Published On: Thu, May 3rd, 2018

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পেঁপে ফুলের অলৌকিক ক্ষমতা

এক বৃদ্ধা প্রতিদিন তার বাড়ির পাশের কয়েকটি পেঁপে গাছের কাছে যান আর পেঁপের ফুলগুলো ছিঁড়ে নিয়ে আসেন। সেগুলো সবজির মতো রান্না করে খান। ছোটবেলা বিষয়টি খেয়াল করতে তার নাতী হোইনু হাউজেল। বড় হয়ে পেঁপের ফুলের রহস্য বের করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি জানতে পারেন, তার দাদীর ডায়াবেটিস ছিলো। পেঁপে গাছের ফুলগুলো তার দেহে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতো।

ওই বৃদ্ধা এমন বহু জিনিস ব্যবহার করতেন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য। রোগ নিরাময়ে এসব খাদ্যের কাজ বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন হলেও আসল ব্যাপরটি হলো, তা দারুণ কাজ করে। তা ছাড়া পুরনো মানুষদের ব্যবহার করা এসব বহু সবজি বা প্রাকৃতিক জিনিস পরবর্তীতে আধুনিক চিকিৎসার অ্যান্টিডোট হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। হাউজেলের দাদী সারা জীবন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং সুস্থভাবে বেঁচে ছিলেন। তার মায়েরও ডায়াবেটিস এবং তিনি দাদীর শেখানো খাদ্যদ্রব্যগুলো পথ্য হিসাবে খাচ্ছেন এবং দিব্যি ভালো আছেন।

এ বিষয়ে ‘নিউট্রি হেলথ’ এর মহাব্যবস্থাপক ড. শিখা শর্মা বলেন, পেঁপের ফুল বিষয়ে আমিও যথেষ্ট সচেতন। এটি আসলেই লিভারের সমস্যায় কাজ করে এবং ফুসফুসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। পেঁপে গাছের ফুলই নয়, পেঁপের সঙ্গে এর পাতাও কিন্তু পেকে যায়। এই তিনটি জিনিসই ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যকর উপাদানে ভরপুর।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, পেঁপে গাছের ফুল ভিটামিন এ, সি এবং ই-তে পরিপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর বিপাক ক্রিয়ার জন্য এটি ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারও বটে। আবার এতে ফোলেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এমন অবস্থায় থাকে যা দেহে কোলেস্টরেলের জারণক্রিয়াকে প্রতিহত করে। এমনকি অ্যাথেরোস্কেলোসিস, স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সরাসরি কাজ করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো ও ডায়াবেটিসের মাত্রা ঠিক রাখার জাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে এতে। শুধু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান নয়, পেঁপে গাছের গুণ সেই প্রাচীন মায়ান সভ্যতার মানুষরাও বুঝতে পেরেছিলেন। দক্ষিণ পূর্ব মেক্সিকো এবং সেন্ট্রাল আমেরিকার কিছু অংশে ‘ট্রি অব লাইফ’ গণ্য করে পূজো দেওয়া হতো পেঁপে গাছকে। এই গাছ থেকে পাতা, ফুল এবং পেঁপে খেয়ে তাদের রোগ ভালো হয়ে যেতো। তাই গাছটি সরাসরি ঈশ্বর দিয়েছেন বলে বিশ্বাস করতেন তারা। গুজব রয়েছে যে, এসব কারণেই ক্রিস্টোফার কলম্বাসের প্রিয় ফল ছিলো পেঁপে।

বিশেষ করে ডায়াবেটিসের রোগীরা পেঁপে ফুল খেয়ে দেখতে পারেন, এ পরামর্শ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান দেয়। হাউজেল তার দাদীর কাছ থেকে শেখা এই ফুল রান্নার পদ্ধতিও শিখিয়ে দিচ্ছেন আপনাদের।

পেঁপে ফুল যখন খাবার : এখানে পেঁপের ফুল ও পেঁপের এমন দুটো সাধারণ রেসিপি দেওয়া হলো। স্রেফ খাবার হিসাবে নয়, এগুলো রীতিমতো পথ্য হিসাবে খাওয়া হয়।

প্রথমে ফুলগুলো ছিঁড়ে আনতে হবে। এরপর তার পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুতে হবে। ধোয়ার পর পানি শুকিয়ে নিতেন হাউজেলের দাদী। এরপর একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে ফুলগুলো ভাজতেন। ফুলগুলো বেশ পরিপুষ্ট এবং টাটকা চেহারার থাকে। তেলে ছাড়ার পর যখন ফুলগুলো তার পরিপুষ্টভাব হারাবে তখন চুলো নিভিয়ে দিন। এতে লবণ বা হালকা গুলমরিচ মিশিয়ে এমনিতেই খেতে পারেন অথবা ভাতের সঙ্গেও নিতে পারেন। একেবারে সাদামাটা পদ্ধতিতে রান্না করা এই খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিস্ময়কর রকমের উপকারী। এতে হালকা তেতো স্বাদ রয়েছে যা খেতে ভালো লাগে।

আরেকটি রেসিপি যা আদতে পেঁপের সালাদ বলা যায়। পেঁপে এমন একটি ফল যা কাঁচা বা পাকা উভয় অস্থাতেই সমান উপকারী। আমাদের দেশেও নানা পদ্ধতিতে এটি রান্না করা হয়। ভারতের মণিপুরী এবং থাইল্যান্ডে এই সালাদ জনপ্রিয় পথ্য।
যা লাগবে-
১. মাঝারি আকারের একটি কাঁচা পেঁপে,
২. ২ টেবিল চামচ তিল,
৩. ২-৩টি বা প্রয়োজন মতো কাঁচা মরিচ,
৪. রোদে শোকানো অথবা প্রক্রিয়াজাত মাছ,
৫. প্রয়োজন মতো লবণ এবং
৬. প্রয়োজন মতো ধনের পাতা।

এটি তৈরির পদ্ধতি একেবারে সহজ। পেঁপে ছিলে নিয়ে পানিতে বার বার ধুয়ে নিন। ছোট ছোট স্লাইস করুন। মরিচ এবং মাছ বেঁটে নিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টে লবণ ও তিল মিশিয়ে নিন। এবার একটি গামলায় সব মিশিয়ে নিয়ে সালাদটি উপভোগ করুন।-

Read also:

৩০’র পর সৌন্দর্য ধরে রাখতে যে ৫টি কাজ নিয়মিত করবেন

সৌন্দর্য ধরে রাখতে – বয়সের তুলনায় একটু তরুণ দেখানোর জন্য সকলেই নানা ধরণের পদ্ধতির অবলম্বন করে থাকেন। চেহারার বয়সের ছাপ কিংবা দেহে আসা একটু-আধটু বার্ধক্য ঢাকার জন্য চেষ্টা করছেন আজকাল?

কিন্তু বয়সের ছাপ দূর করা কি এতোই সহজ? মোটেও নয়।

তার চেয়ে বরং ত্বকে এবং দেহে বয়সের ছাপ পড়তে না দেয়াটাই কি বুদ্ধিমানের কাজ। চলুন আজকে দেখে নেয়া যাক শরীর ও ত্বকে তারুণ্য ধরে রাখতে কী কী কাজ করতে হবে আপনাকে।

সৌন্দর্য ধরে রাখতে
ধূমপান ও মদ্যপান করবেন না একেবারেই
ধূমপান এবং মদ্যপানের কারণে আপনার ত্বকে এবং দেহে খুব সহজেই বার্ধক্য এসে ভর করে। নিকোটিন এবং অ্যালকোহল ত্বকের নিচের রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন বন্ধ করে দেয় সে কারণে ত্বকে বয়সের আগেই পড়তে থাকে বার্ধক্যের ছাপ। ত্বকের নানা সমস্যা সহ হলদেটে দাঁত ও নখ আপনাকে আরও অনেক বেশি বয়স্ক করে তোলে।

এবং আমাদের হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, লিভার সব কিছুর কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেলে। তাই ধূমপান ও মদ্যপান থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকাই ভালো।

নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগান ত্বকে
শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা বছরের কোনো সময়েই সানস্ক্রিন লাগানোর কথা ভুলবেন না কোনো ভাবেই। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি আমাদের ত্বকের সবচাইতে বেশি ক্ষতি করে।

এবং ত্বকে বয়সের ছাপ, রিংকেল, ত্বক ঝুলে পড়া এবং চোখের কোণে ফোলাভাবের জন্য প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে দায়ী সূর্যের রশ্মি। তাই বছরের প্রতিটা দিনেই বাসা থেকে বাইরে বেরুনোর আগে অবশ্যই ত্বকে সানস্ক্রিন লাগাবেন।

অতিরিক্ত চিনি খাওয়া বন্ধ করুন
চিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় এবং দেহের শিরাউপশিরায় বন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে দেহে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। চিনি আমাদের দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জন্য যতোটা খারাপ ঠিক ততোটাই খারাপ আমাদের ত্বকের জন্যও।

চিনির গ্লাইকেশন নামক উপাদান আমাদের ত্বকের কোলাজেন টিস্যুর মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। এতে ত্বক একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ত্বকের ইলাস্টিসিটি কমে যায় ও ত্বক ঝুলে পড়ে। তাই বেশি চিনি ও চিনিযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন
আজেবাজে খাবার, ফাস্ট ফুড, এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। দেহের জন্য প্রয়োজনীয় এবং স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়। হাড়ের সুস্থতার জন্য খান ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং দেহের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার। কলেস্টোরলের মাত্রা কমিয়ে রাখুন।

দেখবেন দেহে বার্ধক্য দেরিতে আসবে। ত্বকের জন্য ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার রাখুন খাদ্য রালিকায়। প্রচুর পানি পান করে দেহ ও ত্বককে হাইড্রেট রাখুন। দেখবেন দেহ ও ত্বকে ধরে রাখতে পারছেন তারুণ্য।

খুব বেশি মানসিক চাপ নেবেন না
মানসিক চাপ আমাদের মস্তিস্কের জন্য অনেক বেশি খারাপ তা আমরা সকলেই জানি। স্মৃতিশক্তি লোপ এবং চিন্তাশক্তি লোপের মতো রোগ মানসিক চাপ নেয়ার ফলেই হয়ে থাকে। এরই সাথে মানসিক চাপ আমাদের ত্বকের জন্যও অনেক বেশি ক্ষতিকর।

আমরা মানসিক চাপে থাকলে আমাদের দেহে যে কার্টিসোল নামক হরমোনের নিঃসরণ ঘটে তা আমাদের ত্বকের কোষ ভেঙে ফেলে ফলে বয়সের ছাপ পড়ে যায় দ্রুত। এছাড়াও মানসিক চাপের ফলে মাথার চুলের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে চুল সাদা হওয়া শুরু করে। তাই মানসিক চাপ নেয়া কমিয়ে ফেলুন।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>