Published On: Sat, May 5th, 2018

ঘুমের ঘরে উচ্চ স্থান থেকে পড়ে যাওয়া এবং বোবায় ধরার মানে কি জানেন?

ঘুমের ঘরে উচ্চ স্থান থেকে- সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ঘুম যেন এক চিরচেনা শান্তির পরশ। কিন্তু ঘুমের এই রাজ্যের সাথে আমাদের জাগ্রত মনের খবরাখবর লেনদেন কোথায় যেন গিয়ে সীমাবদ্ধ। আপনি সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ঘুমাতে গেলেন, বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়ে গেলেন কিন্তু হঠাত অনুভব করলেন উপর থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন। কিংবা আরামের ঘুমের মধ্যে হঠাত মনে হলো কেও একজন আপনার বুকের উপর চেপে বসে আছে।

নড়াচড়া করতে পারছেন না, গলা দিয়ে স্বর ও বের হচ্ছেনা। কিছুক্ষণ পর ঘেমে নেয়ে আসলেন আপনি, আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে উঠলো সবকিছু। এই ঘটনাকে অনেকেই জ্বিনের আছর বলে আখ্যায়িত করেন! কিন্তু এর পিছে বৈজ্ঞানিক সুস্পষ্ট ব্যখ্যা রয়েছে। ঘুমের মধ্যে হঠাত পড়ে যাওয়ার এই অনুভূতি কে বলা হয় হাইপোনিক জার্ক। আসলে মস্তিষ্ক আর শরীরের মধ্যে এক ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টির ফলেই এই ঘটনার উৎপত্তি। ঘুমানোর সাথে সাথেই আমাদের মাংসপেশীগুলো শিথিল হওয়া শুরু করে। কিন্তু অনেক সময় এই ঘটনা শুরুর সাথে সাথেই মস্তিষ্ক সেটা বুঝে উঠতে পারে না। হঠাত করে শরীর ছেড়ে দেবার এই ঘটনাকে সে উপর থেকে নিচে যাওয়া ভেবে ভুল করে।

সুতরাং উপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার এই বিপদ মোকাবেলা করার জন্য মস্তিষ্কের মাতব্বরীতে হাত-পা শক্ত হয়ে যায় আর হঠাত ঝাকি দিয়ে আমরা ঘুম থেকে জেগে উঠি। খেয়াল করলে দেখবেন যে প্রচণ্ড কাজ বা পড়াশুনার চাপে থাকলে এই ঘটনা বেশি ঘটে। এর কারণ হলো এসব চিন্তার মধ্যে থাকলে দেখা যায় আমরা ঘুমানোর সময় ও এগুলা ভাবতে ভাবতেই ঘুমাই।

যার ফলে ব্রেন ঐ দিকে ব্যস্ত থাকে আর আপনাকে যে ঘুমের পর মাংসপেশি শিথীল হয়ে যাওয়া যে স্বাভাবিক এই কথা বেমালুম ভুলে যায়। তাই সাধারণ এই ঘটনাকে উপর থেকে পড়ে যাবার দূর্ঘটনা ভেবে ভুল করে। এতো গেল এক ধরনের সমস্যা, কিন্তু বোবায় ধরা আসলে কী? প্রথমে বলি এর নামকরণ বৃত্তান্ত। প্রাচীনকালে মানুষের ধারণা ছিল বোবা নামে এক ধরনের ভূত ঘুমের মধ্যে মানুষের বুকে চেপে বসে সাময়িক ভাবে তাকে বোবা করে দেয়। তাই কালক্রমে এই ঘটনাকে বোবায় ধরা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সাধারণভাবে একে স্লিপ প্যারালাইসিস বলা হয়।

আমাদের ঘুমের দুইটি পর্যায় আছে। আরইএম (র‍্যপিড আই মুভমেন্ট) আর নন আরইএম (নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট) পর্যায়। এই দুই পর্যায়ের মধ্যে যদি কখনও আমাদের ঘুম ভেংগে যায় তাহলে আমাদের জেগে থাকা সম্পর্কে মস্তিষ্ক অবগত থাকে না। খেয়াল করলে দেখবেন এইরকম অবস্থা স্বপ্ন দেখতে দেখতেই বেশি হয়, অর্থাৎ হঠাত করে স্বপ্ন ভেঙে যাবার পর এরকম ঘটনার উতপত্তি হয় অধিকাংশ সময়ে। আরইএম পর্যায়ে আমরা মূলত স্বপ্ন দেখি আর হঠাত ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমরা ননআরইএম পর্যায় পরিভ্রমণ করে তারপর জেগে উঠি।

অর্থাৎ গাঢ় ঘুম আগে হালকা হয় তারপর আমরা জাগি। কিন্তু কখনও কখনও মস্তিষ্ক এত দ্রুত ব্যপারটা ধরতে পারে না। তাই সে ভেবে বসে আমরা এখনও ঘুমিয়েই আছি। তাই শরীর ঘুমের মতোনই শিথীল থাকে। আমরা যে জেগে আছি এটা জানতে তার কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে কাচা ছোলা খাওয়ার যে উপকারিতা

কাঁচা ছোলার গুণ সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যপোযগী ছোলায় আমিষ প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট মাত্র ৫ গ্রাম, ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ প্রায় ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ আছে। এছাড়াও ছোলায় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক উপকার জেনে নিনঃ-

* ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়।

* ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে। এই খাদ্য আঁশ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

* ছোলা খাদ্যনালীতে ক্ষতিকর জীবাণু দূর করে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা কমায়।

* ছোলার শর্করা গ্লুকোজ হয়ে দ্রুত রক্তে যায় না। তাই ডায়াবেটিকস রোগীর জন্য ছোলা খুবই উপকারী খাবার।

* ছোলার ফ্যাটের বেশিরভাগই পলি আনস্যাচুয়েটেড। এই ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়, বরং রক্তের চর্বি কমায়।

* কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক যে কোনো অসুখের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

* ছোলা খাওয়ার পর বেশ অল্প সময়েই হজম হয়। ছোলার আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

* ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

* ছোলায় থাকা প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি দীর্ঘক্ষণ ধরে শরীরে শক্তির যোগান দেয়।

Read also:

হঠাৎ করে প্রেসার বেড়ে বা কমে গেলে যা করবেন

অহরহ অনেকের মুখে শুনে থাকবেন হঠাৎ করেই নাকি প্রেসার ওঠানামা করছে। জেনে রাখা ভালো এটি মোটেও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। একজন মানুষ যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে অবশ্যই তার প্রেসার, পালস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেসার ওঠানামা করছে

সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।

আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড় বা পালসের গতি বেড়ে যায়।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন?

শাকসবজি, ফল ও শস্যদানা

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন। বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদি।এসব খাবারে বেশ উপকার পাবেন।

কম চর্বিযুক্ত খাবার

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

টুকরো করে আধাকাপ ফল
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ফল খেতে পারেন।টুকরো টুকরো করে কাটা আধাকাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধাকাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

শাকসবজি ৪ থেকে ৫ সার্ভিং

শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধাকাপ রান্না করা শাক।

দানা শস্য ৭ থেকে ৮ সার্ভিং

দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

বিচি জাতীয় খাবার

বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।

চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০-৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০-৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

আসুন জেনে নেই হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন।

লবণ-পানি

লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।

কফি-হট চকলেট

হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস

বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাদাম

লো প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা প্রেসার বাড়াতে সহায়তা করে।

পুদিনা

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যষ্টিমধু

আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>