Published On: Sat, May 5th, 2018

একেক রংয়ের পানির বোতল একেক কাজ করে

বাইরে যাদের দৌড়াদৌড়ি বেশি তাদের সঙ্গে একটা পানির বোতল থাকা জরুরি। এমনকি অফিসের টেবিল বা বাসার জন্যেও পানির বোতল কেনা হয়। বাজারে বা সুপারশপে পানির বোতল কিনতে গেলে মনটাই ভালো হয়ে যায়। এতো বাহারি রং বা ডিজাইনের বোতলগুলো দেখতেই ভালো লাগে। যার যার পছন্দের রংয়ের বোতল কিনতে পারেন। আমরা সবাই ভাবি, একেক রংয়ের বোতল তৈরি করা হয় কেবল পছন্দের রংটি যেন মেলে তার জন্যে। আসলে নেপথ্যে আছে ভিন্ন বিষয়।

পানির বোতলের ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের কিন্তু ভিন্ন কাজ রয়েছে। একেক রংয়ের বোতল সূর্যের আলো থেকে নির্দিষ্ট রংয়ে সঞ্চিত শক্তি শুষে নেয় যাকে বলে ভাইব্রেশনাল এনার্জি। এ প্রক্রিয়াকে বলে ‘সোলারাইজিং’ বা ‘এনার্জাইজিং ওয়াটার’। অর্থাৎ, সূর্যের আলোতে যে রং রয়েছে তার থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ভেতরের পানিতে বাড়তি শক্তি যোগ করে বোতলের রং। একেক রংয়ের বোতল কোনো নির্দিষ্ট রংয়ের শক্তি শুষে নেয়। এতে ভেতরের পানির বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। এভাবে একেক রংয়ের বোতলের ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি গোসলের জন্যে উপকারী পানি থেকে শুরু করে ওজন হ্রাসের পানি পর্যন্ত পেতে পারেন। যারা ওজন কমাতে চান তারা হয়তো জানেন না যে, বোতলের রং বদলেই আপনি ওজন হ্রাসের প্রক্রিয়াকে ত্বরাণ্বিত করতে পারেন।

কাজেই আপনার কাছে থাকে রঙিন বোতলের পানিটা আসলে সোলারাইজড পানি। এর সম্পর্কে আপনাকে কিছু ধারণা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

যেভাবে প্রস্তুত করবেন সোলারাইজড পানি 
যা লাগবে: একটি সাধারণণ কাচের গ্লাস। রঙিন ফিল্টার, রাবার ব্যান্ড, পানি (খনিজ পানিটাই সাধারণ ব্যবহার করা হয়) এবং সুতির কাপড়।

যেভাবে বানাবেন: গ্লাসের চারপাশে পছন্দের রংয়ের ফিল্টারটা রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে দিন। এবার গ্লাসকে পানিপূর্ণ করুন। এবার ওপরটা সুতির কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন। গ্লাসটাকে রোদ্রে রেখে নিন। আনি চাইলে ফিল্টারের পরিবর্তে রঙিন গ্লাসও ব্যবহার করতে পারেন।

যে সময় লাগবে: এটা নির্ভর করবে তখন সূর্যটা কত বেশি শক্তিশালী। গ্রীষ্মে খুব বেশি সময় না লাগলেও শীতে হয়তো ঘণ্টা দুয়েক লেগে যেতে পারে। কিংবা গোটা দিন লেগে যাবে। এভাবে রোদ্রে রাখতে হবে পানি। তারপর ঘরে নিয়ে আসুন। সোলারাইজড ওয়াটার ফ্রিজে সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত রাখতে পারবেন। একইভাবে তেলও সোলারাইজড করতে পারবেন।

রং এবং ওজন হ্রাস 
একেক রংয়ের পানির বোতলের সোলারাইজড ওয়াটার একেক উদ্দেশ্য হাসিল করবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যারা ওজন হ্রাসে সফলতা দেখতে চান তাদের হলুদ রংয়ের পানির বোতল বেছে নিতে হবে। আবার রংহীন বোহল বা গ্লাসের পানিকে হলুদ রংয়ের ফিল্টার দিয়ে সোলারাইজড করে নিতে পারেন। বিজ্ঞান বলে, হলুদ রংয়ের বোতলের সোলারাইজড পানি ওজনকে প্রভাবিত করতে পারে।

আপনি চাইলেই খাবারে বসার আধা ঘণ্টা আগে এক গ্লাস পানি হলুদ ফিল্টারে বা হলুদ বোতলে রোদ্রে রেখে দিতে পারেন। শুধু ওজন কমানোই নয়, ত্বকের জৌলুস বাড়াতেও সহায়তা করে। এ পানি খেলে মনোযোগ বাড়বে এবং হজমের সমস্যা দূর হবে।

ওজন কমানোর দৌড়ে সুষ্ঠু হজমপ্রক্রিয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আবার হজমের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের পিরিয়ড সংশ্লিষ্ট বেদনা দূর করবে এবং বিষণ্নতা থেকে মুক্তি দেয়।

Read also:

হঠাৎ করে প্রেসার বেড়ে বা কমে গেলে যা করবেন

অহরহ অনেকের মুখে শুনে থাকবেন হঠাৎ করেই নাকি প্রেসার ওঠানামা করছে। জেনে রাখা ভালো এটি মোটেও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। একজন মানুষ যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে অবশ্যই তার প্রেসার, পালস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেসার ওঠানামা করছে

সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।

আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড় বা পালসের গতি বেড়ে যায়।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন?

শাকসবজি, ফল ও শস্যদানা

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন। বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদি।এসব খাবারে বেশ উপকার পাবেন।

কম চর্বিযুক্ত খাবার

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

টুকরো করে আধাকাপ ফল
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ফল খেতে পারেন।টুকরো টুকরো করে কাটা আধাকাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধাকাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

শাকসবজি ৪ থেকে ৫ সার্ভিং

শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধাকাপ রান্না করা শাক।

দানা শস্য ৭ থেকে ৮ সার্ভিং

দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

বিচি জাতীয় খাবার

বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।

চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০-৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০-৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

আসুন জেনে নেই হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন।

লবণ-পানি

লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।

কফি-হট চকলেট

হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস

বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাদাম

লো প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা প্রেসার বাড়াতে সহায়তা করে।

পুদিনা

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যষ্টিমধু

আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>