Published On: Sat, May 5th, 2018

ঢাকার সড়কে ঝাড়ুদার গাড়ি নামিয়েছে ডিএনসিসি

সড়কে জমে থাকা আবর্জনা ও ধুলাবালু পরিষ্কারের জন্য প্রতিদিন ভোরে ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের তোড়জোড় নগর জীবনের একটি নৈমিত্তিক দৃশ্য। সড়ক পরিচ্ছন্ন করার এই প্রথাগত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে ঢাকার রাস্তায় নতুন একটি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নামিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ‘মেকানিক্যাল রোড সুইপার’ নামে পরিচিত এই গাড়িটি কাজ করছে রাতের নিভৃতে।

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, গত ৫ মার্চ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা এই গাড়িটি ডিএনসিসি এলাকার দুটি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। একটি রুট সার্ক ফোয়ারা থেকে বিজয় সরণি হয়ে বনানী ওভারপাস পর্যন্ত। অন্যটি বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, গুলশান অ্যাভিনিউ, শুটিং ক্লাব থেকে তেজগাঁও লিংক রোড ও গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বর হয়ে বাড্ডা নতুন বাজার পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ৫ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত ৫৮ দিনের মধে্য ৪১ দিনে এই দুটি রুটে স্বয়ংক্রিয় গাড়িটি মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৮২ কিলোগ্রাম আবর্জনা অপসারণ করেছে। এ আবর্জনা অপসারণ করতে ২ হাজার ১০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দরকার হতো। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গতি আনার জন্য আগামী অর্থবছরে এ ধরনের আরও তিনটি গাড়ি আমদানির পরিকল্পনা করছে ডিএনসিসি।

জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক তাঁর জীবদ্দশায় ‘মেকানিক্যাল রোড সুইপার’ নামের এই আধুনিক যন্ত্রটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেন। সব প্রক্রিয়া শেষে গত ফেব্রুয়ারি মাসে রোড সুইপারটি ডিএনসিসির হাতে পৌঁছায়। এর চেসিস তৈরি করেছে জাপানের হিনো কোম্পানি। আর সুইপার মেশিনটি যুক্তরাজ্যের জনস্টন কোম্পানির তৈরি।

প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার সময় ২৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ডিএনসিসির আটজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আরও আটজন স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও গুণগত মান উন্নত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

মেকানিক্যাল রোড সুইপারটির অবয়ব অনেকটা কাভার্ড ভ্যানের মতো। এর দুই ভাগে বিভক্ত ইঞ্জিনের একাংশের কাজ পথগাড়িটি সচল রাখা। অন্য অংশটি ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করে। সড়ক থেকে ময়লা-আবর্জনা শুষে নেওয়ার জন্য গাড়িটিতে আছে দুটি শোষণ পাইপ। ইঞ্জিনের এই অংশটি চালু করার সঙ্গে সঙ্গে পাইপের মাধ্যমে আবর্জনা ওপরের ট্যাংকারে জমা হয়। এর ধারণক্ষমতা ছয় টন। এ ছাড়া গাড়ির সঙ্গে থাকা আরেকটি ট্যাংক থেকে সড়কে পানি ছিটানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।
ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বলেন, ঢাকায় প্রতিদিন যে পরিমাণ আবর্জনা তৈরি হয়, তাতে এগুলো অপসারণের জন্য প্রথাগত পদ্ধতি এখন আর যথেষ্ট নয়। সাধারণ উপায়ে ঝাড়ু দিয়ে বর্জ্য এক জায়গায় জমা করার পর সেখান থেকে আবার অপসারণের সময় কিছু ময়লা থেকেই যায়। কিন্তু মেকানিক্যাল রোড সুইপার ধুলার দানা পর্যন্ত টেনে নেয়। চাইলে গাড়ির ট্যাংকে জমা হওয়া বর্জ্য সরাসরি ল্যান্ড ফিলে নিয়েও ফেলা যায়।

তবে ঢাকার সড়কে এই গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানান ডিএনসিসির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সার্ক ফোয়ারা থেকে বিজয় সরণি হয়ে বনানী ওভারপাস পর্যন্ত রুটটির দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার। এতে সুইপিং ট্র্যাক রয়েছে চারটি। কিন্তু আমরা দুটি ট্র্যাকে এটি চালাতে পারি। কারণ, এই রুটের ফুটপাত ঘেঁষে ইউ আকৃতির যে নতুন ড্রেন তৈরি করা হয়েছে, তা থেকে গাড়িটি আবর্জনা অপসারণ করতে পারে না।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেকানিক্যাল রোড সুইপার ব্যবহারে যে সফলতা এসেছে, তাতে আমরা এ ধরনের আরও তিনটি গাড়ি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ডিএনসিসির সব সড়ক পরিষ্কারের কাজে এই গাড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।’

Read also:

হঠাৎ করে প্রেসার বেড়ে বা কমে গেলে যা করবেন

অহরহ অনেকের মুখে শুনে থাকবেন হঠাৎ করেই নাকি প্রেসার ওঠানামা করছে। জেনে রাখা ভালো এটি মোটেও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। একজন মানুষ যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে অবশ্যই তার প্রেসার, পালস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেসার ওঠানামা করছে

সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।

আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড় বা পালসের গতি বেড়ে যায়।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন?

শাকসবজি, ফল ও শস্যদানা

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন। বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদি।এসব খাবারে বেশ উপকার পাবেন।

কম চর্বিযুক্ত খাবার

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

টুকরো করে আধাকাপ ফল
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ফল খেতে পারেন।টুকরো টুকরো করে কাটা আধাকাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধাকাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

শাকসবজি ৪ থেকে ৫ সার্ভিং

শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধাকাপ রান্না করা শাক।

দানা শস্য ৭ থেকে ৮ সার্ভিং

দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

বিচি জাতীয় খাবার

বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।

চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০-৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০-৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

আসুন জেনে নেই হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন।

লবণ-পানি

লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।

কফি-হট চকলেট

হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস

বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাদাম

লো প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা প্রেসার বাড়াতে সহায়তা করে।

পুদিনা

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যষ্টিমধু

আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>