Published On: Thu, May 3rd, 2018

জানতে চাইলে দেখুন কেন কলা না খেয়ে খাবেন কলার খোসা

কলার মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ—এটি প্রায় সবারই জানা। তবে আপনি জানেন কি, কলার খোসাতেও রয়েছে অনেক পুষ্টি? কলার খোসা খেলে বাজে কোলেস্টেরল কমে, চোখ ভালো থাকে। এ ছাড়া এটি হজম প্রক্রিয়াতেও সাহায্য করে।
বিজনেস ইনসাইডার, বিটজজিভেগান, মেট্রো ওয়েবসাইট জানিয়েছে কলার খোসা খাওয়ার উপকারের কথা।

১. কলার খোসার মধ্যে রয়েছে ট্রাইপটোফেন। এটি একটি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড। এটি মস্তিষ্কের সুখী হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে।
২. কলার খোসার মধ্যে রয়েছে সলিউবল ও ইনসলিউবল আঁশ। গবেষণায় বলা হয়, সলিউবল আঁশ শরীরের লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন, অর্থাৎ বাজে কোলেস্টেরলকে কমাতে সাহায্য করে।
৩. কলার খোসার মধ্যে থাকা আঁশ হজমে সাহায্য করে। এটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। এটি খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৪. এর মধ্যে থাকা ভিটামিন-সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৫. কলার খোসার মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম। এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এর মধ্যে থাকা ম্যাগনেশিয়াম শরীরে শক্তির জোগান দেয়।
৬. এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৭. এতে রয়েছে লুটেইন, যা চোখের ছানি প্রতিরোধ করে। চোখকে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখে।
কীভাবে খাবেন কলার খোসা
কাঁচা কলার খোসা সেদ্ধ করে ভর্তা করে বা সবজির  মতো রান্না করে খেতে পারেন। এ ছাড়া খোসাকে কাঁচাও খাওয়া যায়। তবে খাওয়ার আগে কলাকে ভালোভাবে পাকার জন্য সময় দিন এবং খোসাকে পাতলা হতে দিন। তখন এটি কিছুটা মিষ্টি হবে এবং খেতে ভালো লাগবে। পাকা কলার খোসা খেলে খোসার ভেতরের সাদা দিকটি খাবেন। তবে অনেকে পাকা কলার খোসাও খাওয়ার আগে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নেয়।

কলার খোসা খাওয়া নিয়ে কিন্তু অনেক বিতর্কও রয়েছে। করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড লেভিটস্কি বলেন, মানুষ সব সময় জাদুকরি খাবার খোঁজে। খাবার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে এটি কোনো কিছুর জাদুকরি উত্তর নয়। কলার খোসার মধ্যে অনেক স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। তবে এটি যদি হজম করতে পারেন, তখনই খাওয়া ভালো।
বর্তমানে বাজারের অধিকাংশ ফলেই পেস্টিসাইড ব্যবহার করা হয়। এটি দেহের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। তাই যদি কলার খোসা খেতেই চান, তাহলে এতে যেন পেস্টিসাইড বা কীটনাশক না থাকে—সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

Read also:

পাইলসে ভুগছেন – তবে সারিয়ে তুলুন এক নিমিষেই… টিপসটি জেনে নিন

পাইলস বা হেমোরয়েড খুব পরিচিত একটি রোগ। প্রায় ঘরে এই রোগ হতে দেখা দেয়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫% মানুষ এই রোগে ভুগে থাকেন।বিশেষত ৪৫ থেকে ৬৫ বয়সী মানুষেরা এই রোগে বেশি ভুগে থাকেন। বর্তমান সময়ে সব বয়সী মানুষের এই রোগ হতে দেখা দেয়। মলদ্বারে যন্ত্রণা, রক্ত পড়া, মলদ্বার ফুলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি পাইলসের সাধারণ সমস্যা।

পারিবারিক ইতিহাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, কম ফাইবারযুক্ত খাবার, স্থূলতা, শারীরিক কার্যকলাপ, গর্ভাবস্থায়, এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকা ইত্যাদি কারণে পাইলস দেখা দেয়।

সাধারণত ওষুধ, অপারেশন পাইলসের চিকিৎসা হয়ে থাকে। এর সাথে কিছু ঘরোয়া উপায় এই সমস্যা সমাধান করা যায়।

১। বরফ ঘরোয়া উপায়ে পাইলস নিরাময় করার অন্যতম উপায় হল বরফ। এটি রক্তনালী রক্ত চলাচল সচল রাখে এবং ব্যথা দূর করে দেয়। একটি কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ পেঁচিয়ে ব্যথার স্থানে ১০ মিনিট রাখুন। এটি দিনে কয়েকবার করুন।

২। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার একটি তুলোর বলে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার লাগিয়ে ব্যথার স্থানে লাগান। শুরুতে এটি জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করবে, কিছুক্ষণ পর এই জ্বালাপোড়া কমে যাবে।

এটি দিনে কয়েকবার করুন। অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডের জন্য এক চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে নিন। এটি দিনে দুইবার পান করুন। এরসাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

৩। অ্যালোভেরা বাহ্যিক হেমোরয়েডের জন্য অ্যালোভেরা জেল আক্রান্ত স্থানে ম্যাসাজ করে লাগান। এটি জ্বালাপোড়া দূর করে ব্যথা কমিয়ে দেবে।

আভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডের ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা পাতার কাঁটার অংশ কেটে জেল অংশটুকু একটি প্ল্যাস্টিকের প্যাকেটে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। এবার এই ঠান্ডা অ্যালোভেরা জেলের টুকরো ক্ষত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এটি জ্বালাপোড়া, ব্যথা, চুলকানি দূর করে দেবে।

৪। অলিভ অয়েল প্রতিদিন এক চা চামচ অলিভ অয়েল খান। এটি দেহের প্রদাহ হ্রাস করে এবং মোনোস্যাচুরেটেড চর্বি উন্নত করে থাকে। এছাড়া কিছু বরই পাতা গুঁড়ো করে অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে নিন। এটি আক্রান্ত স্থানে ম্যাসাজ করে লাগান। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

৫। আদা এবং লেবুর রস ডিহাইড্রেশন হেমোরয়েডের অন্যতম আরেকটি কারণ। আদাকুচি, লেবু এবং মধু মিশ্রিত জুস দিনে দুইবার পান করুন। এটি নিয়মিত পান করুন। এটি শরীর হাইড্রেটেড করে পাইলস দূর করে দেয়। এছাড়া দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন।

তবে পাইলসের সবচেয়ে ভালো ট্রিটমেন্ট রয়েছে হোমিওতে। তাই এই রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করতে রেজিস্টার্ড একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>