Published On: Sun, May 6th, 2018

কর্মসূচি ঠিক করতে এ মাসেই বৈঠকে বসছে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবির পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার শর্ত পূরণে সরকারকে চাপে রাখার কর্মসূচি ঠিক করতে এ মাসেই আবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দলটি। দলের স্থায়ী কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে যৌথ সভায় কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত শুক্রবার বিএনপির একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন অনেক নেতা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীম গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চেয়ারপারসনের মুক্তি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি কী হতে পারে তা নিয়ে নেতারা বৈঠকে (শুক্রবারের বৈঠকে) কথা বলেছেন। আমরা মনে করছি, সরকার যদি আইনি পথে কিংবা সমঝোতার পথে না আসে, তাহলে রাজপথের আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। নেত্রীকে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়া আত্মহত্যার শামিল।’

মাহবুবে আলম শামীম আরো বলেন, ‘চলতি মাসেই আমরা আবার বসব। স্থায়ী কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা আলোচনা হবে পরবর্তী বৈঠকে।’

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবারে যৌথ সভায় আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা বলেন, চেয়ারপারসনকে মুক্ত করেই তবে আগামী জাতীয় একাদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত। সহজে এ সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না। তাই রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে হবে।

ওই বৈঠকে নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ও নির্বাচনের শর্ত পূরণে সরকারকে বাধ্য করতে করণীয় নির্ধারণে শিগগিরই দলটির হাইকমান্ডকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় এসব আলোচনা হয়। পরবর্তী কর্মকৌশল প্রণয়নে যৌথ সভা ডেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মতামত নিয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটি। আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কমপক্ষে ৩৫ জন সিনিয়র নেতা বক্তব্য দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, যৌথ সভায় খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনই ছিল মূল এজেন্ডা। সিনিয়র নেতারা সবাই এর পাশাপাশি আগামী নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন। আগামী ৮ মে হাইকোর্টে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হবে। এর আগে কয়েক দিন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি রাখার পরামর্শ এসেছে, যাতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বিএনপি নির্বাচনকেন্দ্রিক দাবিতে সোচ্চার হতে চায়। তবে এ পর্যন্ত কঠোর কর্মসূচি না দেওয়ায় অনেকে সমালোচনাও করেছেন।

খালেদা জিয়াকে করাবন্দি রেখে নির্বাচন নয়, নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে এবং সংসদ ভেঙে নির্বাচন দিতে হবে—এই তিনটি শর্ত নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

আগামী কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চেয়ারপারসন জামিন না পেলে শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে।

বৈঠকে রমজান মাসকে সাংগঠনিক মাস ঘোষণারও প্রস্তাব রাখেন শাহজাহান।

এ ছাড়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, বড় আন্দোলন ছাড়া তাঁকে (চেয়ারপাসরনকে) মুক্ত করা যাবে না। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বেচ্ছায় কারাবরণ করার পরামর্শ দেন তিনি।

আর বিভাগীয় শহরে গণমিছিল করার কথা বলেছেন ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী ও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

যুগ্ম সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে হবে। তাঁকে ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়।

সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই সঠিক হলেও বার কাউন্সিলে সঠিক ব্যক্তিদের প্রার্থী করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন।

শুক্রবারের সভা শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমরা পর্যালোচনা করেছি। আমাদের নেতারা আগামী দিনে করণীয় কী আছে সে সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য কিভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

Read also:

হঠাৎ করে প্রেসার বেড়ে বা কমে গেলে যা করবেন

অহরহ অনেকের মুখে শুনে থাকবেন হঠাৎ করেই নাকি প্রেসার ওঠানামা করছে। জেনে রাখা ভালো এটি মোটেও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। একজন মানুষ যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে অবশ্যই তার প্রেসার, পালস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেসার ওঠানামা করছে

সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।

আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড় বা পালসের গতি বেড়ে যায়।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন?

শাকসবজি, ফল ও শস্যদানা

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন। বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদি।এসব খাবারে বেশ উপকার পাবেন।

কম চর্বিযুক্ত খাবার

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

টুকরো করে আধাকাপ ফল
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ফল খেতে পারেন।টুকরো টুকরো করে কাটা আধাকাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধাকাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

শাকসবজি ৪ থেকে ৫ সার্ভিং

শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধাকাপ রান্না করা শাক।

দানা শস্য ৭ থেকে ৮ সার্ভিং

দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

বিচি জাতীয় খাবার

বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।

চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০-৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০-৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

আসুন জেনে নেই হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন।

লবণ-পানি

লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।

কফি-হট চকলেট

হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস

বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাদাম

লো প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা প্রেসার বাড়াতে সহায়তা করে।

পুদিনা

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যষ্টিমধু

আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।

Facebook Comments

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>