Published On: Thu, May 3rd, 2018

তাসফিয়া হত্যাকারী আদনান সম্পর্কে বেড়িয়ে আসল ভয়ঙ্কর তথ্য, এই বয়সেই…

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের তাসফিয়া হত্যা ঘটনার সন্দেহের তীর এখনও আদনান মির্জার দিকেই রয়েছে। রহস্যের বাতাস কোন দিকে দোলে তা এখনও বুঝা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক তদন্তে বিকৃত এক কিশোর সমাজের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।

জানা যায়, স্কুল ছাত্রী তাসফিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রেমিক আদনান মির্জাকে আটক করেছে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। ঘটনার ১৫ ঘন্টা পর নগরীর মুরাদপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা পুলিশ। আটক আদনান মির্জা চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার পদুয়া এলাকায় ব্যবসায়ী ইসকান্দর মির্জার ছেলে। আদনানের বাসা নগরীর দক্ষিণ খুলশীর মুরগী ফার্ম এলাকার জালালাবাদ আবাসিকের রয়েল পার্ক বিল্ডিংয়ে। এদিকে আদনানকে আটকের পর পতেঙ্গা থানা পুলিশের কাছে আদনান স্বীকার করেন, সে ফেসবুক ভিত্তিক ‘গ্যাংস্টার রিচ কিডস গ্রুপ’র প্রধান।

আদনানের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পতেঙ্গা থানার ওসি তদন্ত গাজী মো. ফৌজুল আজিম বলেন, তাসফিয়া ও আদনান আগে একই সাথে সানসাইন স্কুলে পড়ত। তখন তাদের সাধারণ চেনা-জানা ছিলো। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকে আদনান বাংলাদেশ এ্যালিমেন্টারি স্কুলে ভর্তি হয়। ভিন্ন স্কুলে আদনান পড়াশুনা করলেও গত একমাস ধরে আদনানের সাথে তাসফিয়ার যোগাযোগ বেড়ে যায়, যা অনেকটা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। বিষয়টি তাদের পরিবারও জানে। গত তিন দিন আগে এ নিয়ে আদনান ও তাসফিয়াকে শাসায় তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন। এরপরও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এমনকি তাসফিয়ার ফেসবুক আইডিও বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরও তাসফিয়া তার ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগ করে আদনানের সাথে। গত মঙ্গলবার বিকেলে তাসফিয়া বাসায় কিছু না বলে আদনানের সাথে বের হয়ে যায়। এরপর আর বাসায় ফিরেনি। এ নিয়ে সন্ধ্যায় আদনানকে কল দেয়া হলে তিনি তাসফিয়ার বাবার সাথে দেখা করেন। সেও তাসফিয়ার বাবার সাথে তাসফিয়াকে খোঁজাখুজি করেন। পরে রাত ১০ টার পর থেকে আদনান নিজের মোবাইল বন্ধ করে সরে যায়। পরদিন বুধবার (২মে) সকালে তাসফিয়ার লাশ পতেঙ্গা সী বিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর দুপুরে নগরীর মুরাদপুর থেকে আদনানকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে বুধবার রাতে আদনানকে পতেঙ্গা পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আদনান জানান, সন্ধ্যায় নগরীর গোলপাহাড় মোড়ের চায়নাগ্রিল রেষ্টুরেন্টে তাসফিয়াকে নিয়ে নাস্তা করার পর তাসফিয়া একটি সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় তাসফিয়া বলেন, ও আর নিজাম রোডের ৫নং সড়কে তাসফিয়ার এক বান্ধবীর বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাবেন। এরপর থেকে সে আর কিছুই জানে না।

তবে অন্য তাসফিয়ার পারিবারিক সূত্রের অভিযোগ, আদনান দীর্ঘদিন ধরে ‘রিচ কিডস’ নামের কিশোর অপরাধ গ্রুপের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাসফিয়া যে সিএনজি অটোরিক্সাতে উঠে তার পেছনে ছিল দুটি মোটর সাইকেলসহ চার যুবক। এ চারজন যুবক আদনানের গ্রুপের সদস্য। আদনানের সাথে তাসফিয়ার সম্পর্ক তার পরিবার মেনে না নেওয়ায় আদনানই তার গ্রুপের সদস্যদের হাতে তুলে দেন তাসফিয়াকে। পরে নিজের দোষ আড়াল করতে ওইদিন রাত ১০টা পর্যন্ত তাসফিয়ার পরিবারের সাথে থেকে তাসফিয়াকে খুঁজতে থাকে। রাত ১০টার পর আদনান তাসফিয়ার পরিবার থেকে সরে গিয়ে নিজের মোবাইল বন্ধ রাখে। পরদিন পুলিশী অভিযানে সে আটক হয়।

এসব বিষয়ে তাসফিয়ার চাচা নুরুল আমিন জানান, আদনানের চরিত্র আগে থেকে খারাপ আমরা জানতে পারি। তাকে গত এক সপ্তাহ ধরে অনেক বুঝানো হয়েছে। এরপরও সে তাসফিয়ার পিছু ছাড়েনি। সে রিচ কিডস নামের ওই গ্রুপের সাথে জড়িত সেটা আমরা আগেও শুনেছি। তাসফিয়া সিএনজি অটোরিক্সাতে উঠার পর তার পেছনে অনুসরণ করতে থাকা দুইটি মোটরসাইকেলে চার যুবক কারা, এ তথ্য বের হলেই আসল ঘটনা জানা যাবে বলে তিনি জানান।

নুরুল আমিন আরো জানান, তাসফিয়ার ময়না তদন্ত শেষে তার বাবা তাসফিয়ার লাশ গ্রহণ করবেন। তিনি আদনানের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য বের করে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

Read also:

যে ১০ লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার হার্টের সমস্যা আছে

শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমাদের হৃদযন্ত্র। যতদিন হৃদপিণ্ড সচল আছে ততদিন আমরাও সুস্থ আছি। কিন্তু হৃদযন্ত্রের সমস্যা হলেই বিপদ। তাই সমসময় চেষ্টা করুন হৃদপিন্ডকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে। আজকালকার দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া বা হৃৎযন্ত্রের সমস্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছে।

তার কারণ যেমন জীবনধারা, দুশ্চিন্তা, উত্তেজনা তেমনই হৃদযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণগুলি এড়িয়ে যাওয়া। বিভিন্ন সমীক্ষায় ধরা পড়েছে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা এবং হৃদরোগের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মহিলাদের তাই বেশি করে নিজেদের শরীরের যত্ন নেওয়া উচিত। তাহলে আসুন ঝটপট দেখে নিই কোন কোন লক্ষণগুলি দেখলে আপনি বুঝবেন আপনার হৃদযন্ত্র সমস্যায় রয়েছে।

ক্লান্তি : খুব একটা খাটুনি না গেলেও আপনি কী ক্লান্তি অনুভব করেন? যদি দিনের বেশিরভাগ সময়ে নিজেকে ক্লান্ত বলে মনে হয় তাহলে বুঝবেন আপনার হৃদযন্ত্রের সমস্যা হচ্ছে। তাই যদি অযথাই ক্লান্ত বোধ করেন সময় নষ্ট না করে চিকিতসকের পরামর্শ নিন।

হাত-পা ফুলে যাওয়া : পা বা হাত মাঝে মধ্যেই ফুলে যাচ্ছে? এটাও কিন্তু হৃদপিণ্ডের সমস্যার একটা লক্ষণ। হৃদপিন্ডের সাহায্যে স্বাভাবিক রক্তচালনায় বাধা পায় তাহলে তা ধমণীর মধ্যে জমতে থাকে এবং শরীরকে ফুলিয়ে দেয়। আবার যদি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় তাহলে ফোলা ভাবটা কমে যায়।

বুকে ব্যাথা : হৃদযন্ত্রের সমস্যার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বুকের বাঁদিকে মাঝে মাঝেই ব্যথা হওয়া। অনেকে আছেন বুকে ব্যথা হলে গ্যাস অম্বলের থেকে এই ব্যথা হয়েছে বলে বিষয়টা অদেখা করে দেন। ফলে সমস্য়া আরও বাড়ে। বারবার এভাবে বুকে ব্যথা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন, এবং ইসিজি করিয়ে দেখে নিন হৃদযন্ত্রের কোনও সমস্যা নেই তো।

শ্বাসকষ্ট : শ্বাসকষ্ট হচ্ছে হার্টের সমস্যার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ যা অনেকসময়ই মহিলারা এড়িয়ে যান। এর কারণ হতে পারে হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করছে না ফলে শরীরে অক্সিজেনের অভাব হচ্ছে শরীরে। তাই সময় নষ্ট না করে আজই চিকিতসকের পরামর্শ নিন।

তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব : ভালমতো ঘুম হওয়া সত্ত্বেও কোনও কারণ ছাড়াই আপনার যদি সারাক্ষণ ঘুম ঘুম পায় তাহলে বুঝবেন হৃদযন্ত্রে সমস্যা হচ্ছে। ডাক্তারের ক্লিনিক যাওয়ার আপনার সময় এসে গিয়েছে।

হজমের সমস্যা : হার্টের একাধিক সমস্যা থাকলে হজমের সমস্যা দেখা যায়। হাজারো টোটকা, বা ওযুধেও যদি সমস্যা না কমে তাহলে বুঝবেন হৃদপিণ্ড স্বাভাবিক রক্তচলাচলে বাধা দিচ্ছে, আর তাই হজমের সমস্যা হচ্ছে।

বেশিক্ষণ হাঁটতে না পারা : ৫ মিনিট হাঁটলেই কী আপনি ক্লান্ত হয়ে যান? শারীরিক কোনও কসরত করতে গেলেই মনে হয় এনার্জি শেষ? পায়ের শিরায় টান ধরে? এই সব লক্ষণই কিন্তু হৃদযন্ত্রের সমস্যার দিকে ইশারা করছে।

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন : অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে। সময় থাকতেই চিকিতসকের পরামর্শ নিন ও চিকিতসা শুরু করান।

অতিরিক্ত ঘাম : যদি পাখার তলায় বসে থাকা সত্ত্বেও ঘামে ভিজে যান তাহলে বুঝবেন হৃদযন্ত্রে নজর দেওয়ার সময় এসেছে। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর থেকে নুন ও জল বেরিয়ে যেতে থাকে, ফলে ক্লান্তি ও শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে যায়।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>