেন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে গবেষণা সংস্থা সিআরআই। তাদেরকে আগামী সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমানে ভাইভা পরীক্ষার মুখোমুখি করা হতে পারে। তবে এটা কবে হবে সেটা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে সম্মেলনের দুইদিন আগেই এমনটা হতে পারে। তালিকায় কারা আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি বলেছে, বর্তমান কমিটিরই সবাই রয়েছেন। তাদের মধ্যে সহ-সভাপতি ৩ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ২ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ৩ জন, সম্পাদক এবং উপ সম্পাদক পদের ৫, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নেতা ৪ জন, মহানগর ও ঢাকার বাইরের নেতা ৪ জন রয়েছেন। এই ২১ জনের মধ্যে ৪ জন নারী নেত্রীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বলেছেন, ‘ছাত্রলীগে নেতা আমিই বাছাই করবো। দেখি কি করে ছাত্রলীগ নষ্ট হয়।’ এরপরই সারাদেশে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের নেতাদের বাড়িতে বাড়তে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন খোঁজখবর নিতে শুরু করে।

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেছেন, ছাত্রলীগের সম্মেলন আসলেই একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠে। তারা নিজেদের পছন্দের লোকদের নেতা বানাতে সক্রিয় নানা মুখী তৎপরতা চালায়। এবারো এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ছাত্রলীগের কয়েকজন সাবেক শীর্ষ নেতা এসব করছেন বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এবার কোনো ভাইয়ের হাত ধরে নেতা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগকে কোনোভাবেই নষ্ট করতে দেয়া হবে না বলেও হুশিঁয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে, আজ বিকালে চলমান সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব মেধাবিদের হাতেই উঠবে। এক্ষেত্রে সমঝোতার চেষ্টা হবে। ভোটের নামে কোনো অনুপ্রবেশকারী যেন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে উঠে আসতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনে প্রেসরিলিজ কমিটিও হতে পারে বলে জানান।

Read also:

হিন্দু শিক্ষককে হজের জন্য ৫০ দিন ছুটি!

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সনাতন ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষককে ৫০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে হজে যাওয়ার জন্য। তিনি গোপালগঞ্জের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র বিশ্বাস। গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই অদ্ভুত আদেশ জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, অরুণ চন্দ্র বিশ্বাস ভারতে ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শনের জন্য অবকাশকালীন ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে সৌদি আরবে হজে যাওয়ার ছুটি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মুরশিদা শারমিনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে ২৫ জুলাই থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত যেকোনো ৫০ দিন অথবা দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে ৫০ দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সরকারি কলেজ শাখা-৪ থেকে এই আদেশ জারি করা হয়। এরই মধ্যে আদেশটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও গত রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশের কপিটি ওয়েবসাইটে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে উপসচিব মুরশিদা শারমিনের সঙ্গে গত রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি মনে পড়ছে না। বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে জেনে আপনাকে জানাতে পারব।’ তবে অরুণ চন্দ্র বলেন, ‘আমি ১ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ভারতে ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শনের জন্য অবকাশকালীন ছুটির আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে হজে যাওয়ার জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। এটি সম্ভবত মন্ত্রণালয় ভুল করে দিয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ শাখা-৪ থেকে যে আদেশে অরুণ চন্দ্রকে ছুটি দেওয়া হয়েছে সেই আদেশেই নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কালেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাছিমা বেগমকেও ওমরাহ হজ পালনের জন্য ১ জুন থেকে ২১ জুন অথবা দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে ২১ দিন ছুটি মঞ্জুর করা হয়। এ বিষয়ে নাছিমা বেগম বলেন, ‘আমার আদেশের সঙ্গে অরুণ চন্দ্র বিশ্বাসকেও ছুটি দেওয়া হয়েছে। দুজনের একসঙ্গে আদেশ হলেও আমি তাঁকে চিনি না। আমি মনে করেছি, হয়তো তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।’

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>