Published On: Sat, May 5th, 2018

ঢাকায় বাড়তি ঝাঁজ পেঁয়াজের, বাজার ভেদে ভিন্ন দাম ছোলা-ডাল-চিনির

ঢাকার কারওয়ান বাজারে মাসের সদাই নিতে এসেছেন রুহুল আমিন। গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছেন পেঁয়াজের দাম বেড়েছে, অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তে পারে। বললেন, ‘রোজা আসতে না আসতেই জিনিসের দাম পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করে। পারলে আজই সব কিনে নেব। দু-দিন পরে এলে সবকিছু বাড়তি দামে কিনতে হবে।’

ক্রেতা ও বিক্রেতারা বলছেন, রোজার সময় কিছু নিত্য পণ্যের দাম বাড়বে এটা তো স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

যদিও রোজা আসতে প্রায় দু-সপ্তাহ বাকি। সদাই এর তালিকা এখনো হাতে না উঠলেও দাম বসে নেই। এরই মধ্যে বাজারে ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, রোজার বাজার শুরু হলে অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে।

অবশ্য গত বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, ভোগ্যপণ্য পর্যাপ্ত মজুত আছে। দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। আজ শুক্রবার রাজধানীর চারটি বাজার ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের দামটা বাড়তি। তবে আদা, রসুন, ডাল, ছোলা, চিনির দাম আগের মতোই আছে।

রাজধানীতে আসছে সবজি। শ্যামবাজার, ঢাকা, ৪ মে। ছবি: আবদুস সালামআজ রাজধানীর বাজার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা দরে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী হাসান সরদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই সপ্তাহের শুরুতে দেশি পেঁয়াজের দাম ৩৫-৪০ টাকা ছিল। তিন-চার দিন হলো বেড়েছে।’ আসন্ন রোজার কারণেই দাম বাড়তে শুরু করেছে বলছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী সালাম মোল্লা বলেন, ‘রোজা আসলে তো সবকিছুর দামই বাড়ে। এইটা আর নতুন কী।’ আবার সরবরাহ কম বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট ও টাউন হলে দেশি পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৪২-৪৫ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে। সুপার শপ স্বপ্নেও একই দাম। তবে পাড়ার গলির দোকানগুলোয় পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তি। তাঁরা দেশি পেঁয়াজ রাখছেন প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা। কারওয়ান বাজারেও পেঁয়াজের দাম একই রকম।

রোজা আসতে প্রায় দু-সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে বাজারে ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের। শ্যামবাজার, ঢাকা, ৪ মে। ছবি: আবদুস সালামমো. সোবহান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, তিন-চার দিন আগে দেশি পেঁয়াজ ছিল ৩৮ টাকা। আর ভারতীয়টার দাম ৩০ টাকা। এ বাজারের ব্যবসায়ীরা পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি করেন ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়।

আদা-রসুনের দাম সব বাজারে প্রায় একই। এ দুটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

ছোলা, ডাল ও চিনির দাম বাজার ভেদে একেক রকম। মোহাম্মদপুরের বাজারগুলোয় ছোলা প্রতি কেজি ৮০-৮৫ টাকা, মসুর ডাল ৬০-৭০ টাকা এবং চিনি ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে জিগাতলা বাজারসহ ধানমন্ডির বিভিন্ন দোকানে ছোলার দাম উঠেছে ১১০ টাকা পর্যন্ত। মসুর ডালের দাম প্রতি কেজি ৬৫-৮০ টাকা। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকায়। কারওয়ান বাজারে এক কেজি ছোলা ৭০-৯০, মসুর ডাল ৬০-৭০, চিনি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মো. ইমরান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রোজার বাজার এখনো জমে নাই। আগামী সপ্তাহেই বাজার শুরু করব মানুষ। তখন দাম বাইড়া যাইতে পারে।’

Read also:

হঠাৎ করে প্রেসার বেড়ে বা কমে গেলে যা করবেন

অহরহ অনেকের মুখে শুনে থাকবেন হঠাৎ করেই নাকি প্রেসার ওঠানামা করছে। জেনে রাখা ভালো এটি মোটেও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। একজন মানুষ যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে অবশ্যই তার প্রেসার, পালস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেসার ওঠানামা করছে

সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।

আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড় বা পালসের গতি বেড়ে যায়।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন?

শাকসবজি, ফল ও শস্যদানা

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন। বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদি।এসব খাবারে বেশ উপকার পাবেন।

কম চর্বিযুক্ত খাবার

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

টুকরো করে আধাকাপ ফল
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ফল খেতে পারেন।টুকরো টুকরো করে কাটা আধাকাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধাকাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

শাকসবজি ৪ থেকে ৫ সার্ভিং

শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধাকাপ রান্না করা শাক।

দানা শস্য ৭ থেকে ৮ সার্ভিং

দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

বিচি জাতীয় খাবার

বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।

চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০-৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০-৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

আসুন জেনে নেই হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন।

লবণ-পানি

লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।

কফি-হট চকলেট

হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস

বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাদাম

লো প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা প্রেসার বাড়াতে সহায়তা করে।

পুদিনা

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যষ্টিমধু

আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>