Published On: Thu, May 3rd, 2018

জানেন, এক বছর মাংস খাওয়া ছেড়ে দিলে কী হবে?

মানুষের খাদ্যতালিকায় সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য হচ্ছে মাছ-মাংস-ডিম। এমন অনেকেই আছেন যারা মাছ-মাংস ছাড়া খেতেই পারেন না।

আচ্ছা ভাবুন তো মাংস-প্রেমী মানুষদের যদি একবছর মাংস না খেয়ে থাকার কথা বলা হয় তাহলে নিশ্চয়ই তিনি আঁতকে উঠবেন। কিন্তু এক বছরের জন্য যদি কেউ মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন তাহলে তার ফলাফল হবে অবিশ্বাস্য। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন বিস্তারিত-

১) এক বছরের জন্য কোনও ব্যক্তি যদি মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন তাহলে গড়ে তার ওজন ১০ কেজি কমে যাবে। শুধুমাত্র শাক-সবজি জাতীয় খাবার ডায়েটে রাখলে এবং মাংস না খেলে ব্যায়ামের নিয়ম পরিবর্তন না করেই ওজন কমানো সম্ভব।

২) কোলেস্টেরল, রক্তচাপ, হৃদরোগের সম্ভাবনাও অনেক হ্রাস পাবে। শাক আহারী ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্ত রোগের সম্ভাবনা কম দেখা দেয়।

৩) মাংস প্রেমীদের তুলনায় ভেজিটেরিয়ানদের মধ্যে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা অনেক কম দেখা যায়। আবার যারা প্রক্রিয়াজাত মাংস বেশি খান, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৪) ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন মাংসের মধ্যে দুই ধরণের শ্রেণিবিভাগ করেছিল।
তা হলো প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অন্যান্য মাংস। বেকন, সসেজ, সালামি প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাত মাংস স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে ক্যানসারও হতে পারে। আর রেড মিট খেলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।

৫) এছাড়া যারা মাংস খান তাদের মধ্যে গাট ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্তদের সংখ্যা অনেক বেশি।

Read also:

দ্বন্দ্ব-কোন্দল ভুলে সক্রিয় হচ্ছেন বিএনপির নিষ্ক্রিয় নেতারা

খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা দ্বন্দ্ব-কোন্দল ও ক্ষোভ-বিক্ষোভ ভুলিয়ে দিয়েছে বিএনপির অনেক নেতাকে। চেয়ারপারসনের জামিন বিলম্ব নেতাদের নিয়ে আসছে ঐক্যের এককাতারে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি  সময় ক্ষমতার বাইরে থাকলেও দলটিতে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ব্যাপক।

জেলা থেকে তৃণমূল পর্যায়ে বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে দ্বন্দ্ব-কোন্দল। পাশাপাশি সাংগঠনিক অতিমূল্যায়ন ও অবমূল্যায়নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের মাত্রাও কম নয়। কিন্তু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতের সাজা ও তাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা নেতাকর্মীদের ভুলিয়ে দিয়েছে পাওয়া-না পাওয়ার সব হিসাব-নিকাশ।

মুছে দিয়েছে সকল দূরত্ব। উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বের ঘটনা উল্টো সাংগঠনিকভাবে শাপেবর হয়েছে বিএনপির। দীর্ঘদিনের রাগ-ক্ষোভ ও মান-অভিমানে নিষ্ক্রিয় বিএনপি নেতারাও দলীয় কর্মসূচিতে হচ্ছেন সক্রিয়।

ওয়ান ইলেভেনের পর কথিত সংস্কারপন্থি নেতাদের বিষয়ে দলের কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় বড় একটি অংশ এখনও নিষ্ক্রিয় রয়েছে। আবার দলে সঠিক মূল্যায়ন না পেয়ে নীরবে দূরে সরে গেছেন বহু নেতা। দলের শীর্ষ নেতাদের বিমাতাসুলভ আচরণ, অরাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সর্বোপরি সিন্ডিকেট নির্ভর কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়েই এসব নেতা রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন।

দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে পদাবনতি হয়েছে মনে করে রাগে-ক্ষোভে দলের সকল কর্মসূচি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন অনেকেই। তবে তাদের অনেকে খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডকে কেন্দ্র করে রাগ-দুঃখ ভুলে রাজপথে নেমেছেন। কিশোরগঞ্জ জেলার সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বেশ কয়েক বছর দলের বাইরে। সিনিয়র নেতাদের কড়া ভাষায় সমালোচনার কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে সক্রিয় হন সাবেক এ এমপি। এখন প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে তাকে আগেভাগেই দেখা যায়। ২০০৯ সালে জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দলে বহিষ্কার হয়েছিলেন চাঁদপুরের নেতা ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ হান্নান। কিন্তু খালেদা জিয়া আর দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা। সহযোগিতা করছেন নির্যাতিতদের। ভূমিকা পালন করছেন প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে মূল্যায়িত হননি বলে এতদিন নিজেদের আড়াল করে রেখেছিলেন এমন অনেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা একসময় খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে অবমূল্যায়নের শিকার হয়ে রাজনীতিতে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

পদ হারিয়ে সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, সহপ্রচার সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগকারী শামীমুর রহমান শামীম, সহ-মানবাধিকার সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগকারী সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়াও মান-অভিমান ভুলে দলীয় কর্মসূচিতে এখন পুরোমাত্রায় সক্রিয়। পদবঞ্চিত ছাত্রনেতা সাইদ ইকবাল টিটু, বেনজীর আহমেদ টিটো, তরুণদের মতো অনেকেই সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন।

তবে সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে যারা সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, কর্মী-সমর্থকদের ওপর প্রভাব রাখেন কিন্তু দলে পদ-পদবি না পেয়ে অনেকেই এখনও নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আক্কাস নাদিম, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, মোস্তফা খান সফরী, আনোয়ারুল হক রয়েল, গোলাম হাকিম মঈন, আবু সাঈদ, জাকির হোসেন, আবদুল কুদ্দুসসহ অনেকেই।

দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতা তাদের হাত ধরে উঠে এলেও তাদের মূল্যায়ন হয়নি। দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, পদ-পদবি বঞ্চিত, নিষ্ক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন পাওয়ার একটি বড় সুযোগ এখন। যারা সক্রিয় হবেন তারা মূল্যায়িত হবেন, যারা নিষ্ক্রিয় থাকবেন তারা হারিয়ে যাবেন। দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, স্থানীয় পর্যায়ের বিভেদগুলো মিটিয়ে ফেলতে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে তাগিদ দেয়া হয়েছে স্থানীয় নেতাদের।

ওয়ান ইলেভেনের সময় বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে দলের সংস্কারপ্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন দলটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি। দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকলেও অন্য কোনো দলে যোগ দেননি। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দীর্ঘদিন দেনদরবারের পর শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে সবুজ সংকেত পেয়েছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান আইনি জটিলতার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন নগর বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ। পরে মোরশেদ খানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ২০১২ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি দল থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। দীর্ঘ ৫ বছর বিরোধ মিটিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে সবুজ সংকেত পেয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার হয়েছে। অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গসহ সাংগঠনিক নানা কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতারাও ফিরতে চাইছেন দলে। এজন্য তারা নানা ফোরামে আলাপ-আলোচনাসহ মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করছেন। নিজেদের ভুল স্বীকার করে কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসায় বাসায় ছুটছেন। পোস্টারিং করছেন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে।

দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন ঐক্যের মনোভাবে আশান্বিত দলটির শীর্ষনেতৃত্ব। বিএনপি দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে কঠিন ক্রান্তিকালে পড়েছে বিএনপি। সেই সঙ্গে দলের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা। এরশাদ আমলে সিনিয়র নেতাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চাপে ও লোভে পড়ে দল ছেড়েছিল। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী অসাংবিধানিক সরকারের আমলেও চাপে পড়ে অনেক নেতাই সংস্কারপন্থি সেজেছিলেন।

এবার বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে আইনি জটিলতায় ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছেন নেতারা। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে একটি শব্দ উচ্চারণ করছেন না কোনো নেতা। এমনকি কোন রহস্যময় আচরণও নেই নেতাদের। কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সবাই একাট্টা। লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি সবার আনুগত্যও প্রশ্নহীন। দলের বহিষ্কৃত এবং নানা কারণে নিষ্ক্রিয় নেতারাও প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন দলে ফেরার।

অন্যদিকে ওয়ান ইলেভেনের সময় তৎকালীন মহাসচিব সংস্কারপন্থী আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন কয়েকজন সাবেক এমপি। আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার না হলেও অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বিএনপির রাজনীতিতে। বিগত এক দশকের বিভিন্ন সময়ে সংস্কারপন্থি এসব নেতা ডালপালা ছড়িয়েছে নানা গুজব। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সরকারের তরফে তাদের অনেকের সামনেই এসেছিল টোপ।

চাপের মুখেও পড়েছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু অন্য কোনো দলে যোগদান, সরকারের সহায়ক হিসেবে যুক্ত হননি বিএনপি বিরোধী কোনো তৎপরতায়। তারই ফল হিসেবে কয়েকজন সংস্কারপন্থি নেতাকে দলে ফিরিয়েছে বিএনপি। অন্যরাও অপেক্ষা করছে ঘরে ফেরার।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার কারাজীবন দীর্ঘায়িত করে, নির্বাচনে লড়তে আইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দলে ভাঙন ধরানোর একটি সরকারি তৎপরতা রয়েছে। দলের কিছু নেতাকে নির্বাচনে নিয়ে একতরফা নির্বাচনকে বৈধ ও বিএনপিকে চূড়ান্তভাবে বিপর্যয়ের খাদে ফেলতে চায় সরকার। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হচ্ছে নেতাকর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য।

একদিকে দলের নেতারা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন, অন্যদিকে নিষ্ক্রিয় নেতারা সক্রিয় হচ্ছেন। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার পক্ষে নানা ফোরামে কথা বলছেন ওয়ান ইলেভেনের সংস্কারপন্থি নেতারা। পরোক্ষভাবে নানা কাজে দলের নেতাকর্মীদের সহায়তাও করছেন তারা। দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সরকারের বিরুদ্ধে দুই জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টাও সাহস দিচ্ছে তাদের।

অন্যদিকে বহিষ্কারসহ নানা কারণে যেসব নেতা দীর্ঘদিন ধরে দলে কোণঠাসা রয়েছেন তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। যাতে তাদেরকে দিয়ে নতুন কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ করতে না পারে সরকার। বিএনপির নীতি নির্ধারকরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে বিএনপিতে ভাঙন ধরানো সহজ হবে না।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>