Published On: Sat, May 5th, 2018

‘এল ক্লাসিকো’ জিততে মরিয়া রিয়াল-বার্সা

লিগ জয় নিশ্চিত হয়েছে আগেই। এখন শেষ চার ম্যাচে হার এড়ানোর চ্যালেঞ্জ। তাহলেই লা লিগার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হবে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদ কি তা হতে দেবে? নিশ্চয়ই নয়। বার্সার অপরাজিত থাকার আনন্দটা মাটি করাই যে লক্ষ্য।

২৬ মে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে লিভারপুলের মুখোমুখি হবে রিয়াল। এর আগে ৬ মে বার্সাকে হারিয়ে সেই ম্যাচের রসদটা নিয়ে নিতে চায়। বার্সার ‘অপরাজিত’ থাকার দম্ভটা যদি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়—রিয়ালের জন্য সেটি তো দারুণ ব্যাপারই। লা লিগার শিরোপাটা এরই মধ্যে নিজেদের করে নিয়েছে বার্সা।

লা লিগা মৌসুমের এই শেষ ‘এল ক্লাসিকো’র সঙ্গে শিরোপার সমীকরণ আগেই ঘুচিয়ে দিয়েছে বার্সা। ৩৪ ম্যাচে ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে আর্নেস্তো ভালভার্দের দল শীর্ষে। বাকি চার ম্যাচ হারলেও বার্সার চ্যাম্পিয়ন হওয়া কেউ ঠেকাতে পারবে না। রিয়াল ৩৪ ম্যাচে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে। তাদের চেয়ে ৪ পয়েন্ট এগিয়ে ৩৫ ম্যাচ খেলা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
শুধু ‘এল ক্লাসিকো’ নয়, রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান তাঁর শিষ্যদের বলেছেন, কিয়েভে ফাইনালের সেরা প্রস্তুতি নিতে বাকি চার লিগ ম্যাচকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দাও। সে ক্ষেত্রে এই চার ম্যাচের মধ্যে রোনালদো-বেনজেমাদের কাছে ‘এল ক্লাসিকো’ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাও এই দ্বৈরথকে তকমা দিয়েছে, ‘সম্মানের ক্লাসিকো’।
বার্সার জন্য এই ‘সম্মান’-এর লড়াইয়ে জেতা একদিক বিচারে গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচ জিতলে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ার দুঃখটা অন্তত কিছুটা হলেও তো মিটবে। বার্সা খেলোয়াড়দের লিগ জয় উদ্‌যাপনেও কিন্তু স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাতালান ক্লাবটির ‘রোম-দুঃখ’ পাওয়ার কারণ খুঁজেছে। সংবাদমাধ্যমকে থামাতে অন্তত বার্সার জন্য ‘এল ক্লাসিকো’ জেতা গুরুত্বপূর্ণ।

তা ছাড়া রিয়ালের বিপক্ষে এটাই হবে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার শেষ ম্যাচ। বার্সা কিংবদন্তিকে বিদায়ী উপহার দেওয়ার একটা তাড়নাও কাজ করছে তাঁর সতীর্থদের মনে। অন্যদিকে রিয়ালের হিসাব পরিষ্কার—কোপা ডেল রে ও লিগ জিতেছে বার্সা। জিদান তাই চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ‘এল ক্লাসিকো’ জিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে মৌসুমে সাফল্য পাওয়ার হিসাবটা মিলিয়ে নিতে চান। আর তাই রোববার সম্ভাব্য সেরা একাদশই মাঠে নামাবেন জিদান।

Read also:

হঠাৎ করে প্রেসার বেড়ে বা কমে গেলে যা করবেন

অহরহ অনেকের মুখে শুনে থাকবেন হঠাৎ করেই নাকি প্রেসার ওঠানামা করছে। জেনে রাখা ভালো এটি মোটেও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। একজন মানুষ যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে অবশ্যই তার প্রেসার, পালস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেসার ওঠানামা করছে

সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।

আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড় বা পালসের গতি বেড়ে যায়।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন?

শাকসবজি, ফল ও শস্যদানা

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন। বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদি।এসব খাবারে বেশ উপকার পাবেন।

কম চর্বিযুক্ত খাবার

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

টুকরো করে আধাকাপ ফল
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ফল খেতে পারেন।টুকরো টুকরো করে কাটা আধাকাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধাকাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

শাকসবজি ৪ থেকে ৫ সার্ভিং

শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধাকাপ রান্না করা শাক।

দানা শস্য ৭ থেকে ৮ সার্ভিং

দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

বিচি জাতীয় খাবার

বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।

চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০-৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০-৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

আসুন জেনে নেই হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন।

লবণ-পানি

লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।

কফি-হট চকলেট

হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস

বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাদাম

লো প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা প্রেসার বাড়াতে সহায়তা করে।

পুদিনা

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যষ্টিমধু

আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>