Published On: Sun, May 6th, 2018

এশিয়ার নীরব ঘাতক ‘সুপারি’এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানুন এবং সবাইকে সতর্ক করুন

সুপারি এর ক্ষতিকর দিক – বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-দশমাংশ এই সুপারি খান। কোথাও এটিকে দেখা হয় ভালোবাসার প্রতীক এবং বদহজম ও বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যার প্রতিকার হিসেবে।

আপনি জানেন কি এই সুপারিই প্রতিবছর হাজার-হাজার মানুষের মৃত্যুরও কারণ? এর কার্যক্ষমতা এতটাই বেশি যে নিকোটিন, অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইনের পাশাপাশি একেও মতিবিভ্রমকারী মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যদিও নারী এবং শিশুসহ অনেকেই এটি ব্যবহার করেন, তবে কর্মক্ষম পুরুষদের মাঝেই সুপারির ব্যবহার বেশি।

গাড়ি চালানো, মাছ ধরা কিংবা নির্মাণকাজের মতো কর্মকাণ্ডে দীর্ঘসময় জেগে থাকার জন্য এটি তারা সুপারি চিবান।

তবে এই সুপারিতে অভ্যস্তদের উচ্চমাত্রায় মুখের ক্যানসারের আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। এমনকি প্রথমবার সুপারি ব্যবহার করার কয়েক দশক পরেও কারো মুখে ক্যানসার হতে পারে।

এশিয়ার যে কয়টি এলাকায় সুপারি খুব বেশি জনপ্রিয় তার একটি তাইওয়ান। সেখানে সুপারিকে বলা হয় ‘তাইওয়ানের চুইংগাম’।

দেশটির সরকার এখন কয়েক শতকের পুরনো এই অভ্যাসটি কমিয়ে আনা এবং প্রতিবছর হাজার-হাজার জীবন ঝরে পড়া থেকে রক্ষার জন্য জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

তাইওয়ানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের মুখের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হান লিয়াং-জুন বলেন, ‘অর্ধেক মানুষ এখনো জানেই না যে সুপারি মুখের ক্যানসারের অন্যতম কারণ।’

এশিয়ার অনেক অঞ্চলে সুপারি স্থানীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কাঁচা, শুকনা কিংবা পানপাতা দিয়ে মুড়িয়ে খিলি বানিয়ে খাওয়া হয়।।

যদিও পানের খিলি বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে বানানো হয়। তবে সাধারণতঃ চুন, পানপাতা, এলাচি বা দারচিনির মতো মশলা এবং তামাকের সাথে মিশিয়ে এই খিলি তৈরি করা হয়।

আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা এসব উপাদানের মধ্যে এলাচ এবং দারচিনি ছাড়া বাকি সব উপাদানকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

চুনকে বিশেষ একটি সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটি ব্যবহারের ফলে মুখের ভেতর ছোট-ছোট অনেক ক্ষত তৈরি হতে পারে।

ক্যানসার সৃষ্টিকারী অনেক উপাদান এসব ক্ষতের মাধ্যমে চামড়ার ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

Read also:

 অসহ্য বাতের ব্যথায় ভুগছেন? জেনে নিন উপশমের উপায়

বাতের ব্যথায় ভুগছেন- বাত আমাদের দেশের অনেক মানুষের একটা সাধারণ সমস্যা। আমাদের শরীরে রক্তের সঙ্গে ইউরিক এসিড নামে এক প্রকার উপাদান থাকে, যার মাত্রা বেড়ে গেলে বিভিন্ন অস্থি-সন্ধি বা জয়েন্টে প্রদাহ হয়, একে গাউট বা গেঁটেবাত বলা হয়।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস শরীরের যে কোনো অস্থিসন্ধিতে (বিশেষ করে বৃদ্ধাঙ্গুলির অস্থিসন্ধি যা হাঁটার সময় ভাঁজ হয়ে যায়) গেঁটেবাত বেশি হয়। এর ফলে অস্থিসন্ধিতে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা হয়ে থাকে ও ব্যথার স্থান লাল হয়ে যায় ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে।

চিকিৎসকের মতে, জেনেটিক কারণে ফুলে যাওয়া, কারো শরীরে ইউরিক এসিডের উৎপাদন বেশি হলে এবং কিডনি ফেইল্যুর বা ত্রুটিযুক্ত রেচনের জন্য রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়।

দীর্ঘদিন লিউকেমিয়ায় ভুগলে, হাইপারথায়রইডিজম বা থায়রইয়েড হরমোন বেশি থাকলেও এ রোগ হতে পারে।

এছাড়া ডাই-ইউরোটিক ও পাইরাজিনামাইড ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন, মদ্যপানের অভ্যাস, লেড পয়জনিং ও গ্লুকোজ-৬ ফসফেটের অভাব থাকলে এ রোগ দেখা দেয়।

বাত হলে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়া ফুলে গিয়ে লাল হয়ে যায়। পায়ের পাতায় ও হাঁটতে ব্যথা হয়, পা বা পায়ের পাতা ফুলে যায়, গোড়ালি ও কব্জি ব্যথা, পায়ে গিড়া ও মাংসপেশী ফুলে যায়।

একটু বয়স হলেই আমাদের চারপাশের অনেকেই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। এই রোগ হলে কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। অথচ কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করলেই বাতের ব্যথা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

নিম্নে সেই উপায়গুলো আলোচনা করা হলো:

* ব্যথার জায়গায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট গরম বা ঠাণ্ডা ভাপ দিন। এতে আরাম পাওয়া যায়।

* অনেক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। প্রয়োজনে একঘণ্টা পর পর অবস্থান পরিবর্তন করুন।

* মেরুদণ্ড ও ঘাড় নিচু করে কোনো কাজ করবেন না।

* বিছানায় শোয়া ও উঠার সময় যেকোন একদিকে কাত হয়ে হাতের ওপর ভর দিয়ে শোবেন ও উঠবেন।

* পিড়া, মোড়া বা ফ্লোরে বসবেন না। সবসময় চেয়ারে মেরুদণ্ড সোজা করে বসবেন।

* নরম ফোম ও জাজিমে শোয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। আপনার জন্য উঁচু, শক্ত ও সমান বিছানাই ভালো।

* ভারী ওজন বা বোঝা বহন এড়িয়ে চলতে হবে।

* নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।

* হাই হিল জুতা না পরে বরং নরম জুতা পরার অভ্যেস করুন।

* উঁচু কমোড ব্যবহার করুন। নিচু টয়লেট ব্যবহারে ব্যথা বাড়তে পারে।

* শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পেট ভরে না খেয়ে বরং অল্প অল্প করে বার বার খাবেন।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>