Published On: Thu, May 3rd, 2018

যেভাবে ১০ মিনিটেই দূর করা যায় ফরমালিন,জেনে নিন কাজে লাগবে।

কিন্তু এই মৌসুমী ফলে যে রয়েছে বিষ তা হয়তো অনেকেই জানেন না। অসাধু ব্যবসায়ীরাও নিজেদের লাভের জন্য ফরমালিনমুক্ত ফল বলেই বিক্রি করে থাকেন।কিন্তু ফলমূলে যে রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে যে ফেলে দিচ্ছে এ কথা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। মৌসুমী ফলের চেহারা দেখে আমরাও একপ্রকার বাধ্য হয়ে কিনে খাচ্ছি!

তবে একটু সচেতন হলে ফলমূল থেকে ফরমালিন অনেকটাই দূর করা সম্ভব। কীভাবে সম্ভব? একটু দেখে নিলে বুঝতে পারবেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিনেগার ও পানির মিশ্রণে ১৫ মিনিট ফল বা সবজি ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফরমালিনই দূর হয়।ভিনেগার না থাকলে ফল খাওয়ার আগে লবণ পানিতেও ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ফরমালিন দূর হবে অনেকখানি।বিশুদ্ধ পানিতে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়। ফরমালিন দেয়া মাছ লবণ মেশানো পানিতে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফরমালিনের মাত্রা কমে যায়। প্রথমে চাল ধোয়া পানিতে ও পরে সাধারণ পানিতে ফরমালিনযুক্ত মাছ ধুয়ে নিলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফরমালিন দূর হয়।
===================
স্নানের আগেই খেয়ে নেন কখনও-সখন‌ও? আপনার ধারণাই নেই, কী ঘটে যাচ্ছে শরীরে
স্নান করে খেতে বসাটাই বাঙালি সমাজের রীতি। শুধু বাঙালি কেন, সারা দেশে, বা বলা ভাল সারা পৃথিবীতেই কমবেশি এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। কিন্তু কখনও-সখনও অবস্থার চাপে কিংবা নিতান্ত আলস্যের বশে এর উল্টোটাও যে ঘটে না, তা নয়। অর্থাৎ আগে খেয়ে নিয়ে তার পর স্নানে যান আপনি। কিন্তু আপনার শরীরে ঠিক কী ঘটে, যখন খাওয়ার পরে আপনি স্নানে যান?

এই বিষয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যপত্রিকা ও হেলথসাইটের খোঁজখবর করলে দেখা যাবে, উঠে আসছে একটি অদ্ভুত তত্ত্ব। তাতে বলা হচ্ছে, স্নানের সময়ে আমাদের শরীরের উপরিভাগে যখন ঠান্ডা জল পড়ে, তখন সেই অংশের তাপমাত্রা আকস্মিক ভাবে হ্রাস পায়। মস্তিস্ক তখন চেষ্টা করে ত্বকের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ফিরিয়ে আনতে। সেই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য, ত্বকের দিকে প্রবাহিত হয় শরীরের রক্তের সিংহভাগ।

কিন্তু গৃহীত খাদ্য পরিপাকের জন্য পাকস্থলি এবং পাচনতন্ত্র সংলগ্ন অংশে রক্তের প্রয়োজন। অথচ ত্বকের দিকে অধিকাংশ রক্ত প্রবাহিত হয়ে যাওয়ায় পাচনতন্ত্রে রক্তের অভাব ঘটে। ফলে ব্যাহত হয় খাদ্য পরিপাকের কাজ। সোজা কথায়, হজমের গোলমাল দেখা দেয়।

তবে কি খাওয়ার পরে স্নান করতে হলে গরম জলে স্নান করাই যুক্তিযুক্ত? স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটগুলিতে বলা হচ্ছে, না, গরম জলে স্নান করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ সে ক্ষেত্রে গরম জলের সংস্পর্শে এসে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, এবং রক্তপ্রবাহগুলি স্ফীত হয়ে ওঠে। ফলে ত্বকের দিকে আরও বেশি পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে। পরিণাম— হজমের গোলমাল।

কিন্তু এই সমস্ত তত্ত্বের কি আদৌ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে কোনও? ‘ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড মেডিসিন’-এর গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজিস্ট ডাক্তার জোনাথন মার্শ তাঁর নিজস্ব ব্লগে জানাচ্ছেন, এই তত্ত্ব অংশত সত্য।

যদি খেয়ে উঠে দীর্ঘ সময় ধরে স্নান করা হয়, তা হলে রক্তের প্রবাহ ত্বকের অভিমুখী হয়ে ওঠে ঠিকই। সে ক্ষেত্রে খাবার হজমের সমস্যা দেখা দিতেই পারে। আবার যিনি খেয়ে উঠে স্নান করছেন, তিনি যদি বয়স্ক ব্যক্তি হন, কিংবা তিনি যদি কোনও রকম শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন, তা হলেও দেখা দিতে পারে হজমের গোলমাল।

তা হলে কী করা উচিত— স্নান করে খাওয়া, নাকি খাওয়ার পরে স্নান? ডাক্তার মার্শের ব্যাখ্যা, স্নানের পরে খাওয়াটা সর্বদাই স্বাস্থ্যসম্মত। নতুবা স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি কিছুটা থেকেই যায়।
==============================
জেনে নিন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায়গুলো
আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রাকৃতিক কোনো উপায় আছে কিনা? এর মূলে রয়েছে আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সঠিকভাবে কাজ করানো। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং পরজীবিদের মতো যেসব রোগজনক শক্তি আমাদেরকে অসুস্থ করে তোলে সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তির কাজ। এর পাশাপাশি দূষণ উপাদান এবং বিশেষ কিছু খাবার যেগুলো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাহীনতা জনিত রোগ-বালাই সৃষ্টি করে সেসবের বিরুদ্ধে লড়াই করারও এর একটি কাজ।

একটি স্বাস্থ্যকর দেহ গড়ে ওঠে মূলত একটি শক্তিশালি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে। বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে যেগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো ভালো মতো কাজ করতে সহায়তা করে। এর জন্য আপনাকে বিশেষ কিছু ধ্বংসাত্মক অভ্যাস এবং বিষাক্ত পদার্থ থেকে দূরে থাকতে হবে। আর এটা করা সম্ভব শুধু রোগও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়ক জীবনাচার অবলম্বন করার মাধ্যমেই। আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের দেহের স্বয়ংক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো শক্তিশালি করা যায়…..

এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অন্ত্রের মধ্যে শক্তিশালি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা। আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদি অ্যালার্জি, সচরাচর সংক্রমণ বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাহীনতা জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনার পরিপাকনালীর স্বাস্থ্য বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এখানেই আপনার দেহের ৮০% রোগপ্রতিরোধী কোষের বসবাস।

আমরা যদি অন্ত্রের স্বাস্থ্য শক্তিশালি করতে পারি তাহলেই আমরা কম অসুস্থ হব। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায়গুলো কী…..

১. প্রোবায়েটিক নিন
ল্যাকটোব্যাসিলাস এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়াম হলো এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকটেরিয়া পরিবার যেগুলো অন্ত্রে থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। প্রোবায়োটিক অন্ত্রে এসবকে আরো ভালোভাবে বেঁচে থাকতে সহায়তা এবং তার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো শক্তিশালি হয়।

২. ওষুধ কম খান
টানা এক সপ্তাহ ধরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ক্ষুদ্রান্ত্রের সেরে উঠতে সময় লাগে অন্তত তিন সপ্তাহ। সুতরাং ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ছাড়া অন্য কোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়াই ভালো। এতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালি হবে।

৩. এই সাপ্লিমেন্টগুলো নিয়মিতভাবে গ্রহণ করুন
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালি করতে সহায়ক বেশ কিছু ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে। এদের মধ্যে সবার সেরাগুলো হলো- জিঙ্ক, ভিটামিন কে এবং ভিটামিন সি পাউডার।

৪. শাল দুধ
স্তন্যপায়ী প্রাণিরা সন্তান জন্মদানের পর তাদের স্তন থেকে প্রথম যে দুধটুকু বের হয় তাকেই বলে শাল দুধ। এই দুধ প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি সমৃদ্ধ এবং ল্যাকটোফেরিনের মতো প্রদাহরোধী উপাদানে পূর্ণ। প্রাপ্ত-বয়স্করা এই দুধ খেয়ে সহজেই তা থেকে প্রদাহরোধী উপাদান শরীরে গ্রহণ করতে পারবেন এবং এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও আরো শক্তিশালি হবে। প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালি করার সবচেয়ে ভালো উপায়গুলির একটি এটি।

৫. হাড়ের জুস
অর্গানিক হাড়ের জুস খেলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থারা ওপর বেশ কয়েকটি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যালাটিন, কোলাজেন এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং রোগপ্রতিরোধী কোষগুলোকে আরো শক্তিশালি করে।

৬. মাশরুম
মাশরুমে রয়েছে সবচেয়ে শক্তিশালি ভাইরাসনাশক এবং ক্যান্সাররোধী উপাদানগুলোর বেশ কয়েকটি। ফলে তা রোগ প্রতিরোধী কোষগুলোর ব্যাকটেরিয়া নাশক ক্ষমতা বাড়ায়। আর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তশালি করার সেরা উপায়গুলোরও একটি এটি।

৭. সূর্যের আলো
রোগ প্রতিরোধী কোষগুলো ভিটামিন পেলে বেশ উদ্দীপিত হয়। আর ভিটামিন ডি-র সবচেয়ে বড় উৎস সূর্যের আলো। ভিটামিন ডি-র ঘাটতির কারণে বারবার ইনফেকশন এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাহীনতা জনিত রোগ হয় বেশি।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>