Published On: Sat, May 5th, 2018

প্রতিদিন বেশি বেশি ব্যায়ামের কুফল

স্থূলতা এখন ডায়াবেটিসের মতোই ভয়ংকর। তাই ওজন কমানো স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে অতি জরুরি কাজের একটি। আধুনিক মানুষদের তাই শরীরচর্চা কেন্দ্রে ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। সবার প্রথামিক উদ্দেশ্য একটাই- ওজন কমানো। তবে সুঠাম দেহের অধিকারী হতেও অনেকে জিমে যান। তবে তাদেরও লক্ষ্য থাকে, ওজনটা যেন না বাড়ে। তবে অতি আগ্রহীদের জন্যে দুঃসংবাদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইয়োগা, অ্যারোবিক্স বা শরীরচর্চা কেন্দ্রের কঠিন ব্যায়াম- যাই করেন না কেন খুব বেশি বেশি করতে যাবেন না। হয়তো প্রশিক্ষকরা আপনাকে বলবেন যে, এখানে যে সময় কাটাচ্ছেন তাতে আপনার ওজন কমবে। কিন্তু এই যাত্র সুখকর নাও হতে পারে। তার মানে এই নয় যে আপনার ব্যায়াম করা বন্ধ করে দিতে হবে। তবে অতিরিক্ত ব্যায়ামে আপাতদৃষ্টিতে ওজন কমছে বলে মনে হলেও পরবর্তিতে ওজন আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গোটা দেহের জন্যে দারুণ কিছু ব্যায়ামের সমন্বয় শিখিয়ে দেয় জিমনেশিয়াম। সেখানে স্কোয়াটস, ট্রেডমিল, ক্রস ট্রেইনার, ওয়েটস, পুল-আপ এবং আরো অন্যান্য যন্ত্রপাতির ব্যায়াম দেখিয়ে দেয়। সেখানে নিয়ম মেনে সঠিক পদ্ধতিতে ব্যায়াম করলে অবশ্যই ওজন কমে। তার অর্থ এই নয় যে, প্রতিদিন সেখানে গিয়ে আপনাকে ব্যাপক ব্যায়াম করতে হবে। অনেকেই সেখানে গিয়ে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে সময় দেন। এতে দ্রুত ওজন কমছে বলে মনে হয়। কিন্তু প্রতিদিন দুই ঘণ্টা বা তারও বেশি ব্যায়াম করলে কী ঘটতে পারে তা জেনে নিন।

১. কিন্তু সমস্যা অন্যখানে। ব্যায়ামের একটা প্রভাব আছে বিপাকক্রিয়ায়। বেশি করলে দেহের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যত বেশি ব্যায়াম, ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি। এভাবে ব্যায়াম করতে থাকলে একটা পর্যায়ে আপনার ওপর ভর করবে অবসাদ। প্রতিদিন নিজেকে ক্লান্ত মনে হবে।

২. এক পর্যায়ে আপনার দেহে ক্লান্তি যেন স্থায়ীভাবে ভর করবে। সবসময় দুর্বল লাগতে শুরু করবে। সবকিছুতে বিরক্তি চলে আসবে। এর মধ্যে যদি ঘাম ঝরানোর পর পর্যাপ্ত পানি না পান করেন তো অসুস্থ হতে সময় লাগবে না।

৩. হঠাৎ বুঝবেন, আপনার ওজন আর কমছে না। শরীরে দুর্বলতার কারণে ওজন কমার প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে ওজন আর কমতে থাকবে না।

৪. পেশিগুলো খুবই দুর্বল হয়ে পড়বে। অতিমাত্রায় ব্যায়ামের কারণে পেশিতে ব্যাপক চাপ পড়ে। পেশির টিস্যু ছিড়ে যাওয়া বা আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়ে।

৫. সব সময় ক্ষুধা লেগে থাকবে। কাজেই খেতে হবে। এতে খাদ্যগ্রহণ অনেক বেশি হয়ে যাবে। ফলে ওজন কমার কোনো কারণ নেই। ক্ষুধা থাকলে খেতে হবে। কাজেই ওজন বাড়তেই থাকবে। ক্যালোরি দেহে যত জমবে তত বেশি ভারী হবে দেহ। কাজেই অতি ব্যায়ামের কুফলের কথা মনে রাখতে হবে।

Read also:

হঠাৎ করে প্রেসার বেড়ে বা কমে গেলে যা করবেন

অহরহ অনেকের মুখে শুনে থাকবেন হঠাৎ করেই নাকি প্রেসার ওঠানামা করছে। জেনে রাখা ভালো এটি মোটেও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। একজন মানুষ যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে অবশ্যই তার প্রেসার, পালস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেসার ওঠানামা করছে

সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।

আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড় বা পালসের গতি বেড়ে যায়।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন?

শাকসবজি, ফল ও শস্যদানা

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন। বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদি।এসব খাবারে বেশ উপকার পাবেন।

কম চর্বিযুক্ত খাবার

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

টুকরো করে আধাকাপ ফল
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ফল খেতে পারেন।টুকরো টুকরো করে কাটা আধাকাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধাকাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

শাকসবজি ৪ থেকে ৫ সার্ভিং

শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধাকাপ রান্না করা শাক।

দানা শস্য ৭ থেকে ৮ সার্ভিং

দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

বিচি জাতীয় খাবার

বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।

চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০-৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০-৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

আসুন জেনে নেই হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন।

লবণ-পানি

লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।

কফি-হট চকলেট

হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস

বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাদাম

লো প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা প্রেসার বাড়াতে সহায়তা করে।

পুদিনা

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যষ্টিমধু

আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>