Published On: Sat, May 5th, 2018

ভুল করেও তরমুজের বিচি ফেলবেন না! জেনে নিন তরমুজের বিচির অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগুণ

ভুল করেও তরমুজের বিচি ফেলবেন না! আমেরিকার কৃষি দফতর জানিয়েছে, তরমুজের বিচির রয়েছে অসাধারণ গুণ। তরমুজের বিচি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অজ্ঞতার কারণেই মানুষ এটি ফেলে দেয়। তাদের পরামর্শ, আপনি বুদ্ধিমান হলে তরমুজের বিচি ফেলবেন না, যারা ফেলে দেন তারা নিরেট বোকা!

নিরামিষ তরিতরকারিতে তরমুজের খোসা ছাড়ানো সাদা দানা আমরা খেলেও, তরমুজের বিচি খাওয়ার চল নেই। আমেরিকার কৃষি দফতর পরামর্শ দিচ্ছে, তরমুজের দানা ফেলবেন না। তরমুজ কাটার সময় দানাগুলো একজায়গায় জড়ো করে, ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে রেখে দিন। দিনে যখন খুশি যেভাবে খুশি খেয়ে ফেলুন।

কিন্তু কেন খাবেন?
প্রোটিন: তরমুজের বিচির উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ। একজন ব্যক্তির সারাদিনে যে পরিমাণ প্রোটিন প্রয়োজন পড়ে, তার ৬০% আপনি পাবেন এককাপ (৩০.৬ গ্রাম) তরমুজের বিচিতে। শরীরের পক্ষে প্রয়োজনীয় নানা ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে। তার মধ্যে একটা আর্গিনাইন। যার কাজ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ। করোনারি হার্ট ডিজিজের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এটা একটা জরুরি উপাদান। এ ছাড়াও গ্লুটামিক অ্যাসিড, লাইসিন, ট্রিপ্টোফানের মতো প্রোটিন রয়েছে তরমুজের বিচির মধ্যে।

তরমুজের বিচি

ভিটামিন-বি: বিভিন্ন ভিটামিন বি-ও রয়েছে তরমুজের বিচিতে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, খাবারকে এনার্জিতে পরিণত করতে সাহায্য করে ভিটামিন বি। এ ছাড়াও নানাবিধ জৈবিক প্রক্রিয়াতেও ভিটামিন বি-এর একটা গুরুত্ব আছে। নিয়াসিনের মতো জরুরি ভিটামিন বি আপনি পাবেন তরমুজের বিচিতে। যার কাজ হলো স্নায়ুতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রকে রক্ষণাবেক্ষণ করা। এমনকী ত্বক ঠিক রাখতেও নিয়াসিন জরুরি। রয়েছে থিয়ামিন, রাইবোফ্লাবিন, ভিটামিন বি৬-ও।

মিনারেলস: খনিজের মধ্যে আপনি পাবেন ম্যাগনেসিয়াম। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ জানাচ্ছে, ম্যাগনেসিয়াম ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ ছাড়াও কার্বোহাইড্রেটের বিপাকে সাহায্য করে। ফলে, ব্লাডসুগার এড়াতে তরমুজের বিচির গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়াও ফসফরাস, আয়রন, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও জিঙ্ক রয়েছে।

তরমুজের বিচি
ফ্যাট: এককাপ শুকনো তরমুজের দানায় ৫১ গ্রাম ফ্যাট রয়েছে। এর ১১% হল স্যাচুরেটেড ফ্যাট। বাকিটা পলিস্যাচুরেটেড, মনোস্যাচুরেটেড এবং ওমেগা -৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানাচ্ছে, মনো এবং পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করতে সাহায্য করে। ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে, মাথায় রাখতে হবে, এককাপ তরমুজের শুকনো বিচিতে রয়েছে ৬০০ ক্যালোরি।

Read also:

 জানলে অবাক হবেন” সকল রোগের মহৌষধ নিম।

সকল রোগের মহাঔষুধ নামে পরিচিত নিম আামদের খুবই পরিচিত একটি গাছ। যে ঔষধি গাছ হিসেবে যার ডাল, পাতা, রস, সবই কাজে লাগে। নিম একটি বহু বর্ষজীবি ও চির হরিত বৃক্ষ। নিমের পাতা থেকে আজকাল প্রসাধনীও তৈরি হচ্ছে। কৃমিনাশক হিসেবে নিমের রস খুবই কার্যকারিতা প্রসংশনীয়। বলা হয়ে থাকে বাড়িতে একটি নিমগাছ একজন ডাক্তারের চেয়ে ও বেশী কাজ করে।

নিম গাছের উল্লেখিত উপকারিতা ও গুনাগুন- ম্যালেরিয়া থেকে মুক্তিঃ নির্যাস ব্যবহারে ম্যালেরিয়া প্রশমিত হয়। পানি বা এলকোহল মিশ্রিত নিম পাতার নির্যাস ব্যবহারে একই ধরনের ফল পাওয়া যায়। মানসিক

চাপ ও অশান্তি: অল্প পরিমাণ নিম পাতার নির্যাস খেলে মানসিক চাপ ও মানসিক অশান্তি কমে যায়।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ: নিম পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই জন্ম নিয়ন্ত্রণের ঘটক (Agent) হিসেবে কাজ করে। সহবাসের পূর্বে নিম তেল তুলায় ভিজিয়ে স্ত্রী যৌন অঙ্গে ১৫ মিনিট রাখলে স্পার্ম মারা যায়। নিম লিফ ট্যাবলেট পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন এক মুঠো নিম পাতা খেলে গর্ভধারণ হয় না। ৬ সপ্তাহ পুরুষ নিম তেল সেবনে স্ত্রী গর্ভবতী হয় না।

এইডস থেকে মুক্তি: নিম গাছের বাকল হতে আহরিত নির্যাস এইডস ভাইরাসকে মারতে সক্ষম। নিম পাতার নির্যাস অথবা পুরু পাতা অথবা নিম পাতার চা পান করলে এইডস উপশম হয়।

আলসার: নিম পাতার নির্যাস ও নিম বীজ হতে নিম্বিডিন নির্যাস খেলে পেপটিক ও ডিওডেনাল আলসার উপশম হয়, জন্ডিসঃ ২৫-৩০ ফোঁটা নিম পাতার রস একটু মধুর সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে জন্ডিস আরোগ্য হয়, বসন্তঃ কাঁচা হলুদের সাথে নিম পাতা বেটে বসন্তের গুটিতে দিলে গুটি দ্রুত শুকিয়ে যায়।

বহুমূত্র রোগ: প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ নিম পাতার রস সকালে খালি পেটে ৩ মাস খেলে ডায়বেটিস আরোগ্য হয়। প্রতিদিন সকালে ১০টি নিম পাতা গুড়া বা চিবিয়ে সেবন করলে ডায়বেটিস ভাল হয়। নিম পাতার রস খেলে ৩০-৭০% ইনসুলিন নেয়ার প্রবণতা কমে যায়।

চোখের ব্যথা: নিম পাতা সামান্য শুষ্ক আদা ও সৈন্ধব লবণ একত্রে পেষণ করে সামান্য গরম করে একটি পরিস্কার পাতলা কাপড়ে লাগিয়ে তা দ্বারা চোখ ঢেকে দিলে চোখের স্ফীতি ও ব্যাথা সেরে যায়।

ক্যান্সার: নিম তেল, বাকল ও পাতার নির্যাস ব্যবহারে ক্যান্সার-টিউমার, স্কীন ক্যান্সার প্রভৃতি ভাল হয়।, হৃদরোগঃ নিম পাতার নির্যাস খেলে হৃদরোগে উপকার পাওয়া যায়। নিম নির্যাস ব্লাড প্রেসার ও ক্লোরেস্টোরল কমায়। রক্ত পাতলা করে, হার্টবিট কমায়।

কৃমি নিরসন: ৩-৪গ্রাম নিম ছাল চূর্ণ সামান্য পরিমাণ সৈন্ধব লবণসহ সকালে খালি পেটে সেবন করে গেলে কৃমির উপদ্রব হতে রক্ষা পাওয়া যায়। নিয়মিত এক সপ্তাহ সেবন করে যেতে হব। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১-২ গ্রাম মাত্রায় সেব্য।

রক্ত পরিস্কার ও চর্ম রোগ: কাঁচা নিম পাতা ১০ গ্রাম ২ কাপ পানিতে জ্বাল করে ১ (এক) কাপ অবশিষ্ট থাকতে ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মতো চিনি মিশিযে সেব্য। উল্লেখিত নিয়মে প্রত্যহ ২-৩ বার, নিয়মিত ১-২ মাস সেবন করে যেতে হবে।

দাঁতের যত্ন: কচি নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভাল থাকে। নিম পাউডার দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ও মাঁড়ি ভাল থাকে। নিম পাতার নির্যাস পানিতে মিশিয়ে বা নিম দিয়ে মুখ আলতোভাবে ধুয়ে ফেললে দাঁতের আক্রমণ, দাঁতের পচন, রক্তপাত ও মাড়ির ব্যথা কমে যায়।

ব্রণ: নিম পাতা পিষ্ট করে মধুর সাথে মিশিয়ে প্রলেপ দিলে ব্রণ সেরে যায়, রাতকানাঃ নিম ফুল ভাজা খেলে রাতকানা উপশম হয়, উকুনঃ নিমের ফুল বেটে মাথায় মাখলে উকুন মরে যায়, মাথাধরাঃ নিম তেল মাখলে মাথা ধরা কমে যায়, বমিঃ বমি আসতে থাকলে নিম পাতার রস ৫-৬ ফোঁটা দুধ দিয়ে খেলে উপশম হয়।

খোস-পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষত: নিম পাতার সাথে সামান্য কাঁচা হলুদ পিষে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ আকারে ৭-১০ দিন ব্যবহার করলে খোস-পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষতের উপশম হয়। নিম পাতা ঘিয়ে ভেজে সেই ঘি ক্ষতে লাগালে ক্ষত অতি সত্বর আরোগ্য হয়।

নিম চা: শুকনো নিম পাতা গুঁড়ো অথবা তাজা নিমের ৬/৭ টি পাতা গরম পানিতে ছেড়ে ২/৩ মিনিট জ্বাল দিয়ে মধু মিশিয়েই বানিয়ে ফেলা যায় সুমিষ্ট নিম চা , তবে নতুনদের জন্য সময়সীমা ১ মিনিট। যত বেশি জ্বাল দিবেন তত তিতা হবে।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>