Published On: Sun, May 6th, 2018

সাকিবরা সবার ওপরে, উপকার হলো মোস্তাফিজদেরও

দিনের প্রথম ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠে যায় চেন্নাই সুপার কিংস। তা কি আর সহ্য হয় হায়দরাবাদের! শীর্ষ স্থান ফিরে পেতে সময় নিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। রোমাঞ্চকর ম্যাচে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে আসল তারা।
দিল্লিকে হারিয়ে সাকিবদের হায়দরাবাদের শীর্ষে ওঠায় উপকার হলো মোস্তাফিজদের মুম্বাই ইন্ডিয়ানসেরও। কেননা দিল্লি হেরে যাওয়ায় প্লে অফে খেলার আশা কিছুটা হলেও বেঁচে থাকল মুম্বাইয়েরও। দিল্লি যেখানে ১০ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তম স্থানে নেমে গেল। সেখানে ৯ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে এগিয়ে থেকে মুম্বাইয়ের অবস্থান এখন টেবিলের পাঁচে। আর ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে এগিয়ে থেকে সবার ওপরে হায়দরাবাদ। চেন্নাইয়ের ৯ পয়েন্ট হলেও রান রেটে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে তারা।

শেষের দিকে আজ রোমাঞ্চ ছড়াল রাজিব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৮। সেখানে এক বল বাকি থাকতেই দলকে জয়ের বন্দরে ভেড়ান কেন উইলিয়ামসন ও ইউসুফ পাঠান। পাঠানের ব্যাটে যে এখনো মরিচা ধরেনি, ১২ বল খেলে দুই ছয়ে ২৮ রান করে দলকে জয় এনে দিয়েই প্রমাণ করলেন তা। আর ৩০ বলে ৩২ রান করেছেন উইলিয়ামসন।

অথচ শুরুতে ধীরে ব্যাটিং শুরু করেছিল হায়দরাবাদ। প্রথম ৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ মাত্র ৩৪ রান। সেখানে ষষ্ঠ ওভারে রান গিয়ে দাঁড়াই ৬১। ষষ্ঠ ওভারে আভিশ খানের এক ওভারেই এসেছে ২৭ রান। অ্যালেক্স হেলস ছয় মেরেছেন চারটি। এই হেলসকেই নবম ওভারে দলীয় ৭৬ ও ব্যক্তিগত ৪৫ রানে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন অমিত মিশ্র। দলীয় স্কোর বোর্ডে আর ১০ রান যোগ করে ১১ তম ওভারে মিশ্রর বলেই বোল্ড হয়ে ফিরে গিয়েছেন ওপেনার শিখর ধাওয়ান। ৩০ বল খেলে তিনি রান করেছেন ৩৩।

ধাওয়ান ফিরে যাওয়ার পর শেষ ৯ ওভারে হায়দরাবাদের প্রয়োজন ছিল ৭৮। হাতে উইকেট আটটি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে কেন উইলিয়ামসন ও মানিশ পান্ডিয়া গড়েন ৪৬ রানের জুটি। ১৭.১ ওভারে দলীয় ১৩২ ও ব্যক্তিগত ২১ রানে ফিরে যান পান্ডিয়া।

শেষ দুই ওভারে রানের প্রয়োজন ছিল ২৮। তা তো পাঠান ও উইলিয়ামসন মিলেই তুলে নিয়েছেন এক বল বাকি থাকতে। বোল্টের ১৯ তম ওভারে আসে ১৪। শেষ ওভারে ক্রিশ্চিয়ানের ওপর ঝড় তোলেন পাঠান।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পৃথ্বী শাহ এবং অধিনায়ক স্রেয়াশ আয়ারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান করে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। শুরুতেই ওপেনার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের উইকেট হারিয়ে বসে দিল্লি। ৩ বলে মাত্র ২ রান করে রান আউট হন ম্যাক্সওয়েল। এরপর ৮৬ রানের অসাধারণ এক জুটি গড়ে তোলেন পৃথ্বী এবং স্রেয়াশ। ৩৬ বলে ৪৪ রান করে স্রেয়াশ আউট হয়ে ফিরে গেলেও পৃথ্বী হয়ে ওঠেন আক্রমণাত্মক। ৩৬ বল খেলে ৩ ছক্কায় ৬৫ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। শেষ দিকে বিজয় শঙ্করের ব্যাট থেকে এসেছে ১৩ বলে অপরাজিত ২৩ রান।

৪ ওভার বল করে ২৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান। ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে কোন উইকেট পাননি সাকিব আল হাসান।

Read also:

হঠাৎ করে প্রেসার বেড়ে বা কমে গেলে যা করবেন

অহরহ অনেকের মুখে শুনে থাকবেন হঠাৎ করেই নাকি প্রেসার ওঠানামা করছে। জেনে রাখা ভালো এটি মোটেও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। একজন মানুষ যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে অবশ্যই তার প্রেসার, পালস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেসার ওঠানামা করছে

সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।

আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড় বা পালসের গতি বেড়ে যায়।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন?

শাকসবজি, ফল ও শস্যদানা

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন। বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদি।এসব খাবারে বেশ উপকার পাবেন।

কম চর্বিযুক্ত খাবার

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

টুকরো করে আধাকাপ ফল
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ফল খেতে পারেন।টুকরো টুকরো করে কাটা আধাকাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধাকাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

শাকসবজি ৪ থেকে ৫ সার্ভিং

শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধাকাপ রান্না করা শাক।

দানা শস্য ৭ থেকে ৮ সার্ভিং

দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

বিচি জাতীয় খাবার

বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।

চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০-৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০-৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

আসুন জেনে নেই হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন।

লবণ-পানি

লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।

কফি-হট চকলেট

হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস

বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাদাম

লো প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা প্রেসার বাড়াতে সহায়তা করে।

পুদিনা

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যষ্টিমধু

আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>