Published On: Thu, May 3rd, 2018

এবার প্রধানমন্ত্রীর কথার প্রেক্ষিতে যা বললেন সেই ফাতেমা

একটা অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়েছি, অন্যায় কোনটা জানেন? ফাতেমার বিষয়টা। একজন অপরাধীর (খালেদা জিয়া) সঙ্গে নিরপরাধ ফাতেমাকেও কারাগারে কাটাতে হচ্ছে।

পৃথিবীর কোন দেশে আছে, একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর সঙ্গে সহকারী দেয়া হয়?

কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার সাজা এবং তার মুক্তি ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের উদৃতি দিয়ে এক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাজা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়, এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি তো তাকে জেলে দেইনি। আমি যদি তাকে জেলে দিতাম তাহলে সেই ২০১৫ সালে যখন মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করলো তখনই দিতে পারতাম। কিন্তু তা আমরা করিনি।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ৬৮ জন লোক নিয়ে খালেদা জিয়া নিজেই নিজেকে একটি ঘরে মধ্যে অবদ্ধ করে রাখলেন। সেখান থেকে নির্দেশ দিয়ে একের পর এক মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করলেন।

এমনকি তার ছেলে মারা গেলো, আমি গেলাম তাকে সমবেদনা জানাতে। উল্টো আমাকে মুখে উপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হলো। তখন কী করা উচিত ছিলো, উচিত ছিলো বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে দেয়া। যাতে কেউ আর বের হতে না পারে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলন কারাগারে বসে বিটিভির মাধ্যমে সরাসরি দেখেছেন কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসময় তার সঙ্গে ফাতেমাও ছিলেন। ফাতেমা সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকেন।

এমনও হতে পারে, প্রধানমন্ত্রী যখন ফাতেমাকে নিয়ে কথা বলছিলেন তখন খালেদা জিয়া ফাতেমার দিকে তাকান। ফাতেমাও হয়তো তাৎক্ষনিক তাকিয়েছেন খালেদা জিয়ার দিকে।

এসময় ফাতেমা বিকেলের নাস্তা খালেদা জিয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলেন, ম্যাডাম আপনি ওসবে একদম কান দিবেন না। এমনিতেই আপনার শরীর ভালো না।

উত্তরে বেগম জিয়া বলেন, আসলেইতো আমার জন্য তোমাকে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ফাতেমা বলেন- ম্যাডাম, আপনি চিন্তা করবেন না। সব ঠিক হয়ে যাবে।

আমি রাজনীতি বুঝি না, আমি শুধু বুঝি আপনি আমার মালিক। আপনার পাশে সবসময় থাকতে চাই।

তবে কারাগারে ফাতেমা এবং খালেদা জিয়ার এই কথপকথনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি কোনো পক্ষ। যেহেতু খালেদা জিয়া কারাগারে বিটিভি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন সেহেতু তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেখবেন এটাই স্বাভাবিক। আর ফাতেমাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তাদের দুজনের মধ্যে একেবারেই কোনো কথা হয়নি সেটাও নিশ্চত করে বলা যাবে না।
Source:এমটি নিউজ/এপি/ডিসি

Read also:

হিন্দু শিক্ষককে হজের জন্য ৫০ দিন ছুটি!

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সনাতন ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষককে ৫০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে হজে যাওয়ার জন্য। তিনি গোপালগঞ্জের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র বিশ্বাস। গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই অদ্ভুত আদেশ জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, অরুণ চন্দ্র বিশ্বাস ভারতে ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শনের জন্য অবকাশকালীন ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে সৌদি আরবে হজে যাওয়ার ছুটি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মুরশিদা শারমিনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে ২৫ জুলাই থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত যেকোনো ৫০ দিন অথবা দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে ৫০ দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সরকারি কলেজ শাখা-৪ থেকে এই আদেশ জারি করা হয়। এরই মধ্যে আদেশটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও গত রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশের কপিটি ওয়েবসাইটে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে উপসচিব মুরশিদা শারমিনের সঙ্গে গত রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি মনে পড়ছে না। বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে জেনে আপনাকে জানাতে পারব।’ তবে অরুণ চন্দ্র বলেন, ‘আমি ১ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ভারতে ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শনের জন্য অবকাশকালীন ছুটির আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে হজে যাওয়ার জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। এটি সম্ভবত মন্ত্রণালয় ভুল করে দিয়েছে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ শাখা-৪ থেকে যে আদেশে অরুণ চন্দ্রকে ছুটি দেওয়া হয়েছে সেই আদেশেই নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কালেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাছিমা বেগমকেও ওমরাহ হজ পালনের জন্য ১ জুন থেকে ২১ জুন অথবা দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে ২১ দিন ছুটি মঞ্জুর করা হয়। এ বিষয়ে নাছিমা বেগম বলেন, ‘আমার আদেশের সঙ্গে অরুণ চন্দ্র বিশ্বাসকেও ছুটি দেওয়া হয়েছে। দুজনের একসঙ্গে আদেশ হলেও আমি তাঁকে চিনি না। আমি মনে করেছি, হয়তো তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।’

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>