Published On: Sat, May 5th, 2018

কাঁঠাল খেলে কি হয় জানেন ? যেনে নিন কাঁঠালের যত পুষ্টিগুণ।জানলে অবাক হয়ে যাবেন

ফলের রাজা আমাদের এই বাংলাদেশ।আমাদের দেশে নানা সময় নানা ফল পাওয়া জাই।আমাদের দেশে সব থেকে বেশি ফল পাওয়া যাই এই গরমের সময়ে।এখন নানা ধরণের ফল বাজারে দেখতে পাওয়া জাবে।তার মধ্য একটি গুরুত্ত পূর্ণ ফল হল কাঁঠাল।

আমাদের জাতীয় ফল হল কাঁঠাল। গ্রীষ্মকালীন রসালো এই ফল ইতোমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে। কাঁঠাল দামে ও সস্তা। আমাদের অনেকেই অনেক পছন্দের ফল।এটি খেতে সত্যি অনেক সুস্বাদু ।আমরা জানি যে একেক ফলের রয়েছে একেক পুষ্টিগুণ। প্রতিটি মৌসুমি ফলই শরীরের নানা রকম ভিটামিন ও খনিজের অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে। ঠিক তেমনি এই কাঁঠালের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন এ ।সুধু তাই নই এর রয়েছে আরও অনেক পুষ্টি গুন যা আজ আমরা একে একে বিস্তারিত আলোচনা করবো।কাঁঠালের উপকারিতা সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য শেয়ার করেছেন বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান-এর বিভাগীয় প্রধান ফারাহ মাসুদা। যা হইত আপনারা কেও ই জানেন না।

ফারাহ মাসুদা বলেন, “নানান পুষ্টিগুণে ভরপুর কাঁঠাল। কাঁঠালে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম,

ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এই সকল উপাদান আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি ভিটামিনের চাহিদাও পূরণ করে কাঁঠাল।” শিশু, কিশোর, কিশোরী এবং পূর্ণ বয়সী নারী-পুরুষ সব শ্রেণীর জন্যই কাঁঠাল খুবই উপকারী ফল। গর্ভবতী এবং যে মা বুকের দুধ খাওয়ান তাদের জন্য কাঁঠাল দরকারি ফল।

কাঁঠালে বিদ্যমান বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান কাঁঠালে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখে, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখে, ত্বক সুন্দর করতে সাহায্য করে।কাঁঠালে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ । পাকা কাঁঠালে ২১ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ১৪ মি.গ্রা এবং কাঁঠালের বীজে ১১ মি.গ্রা ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়, জানিয়েছেন ফারাহ মাসুদা।তিনি আরও বলেন, ভিটামিন ‘সি’ শরীরকে নানা রকম ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া এই ভিটামিনটি সর্দি-কাশি ও জ্বর প্রতিরোধ করে। এটি ত্বক, দাঁত ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখে। এছাড়াও ভিটামিন ‘সি’ এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে নানা রকম ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ।কাঁঠালে রয়েছে কিছু আয়রন যার পরিমাণ হল ০.৫ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ১.৭ মি.গ্রা এবং বীজে ১.৫ মি.গ্রা। চাহিদা অনুযায়ী আয়রন গ্রহণ করে পেটের অসুখ, সংক্রামক রোগ, যেমন— ম্যালেরিয়া, কৃমি, আলসার, রক্ত আমাশয় ইত্যাদি রো প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কাঁঠালে রয়েছে পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।আপনারা জানলে অবাক হবেন যে কাঁঠাল স্ট্রোকের ঝুঁকিও অনেকটা কমিয়ে দিয়ে থাকে।কাঁঠাল পেটের হজমে শক্তি অনেক গুনে বাড়িয়ে দিয়ে থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিহত করে।কাঁঠাল ত্বকের বলিরেখা বা বয়সের ছাপ কমাতে সহায়তা করে বলে জানালেন ফারাহ মাসুদা।কাঁঠাল কার্বোহাইড্রেটের একটি অন্যতম উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল থেকে ৪৮ কিলোক্যালরি, কাঁচা কাঁঠাল থেকে ৫৩ কিলোক্যালরি এবং কাঁঠালের বীজ থেকে ১৩০ কিলোক্যালরি পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়। তাই শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান কাঁঠাল থেকে পাওয়া সম্ভব বলে জানান ফারাহ মাসুদা।

কাঁঠালের শর্করা, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ দ্রুত শক্তির যোগান দেয়। এতে কোলেস্টেরল জাতীয় উপাদান না থাকায় যেকোনো বয়সের মানুষই কাঁঠাল খেতে পারেন।শরীরে ভিটামিন ‘এ’এর অভাব দেখা দিলে ত্বক খসখসে হয়ে যায়। শরীরের লাবণ্যতা হারিয়ে ফেলে এজন্য কাঁঠাল প্রতিরোধ করতে পারে। এ ছাড়া কাঁঠালের মধ্যে ভিটামিন ‘সি’ এবং কিছুটা ‘বি’ আছে। পাকা কাঁঠাল যেমন উপকার রয়েছে, তেমনি কাঁচা কাঁঠালও কম উপকারী নয়। কাঁচা কাঁঠাল আমিষ ও ভিটামিনসমদ্ধ তরকরি। পাকা কাঁঠালের বিচি বাদামের মতো ভেজে যেমন খাওয়া যায়, তেমনি তরকারি হিসেবেও খাওয়া যায় ।কাঁঠালে প্রচুর পরিমানে ক্যারোটিন পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে ৪৫০ মাইক্রোগ্রাম এবং বীজে ১০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন পাওয়া যায়।

লের রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধোক উপাদান।নিয়মিত কাঠাল খেলে ক্যান্সার এর মত মরণ ব্যাধির ঝুকি অনেক টা কমে জাই।তাই সকলেই উচিৎ এই ফল টি পর্যাপ্ত পরিমাণ খাওয়া কারন এই ফল টি তো আর সারা বছর পাউয়া যাই না তাই এই গ্রীষ্মে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাওয়ার চেষ্টা করুন।

আশাকরি এই পোস্ট টি পড়ে আপনাদের কাঁঠাল সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন।ধন্যবাদ সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে করণীয় – পায়খানা ক্লিয়ার হওয়ার উপায় কি?

অনেকেরই পায়খানা ক্লিয়ার না হলেই কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) এর লক্ষণ বলে চিন্তা করতে থাকেন এবং এটি দূর করার ঔষধ বা পায়খানা না হলে কি করা উচিত বা নিয়মিত পায়খানা হওয়ার উপায় হিসেবে কি কি করণীয়, এর জন্য খাবার এমনকি ব্যায়াম নিয়েও ভাবনা চিন্তা শুরু করেন অনেকেই।

জেনে রাখা ভালো – কোষ্ঠকাঠিন্য মানে শক্ত পায়খানা হওয়া বা প্রতিদিন পায়খানা না হওয়া। একেই সাধারণত আমরা কোষ্ঠকাঠিন্য বলে জানি। অসুখ বা উপসর্গ হিসেবে যতটা না মারাত্মক কোষ্ঠকাঠিন্য মানে অনেক বেশি অস্বস্তি। আসুন আজ জেনে নেই কোষ্ঠকাঠিন্য সম্পর্কে।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি ?
শক্ত ও পরিমাণে কম এবং সপ্তাহে তিন বারের কম পায়খানা হওয়া কে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। তবে বয়স, মল ত্যাগের অভ্যাস, মলের ধরনভেদে কোষ্ঠকাঠিন্য বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমনঃ যাদের দৈনিক দু বার মলত্যাগ হয় তাদের জন্য একদিন মলত্যাগ না হলে সেটাই কোষ্ঠকাঠিন্য। আবার যাদের মল এমনিতেই একটু নরম হয় তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি শুকনো মলই কোষ্ঠকাঠিন্য। শক্ত ও কঠিন মল ছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য হলে মলত্যাগে অনেক বেশি সময় এবং চাপ দেয়া লাগে। মলত্যাগের পরেও অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে। মলদ্বারের আশেপাশে ও তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি বোধ হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা পায়খানা না হওয়ার কারণ
কোষ্ঠকাঠিন্য কোন অসুখ ছাড়াই হতে পারে তবে কখনো কখনো কোন রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। এছাড়া এর সাথে খাদ্যাভ্যাস, লাইফ স্টাইল ও অন্যান্য বিষয় জড়িত। যেমনঃ

পরিবেশ পরিস্থিতি (যেমন অফিসে, ভ্রমণের সময়, অপরিচিত জায়গায়) অনুযায়ী সময়মতো মলত্যাগ না করে চেপে রাখার প্রবণতা।
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম না করা।
নিয়মিত ফাস্টফুড খাওয়া।
আঁশযুক্ত খাবার ও শাক সবজি না খাওয়া।
পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার কম খাওয়া।
গর্ভকালীন সময়ে, যাদের দুধ এবং দুধ জাতীয় খাবার হজমে অসুবিধা হয়, অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ-কফি।
অসুখ- স্ট্রোক, পারকিনসন্স ডিজিস, এক ধরনের ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমে, হাইপোথাইরয়েডিসম।
ওষুধ যেমন – ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, এলুমিনিয়াম সমৃদ্ধ ওষুধ, ব্যথানাশক, ডিপ্রেশনের ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, কফ সিরাপ।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে জটিলতা
দীর্ঘ দিনের কোষ্ঠকাঠিন্যে নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়, যেমনঃ অর্শ(পাইলস), ফিস্টুলা, এনাল ফিশার(মলদ্বারে ব্যথা), রেকটাল প্রলাপ্স(মলদ্বার দিয়ে কোন কিছু বের হয়ে আসা), প্রস্রাবের সমস্যা, ইন্টেসটিনাল অবস্ট্রাকশন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে যদি কখনো মলের সাথে রক্ত যায়, ওজন কমে যায় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, কারণ এটা অর্শ রোগ থেকে শুরু করে অন্ত্রের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে বমি, পেট ফুলে উঠা, তীব্র পেট ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের কাছে যত দ্রুত সম্ভব দেখা করতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে করণীয় বা পায়খানা ক্লিয়ার হওয়ার উপায় কি?
আপনি যদি চান কিছু নিয়ম কানুন পালন করেও কিছটা স্বস্তি পেতে পারেন। কিন্তু স্থায়ী ভাবে এই সমস্যা থেকে আরোগ্য লাভ করতে হলে অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে।

প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গরম পানি পান করতে পারেন।
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে প্রতিদিন বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।
তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া ও মাংস খাওয়া কমাতে হবে।
প্রতিদিন সকালে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া যেতে পারে। দেখা গেছে এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো ফল দিচ্ছে।
অধিক দুশ্চিন্তা কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি কারন। তাই দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।
অনেকে মনে করেন রুটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে কিন্তু আটা, বিশেষ করে লাল আটায় অধিক পরিমাণে আঁশ থাকে। তাই লাল আটায় কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই তবে পরোটার ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তাই অধিক পরিমানে পরোটা না খাওয়াই ভাল।
প্রতিদিন সময় করে কায়িক পরিশ্রম অথবা ব্যয়াম করতে হবে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক হতে পারে।
যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি মলত্যাগের আগে কিংবা পরে রক্ত আসে অথবা মলের সঙ্গে রক্ত লেগে থাকে, এরকম ক্ষেত্রে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে চিকিৎসা
প্রচুর পানি(২ লিটার), তরল জাতীয় খাবার, গরম দুধ গ্রহণ। বেশি করে শাক সবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া। নিয়মিত ব্যায়াম এবং হাঁটা চলা করা। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধকারী খাবার যেমন ইসবগুলের ভুষি, বেল, পেপে, আলুবোখারা, কিসমিস, সিমের বিচি, বাদাম খাওয়া। দিনের এক বা একাধিক নির্দিষ্ট সময়ে মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তোলা।

তবে যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে চান তাহলে আপনাকে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। তাহলে এই সমস্যা থেকে স্থায়ী ভাবে মুক্তি পেতে পারেন।

হোমিওপ্যাথিতে কোষ্ঠকাঠিন্য নির্মূলের জন্য অনেক উন্নত ঔষধ রয়েছে যেগুলি পার্শপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। যত দিনের যত পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্যই হোক না কেন – অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে যথাযথ চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>